logo
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  এস এম রায়হানুল নবী, সিকৃবি   ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

সিকৃবি গবেষকদের সাফল্য

ব্যবহৃত চা ও মাছের বর্জ্য থেকে হবে বায়োগ্যাস

ব্যবহৃত চা ও মাছের বর্জ্য থেকে হবে বায়োগ্যাস
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) একটি গবেষণায় জ্বালানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত চা ও মাছের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে প্রথমবারের মতো সফল হয়েছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি, শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন, শিক্ষার্থী শঙ্খরূপা দে এবং জিনাত জাহান।

ব্যবহৃত চা, মাছ ও গবাদিপশুর বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি সার হিসেবেও ব্যবহারের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে মাছ, চা ও গরুর সমন্বিত বর্জ্য হতে ৭২ মিলি. এবং ৪৫ মিলি, গরু ও চায়ের সমন্বিত বর্জ্য থেকে ৩৫ মিলি এবং গরু ও মাছের সমন্বিত বর্জ্য হতে ৬৫ মিলি বায়োগ্যাস বা মিথেন পাওয়া গেছে।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বে দিনে দিনে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা বাড়লেও পালস্না দিয়ে কমছে তার মজুত ও উৎস। তাই বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাস উন্নত বিশ্বে এখন বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্জ্য ভেদে বায়োগ্যাস থেকে ৬০-৬৫% মিথেন গ্যাস পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণ চা, মাছ ও গবাদিপশুর বর্জ্য তৈরি হয়- যা সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশের ওপর নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এই বর্জ্য পচে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস নির্গত হয়- যা গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কার্বনডাই অক্সাইডের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর। মাছের বর্জ্য, চায়ের বর্জ্য ও গোবর মিশিয়ে ৬৫ % নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব। তা ছাড়া জ্বালানি উৎপাদনের পর অপচ্য বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপন্ন হয়। ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হলে বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদু্যৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্তের সূচনা করা সম্ভব হবে। এটিও আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে বলে আমি মনে করি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে