মাছ পরিচিতিকালিবাউশকৃষি ও সম্ভাবনা ডেস্ক কালিবাউশ গাঢ় কালো রঙের দেহসংবলিত Cypriniformes বর্গের Cyprinidae গোত্রের অন্যতম সদস্য। দেহ কালো রঙের হলেও অঙ্কর ভাগ ফ্যাকাসে। কানকার নিচের অংশ হালকা তামাটে।
নদী, হাওড়, বাঁওড়, খাল ও বিলে এরা বাস করে। বদ্ধ পানির চেয়ে স্বল্প স্রোতের পানি এদের বসবাসের জন্য বিশেষ উপযোগী। এরা সাধারণত কর্দমাক্ত তলদেশ পছন্দ করে।
এদের তু- ভোঁতা, অবনত এবং ছিদ্রযুক্ত। নাসারন্ধ্র দুই জোড়া, প্রতি জোড়ার একটি অন্যটি থেকে ঝুলন্ত পুরু চামড়া দ্বারা পৃথক। মুখ মোটামুটি প্রশস্ত। ওষ্ঠদ্বয় অধোমুখী এবং অন্তঃভাঁজ সম্পন্ন। পৃষ্ঠপাখনার কেবল সামনেই দেহের সর্বাধিক গভীরতা। ফুলকারন্ধ্র প্রশস্ত। পিঠ ও পেটের পার্শ্বদৃশ্য উত্তল। চোখ দুটোর মধ্যবর্তী স্থান সামান্য উত্তল। স্পর্শী দুই জোড়া, রোস্টাল এবং ম্যাকসিলারি। রোস্টাল ম্যাকসিলারি অপেক্ষা দীর্ঘ। পাখনা পার্শ্বলাইন অঙ্গ সম্পূর্ণ।
পৃষ্ঠপাখনার ওপরের কিনারা অবতল এবং সবচেয়ে লম্বা দ-টি দেহের উচ্চতার সামান্য ছোট। শ্রেণিপাখনা বক্ষপাখনা অপেক্ষা সামান্য ছোট এবং পাখনাটি প্রায় বক্ষপাখনা এবং পায়ুপাখনার মধ্যস্থানে অবস্থিত। পুচ্ছপাখনা গভীরভাবে দ্বিধাবিভক্ত। পায়ুপাখনা পুচ্ছপাখনার গোড়া পর্যন্ত পেঁৗছে। দেহে মাঝারি ধরনের গোলাকার অাঁশ আছে। পৃষ্ঠপাখনার সামনে ২০ সারি অাঁশ থাকে। এ মাছের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৯০ সেমি।
কালিবাউশ মাছের মুখ অধোমুখী বলে তলদেশের খাদ্য খায়। এরা রুই এবং কাতলার তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রাণিজ খাদ্য গ্রহণ করে। এদের খাদ্য শৈবাল ১০ ভাগ, আদর্শ উদ্ভিদ ৪৮ ভাগ, প্রোটোজোয়া ১২ ভাগ, ক্রাসটাসিয়া ১০ ভাগ, মলাস্ক ৫ ভাগ, কাদা এবং বালি ১৫ ভাগ। এছাড়া তলদেশের মৃত এবং পচা জৈবিক পদার্থ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পচা এবং ময়লা পদার্থ ভক্ষণে এদের দ্বারা পুকুরের পানি পরিষ্কার ও দোষমুক্ত থাকে।
বর্ষাকালে কালিবাউশ মাছ প্রজনন করে। এদের ডিম ভাসমান নয় এবং আঠালোও নয়; ব্যাস ৩-৪ মিমি; রঙ ঈষৎ নীল। এক পসলা বৃষ্টির পর পুরুষ ও স্ত্রীমাছ উভয়েই প্রজননের উদ্দেশে স্বল্প পানিতে উঠে আসে। স্ত্রীমাছ যখন ডিম ছাড়তে থাকে তখন পুরুষমাছ ডিমের ওপর শুক্র ছড়াতে শুরু করে। নিষেকের পর ডিম পানিতে ডুবে যায়। ১৫-১৬ ঘণ্টা পর ডিম ফুটতে শুরু করে এবং 'পোনা' পানির উপরিভাগে চলে আসে। কোনো কোনো মৎস্যবিদের মতে এরা রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় ৬০০ ফা: উষ্ণতায় লম্ফ প্রদর্শনে এদের ডিম ছাড়ার লক্ষণ প্রকাশ করে। ডিম ছাড়ার জন্য পানিতে অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন এবং সুবিধাজনক রাসায়নিক অবস্থা থাকার বিশেষ প্রয়োজন।
খেপলাজাল, ভেসালজাল, বাগড়িজাল, বেড়জাল, কচালজাল, ছান্দিজাল, অ্যারো ও জুতি দিয়ে কালিবাউশ ধরা হয়।

কালো বুজুরী

কালো বুজুরী Siluriformes বর্গের Siluridae গোত্রের মিঠাপানির মাছ। খাল-বিল, নদী-নালা, হাওড়-বাঁওড় এদের আবাস। বর্ষাকালে প্লাবিত ধান এবং পাট ক্ষেতেও বেশ দেখা যায়। সাধারণত এরা কর্দমাক্ত তলদেশ পছন্দ করে।
কালো বুজুরী ঈষৎ বাদামি এবং হালকা হলুদ বর্ণের। কানকার পেছনে একটি কালো দাগ আছে। দেহে ঈষৎ কালো রঙের লম্বালম্বি কয়েকটি ডোরা থাকে।
এদের ওপরের চোয়াল সামান্য লম্বা। নাসারন্ধ্র দুই জোড়া। চোখ দুটো মাথার ওপরের দিকে। মাথার মধ্যস্থিত খাঁজ অকসিপিটাল প্রসেসের গোড়া পর্যন্ত পেঁৗছে। স্পর্শী আছে চার জোড়া। ম্যাকসিলারি স্পর্শী পায়ুপাখনার গোড়া অথবা পায়ুপাখনা ছাড়িয়ে যায়। নাসিকা স্পর্শী মাথার দৈর্ঘ্যের সমান। বহিঃম্যানডিবুলার স্পর্শী বক্ষপাখনার গোড়া পর্যন্ত প্রলম্বিত। আন্তঃম্যানডিবুলার স্পর্শী বহিঃম্যানডিবুলার স্পর্শী অপেক্ষা ছোট। পার্শ্বলাইন অঙ্গ সোজা এবং সম্পূর্ণ।
পৃষ্ঠকাঁটার সামনের দিকে সামান্য অংশ করাতের দাঁতের মতো কিন্তু পেছনের দিকে সম্পূর্ণ অংশ করাতের মতো। বক্ষপাখনার কাঁটায় ৮-১০টি করাতের মতো দাঁত থাকে। পিঠের কাঁটার চেয়ে বুকের কাঁটা অধিক শক্ত। পুচ্ছপাখনা কালো বুজুরীমাছ তলদেশের খাদ্য খায় এবং সাধারণত পোকামাকড়, মলাস্কা, ক্রাসটেসিয়ান, শৈবাল, সামান্য বালি ও কাদা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
এ মাছ ধরার উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে খেপলাজাল, টানাজাল, ধর্মজাল, চাই ও বড়শি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin