logo
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

জাতীয় কৃষি দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন

নতুন ধানে নবান্ন উৎসব

আবহমান এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ দেশের জনগণ পহেলা অগ্রহায়ণ দিনটি পালন করে আসছে নবান্ন উৎসব হিসেবে। হাজারো দিবসের মধ্যে একটি দিবস নিধাির্রত হয়েছে যাতে দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০০৮ সালে আন্তজাির্তক বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মূল্য বেড়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ অথর্ দিয়েও চাল কিনতে পারেনি। প্রতিবেশী দেশ ভারত চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে টালবাহানা শুরু করে তখন আমাদের নেতাদের বোধোদয় হয়। তারা বুঝতে পারে জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কৃষিকে গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার পহেলা অগ্রহায়ণ জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বিস্তারিত লিখেছেন-কৃষিবিদ মো. আল-মামুন

নতুন ধানে নবান্ন উৎসব
কৃষি বাংলাদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে আছে। বাংলাদেশ ধানের দেশ- গানের দেশ- পাখির দেশ। তাই অগ্রহায়ণে ধান কাটার উৎসব গ্রামবাংলা তথা বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য। পহেলা অঘ্রাণ মানেই ছিল বাঙালি গেরস্থ বাড়িতে উৎসবের আমেজ। নতুন ধানের গন্ধে ম-ম উঠান বাড়ি। আবহমান এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পহেলা অগ্রহায়ণ দিনটি পালন করে আসছে এ দেশের জনগণ নবান্ন উৎসব তথা জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে। হাজারো দিবসের মধ্যে একটি দিবস নিধাির্রত হয়েছে যাতে দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০০৮ সালে আন্তজাির্তক বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মূল্য বেড়ে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ অথর্ দিয়েও চাল কিনতে পারেনি। প্রতিবেশী দেশ ভারত চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে টালবাহানা শুরু করে তখন আমাদের নেতাদের বোধোদয় হয়। তারা বুঝতে পারে জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য কৃষিকে গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তত্ত¡াবধায়ক সরকার পহেলা অগ্রহায়ণ জাতীয় কৃষি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ওই বছর সারাদেশে জেলা ও উপজেলাপযাের্য় সরকারিভাবে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। তারপর ২০০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পহেলা অগ্রহায়ণ পালিত হয় জাতীয় কৃষি দিবস।

কৃষি দিবসের প্রধান আকষর্ণ নতুন ধান কাটার উৎসব বা নবান্ন। জাতীয়ভাবে প্রতি জেলা-উপজেলায় এ দিবস উপলক্ষে কৃষি মেলার ব্যবস্থা করা হয়। কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত শ্রেষ্ঠ কৃষকদের জেলা ও উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষি যন্ত্রপতি উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করে কৃষি কাজে আরও আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ও কৃষির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোয় বণার্ঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত করে জাতীয় কৃষি দিবস। নবান্ন উৎসব হলো বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, যার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে জাগ্রত করে তোলা। নবান্ন উৎসব আবহমান বাংলার চিরায়ত প্রথা হিসেবে চলে আসছে। হাজার বছর ধরে এ দেশে অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার সময় নবান্ন উৎসব করেন চাষিরা, এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের মনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। নতুন ধানের পিঠা, মুড়ি, চিড়া, খইসহ নানা খাবারের ঘ্রাণে ভরপুর ও আনন্দ উৎসব দেখা যায় গ্রামীণ জনপদে। কালের বিবতের্ন অনেক কিছু পরিবতর্ন হলেও কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালন করতে ভুলে যাননি আজও।

বাংলার মুসলিম কৃষক সমাজ অগ্রহায়ণের প্রথম শুক্রবার থেকে নবান্ন উৎসব শুরু করে। সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃষকরা তাদের পঞ্জিকা অনুসারে ১ অগ্রহায়ণ থেকে নবান্ন উৎসব পালন করে থাকে। বাংলাদেশের পাহাড়ি জনপদেও চলে নতুন ধানের নবান্ন উৎসব। পৃথিবীর বহু দেশে অনেক আগে থেকেই জাতীয়ভাবে কৃষক দিবস পালিত হয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশে নানা কমর্সূচির মধ্যদিয়ে কৃষি দিবস পালনের রেওয়াজ আছে। আইওয়াতে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ জুলাই তিনদিনব্যাপী কৃষি দিবস পালিত হয়ে আসছে। উত্তর ক্যারেলিনায় ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট তিনদিনব্যাপী ১১ পবের্ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিমব্যালে ২৭ সেপ্টেম্বর ১৩ পবের্ উদযাপিত হয় কৃষি দিবস। আফগানিস্তানে ইংরেজি ২০ মাচর্ নওরোজ উদযাপনের দিন পালিত হয় কৃষি উৎসব। স্থানীয়ভাবে একে বলা হয় যাসনি দেহকান বা কৃষকের উৎসব।

আমাদের কৃষিক্ষেত্রে অনেক সাফল্য এলেও বতর্মানে একটি সমস্যা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছেÑ আবাদি জমির সঙ্কোচন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও বাড়তি জনসংখ্যার বসতবাড়ি নিমাের্ণ প্রতি বছর প্রায় ০.৭ শতাংশ হারে আবাদি জমি হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতি বছর জনসংখ্যা বাড়ছে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ হারে প্রায় ২৩ লাখ। ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে ক্রমবধর্মান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণের জন্য কৃষক রোদ-বৃষ্টি, শীত, প্রাকৃতিক দুযোর্গ, অভাব-অনটন, ক্ষুধাসহ হাজারো সমস্যা উপেক্ষা করে খাদ্য উৎপাদন করছেন দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জন্য। তা সত্তে¡ও জনবহুল এ দেশের সীমিত চাষের জমি, জলবায়ুর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও নানা প্রাকৃতিক দুযোের্গর কারণে টেকসই কৃষি উন্নয়নে রয়েছে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং লাভজনক কৃষি খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফসল, প্রাণিসম্পদ, মৎস্যসম্পদ, কৃষি প্রকৌশল, কৃষি অথর্নীতি এবং কৃষিশিল্প ও বাণিজ্যে যথোপযুক্ত প্রযুক্তি উদ্ভাবন, হস্তান্তর এবং উপকরণ ব্যবস্থাপনায় কৃষি বিজ্ঞানীদের রয়েছে গুরুত্বপূণর্ ভূমিকা। আগামী দিনের বধির্ত খাদ্যের চাহিদা পূরণ, পুষ্টি সমস্যা নিরসন, দারিদ্র্যবিমোচন, কমর্সংস্থান সৃষ্টি, কৃষি পণ্যের আমদানি হ্রাস ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের আওতাধীন ১৩টি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই পযর্ন্ত বিভিন্ন ফসলের সাত শতাধিক উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জিনকোড আবিষ্কারের কৃতিত্বও দেখিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বিপযর্য় তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, প্রাকৃতিক দুযোর্গ, আবহাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবতের্নর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার মতো কৃষিপ্রযুক্তি ও ফসলের জাত উদ্ভাবনে অথর্নীতির নতুন এক দিগন্ত দেখছে দেশবাসী। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অজের্নর মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বায়োটেক ও জিএম শস্যের প্রবতর্ন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আধুনিক কৃষিবিষয়ক এসব গবেষণা ও আবিষ্কারে বাংলাদেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক কৃষির এ যুগে কৃষিকে সহজ ও বেশি উৎপাদনশীল করার প্রশ্নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তজাির্তক সংস্থা কৃষি গবেষণার কাজে মনোনিবেশ করেছে। এ দেশের আপামর জনসাধারণের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় বিদ্যমান ভাত, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাক-সবজি, ফল-ফলাদি উৎপাদনে ধারাবাহিকভাবে কৃষি, কৃষক ও কৃষিবিদরা গুরুত্বপূণর্ অবদান রেখে চলেছে।

কৃষকদের শ্রম, কৃষি সম্প্রসারণবিদদের তদারকি, কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও সরকারের সদিচ্ছায় কৃষিতে রেকডর্ গড়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচগুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশগুণ। প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে রয়েছে আজেির্ন্টনা, চীন ও ব্রাজিল। আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীষর্স্থানীয় দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ মৎস্য, ধান, চা ও বø্যাক বেঙ্গল ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে চতুথর্। ফসলের জাত উৎপাদন ও সবজি আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধিতে বিশ্বে প্রথম। পাট উৎপাদনে দ্বিতীয় হলেও পাট রপ্তানিতে বিশ্বে প্রথম। এ ছাড়া আম উৎপাদনে সপ্তম এবং আলু ও পেয়ারা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। কৃষি খাত বাংলাদেশের অথর্নীতির মেরুদÐ। মোট দেশজ উৎপাদনের হিসেবে জিডিপিতে ২০১৭-১৮ অথর্বছরে কৃষি খাতের অবদান শতকরা ১৪.১০ শতাংশ এবং কমর্সংস্থানে ৪০.৬ শতাংশ। স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন, যা সাড়ে সাত কোটি মানুষের জন্য পযার্প্ত ছিল না। কিন্তু বতর্মানে ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ হিসেবে স্বীকৃত। প্রাকৃতিক দুযোর্গ ও জলবায়ু পরিবতের্নর সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার সফল অভিযোজনের ফলে এ অজর্ন সম্ভব হয়েছে। বতর্মানে প্রতি বছর ধান, গম, ভুট্টা মিলিয়ে ৪ কোটি ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে। হেক্টরপ্রতি ভুট্টা উৎপাদনে বিশ্বে গড় ৫ দশমিক ১২ টন, বাংলাদেশে এ হার ৬ দশমিক ৯৮ টন। কৃষিজাত পণ্য খাতে ২০১৭-১৮ অথর্বছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৭ কোটি ৩৭ লাখ মাকির্ন ডলার। যা বিগত বছরে একই সময়ের ৫৫ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার মাকির্ন ডলার আয়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

কৃষির সাবির্ক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। ১০ টাকায় কৃষক হিসাব উন্মুক্তকরণ, কৃষিতে ভতুির্ক, বাড়তি সেচ সুবিধা, রেকডর্ পরিমাণ কৃষিঋণ বিতরণ, সম্প্রসারিত কৃষি গবেষণা, কৃষি কাডর্ বিতরণ, কৃষক ডাটাবেজ তৈরি, কৃষি জমিতে উপকরণ আমদানিতে সহায়তা প্রদান কৃষির ব্যাপারে সরকারি সদিচ্ছার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কৃষি কলসেন্টার, সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের আইসিটি যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কৃষিবিষয়ক তথ্যাদি দ্রæত আদান-প্রদান ও সবার জন্য কৃষি তথ্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। নিরাপদ ও কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিও মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, লাভজনক, উৎপাদনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অজর্ন করার পাশাপাশি ফসলের উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি, শস্য বহুমুখীকরণ, পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করার লক্ষ্যে কৃষিনীতি ২০১৮ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মেহনতি মানুষের স্বাথর্রক্ষায় কবি নজরুল লাঙ্গলের মাধ্যমে সমস্যাজজির্রত কৃষকের পক্ষে যে দাবিগুলো পেশ করলেন, তার ঐতিহাসিক তাৎপযর্ রয়েছে। কৃষক যাতে তার উৎপন্ন ফসল থেকে উপযুক্ত মুনাফা পান, জমিতে তার কায়েমি স্বত্ব বজায় থাকে এবং জমি থেকে তাকে উচ্ছেদ করা না যায়Ñ এ জন্য দাবিগুলো আজকের দিনেও শুধু কৃষক নয়, গোটা জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্। জাতীয় কৃষি দিবস বাঙালির জনজীবনে অনাবিল আনন্দ, সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক আর কৃষকের অধিকার নিশ্চিত হোক এ প্রত্যাশা রইল।

লেখক : পিএইচডি স্কলার, ইউনিভাসিির্ট পুত্রা মালয়েশিয়া, সেলানগর
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে