logo
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৬

  ডা. মোহাম্মদ ফজলুল করিম   ২৬ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

কোভিড-১৯ এবং আমাদের স্বাস্থ্যচিন্তা

স্বাস্থ্যের সংজ্ঞার মধ্যেই আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের স্বরূপটি অন্তর্নিহিত। স্বাস্থ্য হচ্ছে শারীরিক রোগ থেকে মুক্তি। যাতে দৈহিক স্বাচ্ছন্দ্য অর্জিত হয়। স্বাস্থ্য হচ্ছে আবেগ স্তরে আবেগের আতিশয্য থেকে মুক্তি, যাতে দেহ ও মনের মধ্যে এক অনাবিল ধীরতা ও প্রশান্তি অর্জিত। স্বাস্থ্য মানসিক স্তরে স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি- যার ফলশ্রম্নতিতে চিরসত্যের প্রতি পূর্ণ মিলন ঘটে।

কোভিড-১৯ এবং আমাদের স্বাস্থ্যচিন্তা
করোনাভাইরাস সংক্রমণ সমগ্র বিশ্বে মহামারি আকারে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রামক মহামারি যুগে যুগে অনেকবার পৃথিবীতে এসেছে। তবে এবারের মহামারি এ যাবতকাল পৃথিবী আর কখনো দেখেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) যেমন প্রয়োজন তেমনি নিজেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষার জন্যও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য উপকরণ অপরিহার্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্যের সংজ্ঞায় চতুর্থ পরিসীমায় অন্তর্ভুক্ত করলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য হিসেবে কোনো দিবস ঘোষিত হয়নি। বিশ্বের সব উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থাসহ সারা বিশ্ব ব্যবস্থাকে জেনেটিক পরিবর্তিত কোভিড-১৯ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে আধ্যাত্মিক সচেতন একজন চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মঈন উদ্দিন করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতু্যবরণ করেন। দেশ রাষ্ট্র তাকে কি সম্মান দেবে জানি না। তবে আলস্নাহতালা কোরআনে ঘোষণা করেন, উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ছাড়া আর কি হতে পারে? (সূরা- আররহমান : আয়াত- ৬০)।

বর্তমান উন্নত বিশ্বে যোগাযোগ ও চিকিৎসা ব্যবস্থায়, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও তথ্য প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। অপরদিকে মানুষের মধ্যে জাতিগত বিভেদ, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মধ্যে যে পাহাড়সম প্রাচীর সৃষ্টি করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছে- যা আমাদের স্বপ্নের পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। ক্রমাগতভাবে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার অপরাধ প্রবণতা হত্যা বা আত্মহত্যা বিভিন্ন তুচ্ছ কারণে ঘটে থাকে। উন্নত ও অনুন্নত সব দেশে সমাজের ভিত্তি ভেঙে পড়ার উপক্রম। মানুষের মধ্যে ধৈর্য, দয়ামায়া, মানবতাবোধ একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। করোনাকালে এসব সঙ্কট আরো তীব্র হচ্ছে।

বস্তুগত উন্নতি যত হচ্ছে মানুষের মধ্যে ততবেশি অস্থিরতা, পীড়ন ও হতাশা উদ্বেগ বাড়ছে। ইদানীং বিশ্বে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে নির্বিচারে হত্যা ও দেশান্তরী করা এখন শক্তিশালী দেশগুলোর এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। এদের আর্তনাদ আহাজারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা কোনো দেশ এর সমাধানে এগিয়ে আসছে না।

পৃথিবীর একেকটি ইকোসিস্টেমে লক্ষাধিক উদ্ভিদ, প্রাণী প্রজাতি অণুজীব সহঅবস্থানে বসবাস করে। এদের মধ্যে একটি অপূর্ব শৃঙ্খলা দেখা যায়। কেউ কাউকে সমূলে ধ্বংস করে না। এটাকে বলা হয়, জীববৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। মানুষ একটি উন্নত বুদ্ধিমান প্রাণী প্রজাতি। অথচ এদের সহঅবস্থানের মধ্যে কোনো ঐক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। সে জন্য কোনো এক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি বলেছিলেন, যতই আমি মানুষকে দেখি ততই কুকুরের প্রতি সম্মান বেড়ে যায়।

পৃথিবীর কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যখন বর্তমান বিশ্বের এই ক্রমবর্ধমান সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে পারছে না তখন আলস্নাহতালা নিজেই এই ডাকে সাড়া দেন। আলস্নাহ মজলুম জনগোষ্ঠীর আর্তনাদ কোরআনের এই আয়াতে বলেন- আর তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আলস্নাহর পথে যুদ্ধ কর না। অথচ অসহায় নর-নারী ও শিশুরা ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের প্রতিপালক এ জনপদ থেকে আপনি আমাদের উদ্ধার করুন যার অধিবাসীরা অত্যাচারী, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন অভিভাবক নিযুক্ত করুন, আর আপনার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত করুন। (সূরা-নিসা : আয়াত- ৭৫)।

আলস্নাহর গুণবাচক নামের মধ্যে ২টি হচ্ছে- তিনি প্রবল শক্তিপ্রয়োগ সংশোধনকারী ও মহারক্ষক। অন্য একটি আয়াতে আলস্নাহ বলেন, আর আমি তাদের সময় দিয়ে থাকি, নিশ্চয় আমার কৌশল অত্যন্ত শক্ত; (সূরা- আল কলম : আয়াত-৪৫)।

করোনা মহামারি দিয়ে আমাদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। পরে আমরা দেখতে পাব কি ধরনের বিশ্ব নেতৃত্ব আমাদের আসে।

ভ্রূণতত্ত্বেও আধুনিক জ্ঞানের মাধ্যমে জানা যায়- মানবদেহ একটি টিউব থেকে ক্রমবিকাশ ঘটে। টিউবটি ৫টি স্তরে বিভক্ত। স্থূলদেহ, প্রাণসত্তা, কেন্দ্রীয় অক্ষ, মন ও আত্মা। এই প্রাণসত্তা ভালো ও মন্দের প্রতি আকৃষ্ট হয়। ভালো ও মন্দের কাজগুলোকে মন কার্যকারী করে। মনকে ভাগ করা হয়েছে ৩টি ধারণা সংক্রান্ত উপস্তরে। সৃষ্টিকর্তার সচেতনতার স্তর, আত্মসচেতনতা স্তর, জড়বাদী স্তর।

অনুক্রমিকভাবে সুস্থ মনের অত্যাবশ্যকীয় গুণাবলি : স্পষ্টতা, বুদ্ধিমত্তা, সংলগ্নতা যুক্তিসংগত অনুক্রম ও সৃজনশীল কর্ম। সৃজনশীল কর্মই স্বাস্থ্যের একটি এমন গুণাবলি- যা অনুপস্থিত থাকলে তাকে সুস্থ মনের অধিকারী বলা যাবে না।

স্বাস্থ্যের সংজ্ঞার মধ্যেই আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের স্বরূপটি অন্তর্নিহিত। স্বাস্থ্য হচ্ছে শারীরিক রোগ থেকে মুক্তি। যাতে দৈহিক স্বাচ্ছন্দ্য অর্জিত হয়। স্বাস্থ্য হচ্ছে আবেগ স্তরে আবেগের আতিশয্য থেকে মুক্তি, যাতে দেহ ও মনের মধ্যে এক অনাবিল ধীরতা ও প্রশান্তি অর্জিত। স্বাস্থ্য মানসিক স্তরে স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি- যার ফলশ্রম্নতিতে চিরসত্যের প্রতি পূর্ণ মিলন ঘটে।

অনেক মনীষী বলেন, আলস্নাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আংশিক বুদ্ধি স্তরে এবং আংশিক আবেগ স্তরে। মানুষ বুদ্ধি স্তরে ও আবেগ স্তরে বিশুদ্ধ হলে- যে কোনো কঠিন সমস্যায় সঠিক সত্যকে উপলব্ধি করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।

আধ্যাত্মিক আলো মানুষিক এবং প্রাকৃতিক আলো থেকে ভিন্ন। মানুষিক এবং প্রাকৃতিক আলো ইন্দ্রিয়ের জগতকে দেখতে সাহায্য করে। অন্তর্দৃষ্টির সম্পর্ক- আত্মার (রুহ) সঙ্গে, বোধশক্তির সম্পর্ক মেধার (বুদ্ধির) সঙ্গে এবং অগ্রগতি ও পশ্চাতগতি দুটির সম্পর্ক হৃদয়ের (আবেগ) সঙ্গে। হৃদয়ের যে আলো পুঞ্জীভূত হয়- তা মহাবিশ্ব জগতের ভান্ডার থেকে সেগুলো নেমে আসে। চার্জবিহীন মোবাইলে কোনো মেসেজ যেমন আসে না তেমনি আধ্যাত্মিক চেতনাবিহীন মন কখনো মহাজগত থেকে কোনো মেসেজ পায় না।

জীবদেহ কোনো কোষকলার বিরুদ্ধে (অতি আণবিক স্তরের নিচে) শত্রম্নর (এন্টিবডি) জন্ম দিয়ে সেই শত্রম্নর আক্রমণে অসংখ্য দুঃসাধ্য রোগের জন্ম দেয়। এদের অটোইমিউন রোগ বলে। অটোইমিউন রোগের অনেক কারণের মধ্যে বিপদগামী মন বা কলুষিত মনকেও সমানভাবে দায়ী করা হয়। ভারতে সরেজমিন একটি সমীক্ষায় উলেস্নখ করা হয় যে, ৬৫.৬৫% চিকিৎসক আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য গভীরভাবে বিশ্বাস করেন এবং ৫৫.৩৩% আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

আমার প্রস্তাবিত একটি আবেদন বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১১ জাতিসংঘ বাংলাদেশ দূতাবাসে ১০ এপ্রিলকে বিশ্ব আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রেরণ করা হয়। এই বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি কি হয়েছে জানার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গমন করি।

এই মন্ত্রণালয় একজন সম্মানিত পরিচালক আমাকে বললেন, এই দিবসটি পালন করলে আর্থ-সামাজিক উন্নতি কী হবে। আমি তাকে বললাম, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ ব্যক্তি কখনো দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না, তেমনি দুর্নীতির দুষ্টচক্রে আবদ্ধ ব্যক্তি কখনো দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের দ্বারা কোনো কর্মকান্ডে দুর্নীতি হবে না এবং সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতা থাকবে।

ঢাকায় ২০১৪-তে 'বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি'র উদ্যোগে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন মরহুম জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ৪ ধর্মের ৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 'বিশ্ব আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য দিবস' শীর্ষক সেমিনারে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এই দিবসের গুরুত্ব সব ব্যক্তি সেমিনারে উপস্থাপন করেন।

আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য পরিমাপক মানদন্ডকে শনাক্ত করার জন্য ৬টি কাঠামো শনাক্ত করা হয়েছে। জীবনের শতভাগ পরিশুদ্ধির জন্য একটি ব্যাপক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও চর্চা, নিজের ভেতর থেকে আত্মসমৃদ্ধির দিকে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার চেতনাবোধ, জীবনের গভীরতম উদ্দেশ্য নিয়ে সর্বক্ষণ দৃষ্টিরাখা, জাগতিক আকর্ষণের ঊর্ধ্বে উঠে জীবনের মূল্যবোধকে অসীম সার্বজনীন ভালোবাসায় আত্মসমর্পণ করা সবকিছুতেই শর্তহীন ভালোবাসা এবং সব ধরনের ঈর্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে সর্বশক্তিমানের অংশ হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করা, এমন একটি চেতনাবোধ- যা নিজেকে অখন্ডের মধ্যে একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা।

একটি পরিশুদ্ধ সুন্দর জীবন গঠন প্রক্রিয়া শুধু চেতনার নাম নয়। এর একটি রোড ম্যাপ রয়েছে কিন্তু এর শেষ সীমা নেই। কোরআনে বর্ণিত রোডম্যাপটি যেটা নবীরা, সিদ্দীকরা, শহিদরা ও সৎকর্মপরায়ণরা অনুসরণ করেছেন। এই রোড ম্যাপটির অনুক্রম হচ্ছে ইমান, ইসলাম, তাকওয়া, সৎকর্ম। এই মান অর্জনে সর্বাত্মক চেষ্টা আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য একমাত্র মাপকাঠি। ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট্র গঠন বিনির্মাণে আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যে শতভাগ অর্জন করার চেষ্টা করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ক্রমবর্ধমান সীমাহীন অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, পাপাচার, বিচারহীনতা মুক্ত দেশ গঠনে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য অর্জন অপরিহার্য।

আলস্নাহ কোরআনে বলেন, যদি জনপদের লোকরা ইমান আনত এবং তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর বরকতসমূহের দুয়ার খুলে দিতাম। কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। (সূরা- আরাফ : আয়াত- ৯৬)।

আলস্নাহ সমগ্র কোরআনের মূল সারাংশ ৩টি আয়াতে মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য পেশ করেছেন। কালের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তারা নয়, যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে; (সূরা- আসর : আয়াত - ১০৩)।

মানবজাতির পরিত্রাণের জন্য বিশ্ব আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য দিবস সবচেয়ে মূল্যবান ও মর্যাদাবান দিবস হিসেবে বিবেচিত হবে। ১০ এপ্রিলকে বিশ্ব আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে