ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বালুচরে মিষ্টি কুমড়ার চাষজিল্লুর রহমান ম-ল পলাশ, গাইবান্ধা গাইবান্ধার ফুলছড়ির সৈয়দপুরের ব্রহ্মপুত্র নদীর বালুচরে মিষ্টি কুমড়া চাষব্রহ্মপুত্র-যমুনার চরাঞ্চলের পতিত বালুচরে মিষ্টিকুমড়া চাষ করে সাফল্যের হাসি ফুটেছে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার সাড়ে চার শতাধিক পরিবারে। তিন উপজেলার চরাঞ্চলের দরিদ্র নারী-পুরুষের উৎপাদিত ১ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন পুষ্টিকর মিষ্টিকুমড়া স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এতে অর্থনৈতিভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের শিকার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে বসবাসকারী অতিদরিদ্র এসব পরিবারের ভাগ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
উত্তরাঞ্চলভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে প্রথম ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বালুচরে পরীক্ষামূলকভাবে মিষ্টিকুমড়া চাষ শুরু করা হয়। পরীক্ষামূলক চাষে দারুণ সাফল্য আসে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে দাতা সংস্থা ইউকেএইড-ডিএফআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পিএফপি-সিঁড়ি নামে গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার সম্প্রসারিত আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
ফুলছড়ি উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের লাভলী বেগম জানান, 'জমিজমা না থাকায় কোনো ধরনের শস্য ঘরে তুলতে পারিনি। পতিত, ধু-ধু শুকনো বালুচরে ফলন পাব তা ভাবতেই পারিনি। কিন্তু চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলে বালুচরে মিষ্টিকুমড়া উৎপাদন সম্ভব এর প্রমাণ নিজেই পেয়েছি।' তার ঘরে ৩০০ পাকা মিষ্টিকুমড়া মজুদ আছে। প্রতিটি কুমড়ার ওজন ৭ থেকে ১০ কেজি। ইতোমধ্যে ৫ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রিও করেছেন। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকার কুমড়া মজুদ রয়েছে তার ঘরে।
সদর উপজেলার গিদারীর মুক্তা বেগম জানান, অনেক সম্ভাবনা রয়েছে বালুচরে কুমড়া চাষের। চার-পাঁচ মাসের মধ্যে ৫-৬ হাজার টাকা খরচ করে ২০ হাজার টাকা উপার্জন_ এটি দরিদ্র নারীদের জন্য অনেক কিছু বলেই তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
কৃষিবিদ নির্মল ব্যাপারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে চাষাবাদে পরিবর্তন আনতে হবে। এ জন্য নতুন নতুন পদ্ধতির সঙ্গে চাষাবাদে চরাঞ্চলের নারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা সমন্বয়কারী আবু সাঈদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবেলার মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের লোকজনকে বালুচরে মিষ্টিকুমড়া চাষে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ পদ্ধতির সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে তিনি জানান।
জিইউকের কৃষিবিদ সাহিদুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের দরিদ্র নারীরা বালুচরে মিষ্টিকুমড়া উৎপাদন করে কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছেন। তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করার ফলে এ অর্জন সহজ হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা জিইউকে-এর নির্বাহী প্রধান এম আবদুস সালাম জানান, প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনে গাইবান্ধায় আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। এতে জমিজমাহারা মানুষ বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করে। কিন্তু অন্যের পতিত বালুজমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করে জমিহারা পরিবারগুলো জীবনে পরিবর্তন এনেছে। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলে সবজির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ উদ্যোগ প্রথমে জিইউকে-এর মাধ্যমেই শুরু হয়। এখন বৃহত্তর রংপুরের পাঁচ জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, বালুচরে মিষ্টিকুমড়া চাষ এ জেলার দরিদ্র নারীদের উন্নয়নে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। প্রতি বছর নদীভাঙনে আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ে। মিষ্টিকুমড়া চাষ উৎপাদন ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট অবদান রাখছে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin