logo
  • Wed, 14 Nov, 2018

  আতিউর রহমান   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

সবুজ অথর্নীতিই আগামীর অথর্নীতি

বিশেষ সহায়ক ভ‚মিকা পালন করতে পারে ব্যাংক

সবুজ অথর্নীতিই আগামীর অথর্নীতি
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ : শিবশংকর দেবনাথ
হালে পৃথিবীব্যাপী সবুজ অথর্নীতির জনপ্রিয়তা এবং অগ্রাধিকার দুই বাড়ছে। টেকসই পৃথিবী আর সময়ের প্রয়োজনে গতানুগতিক অথর্নীতির প্রভাবশালী এক বিকল্প মডেল হিসেবে সবুজ অথর্নীতির ভিত ক্রমেই মজবুত হচ্ছে। সবুজ অথর্নীতি সামাজিক, অথৈর্নতিক অসমতা দূর করে, দারিদ্র্য কমায় এবং বজর্্য ব্যবস্থাপনায় পৃষ্ঠপোষকতা জোগায়। সম্পদের অভাব দূর করতেও সবুজ অথর্নীতি ক্রিয়াশীল। এ ছাড়াও পরিবেশের বিস্তৃত ঝুঁকি কমায় এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে। মানুষের কল্যাণ আর টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী এক পাটাতন সবুজ অথর্নীতি। স্বভাবতই সারাবিশ্বেরই মনোযোগ বাড়ছে সবুজ অথর্নীতি বিষয়ে। একই সঙ্গে এর আগ্রহ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও চলছে গবেষণা।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থার (ইউএন এনভায়রনমেন্ট) তথ্য মতে-অন্তভুির্ক্তমূলক সবুজ অথার্য়ন এমন এক ব্যবস্থা, যা পরিবেশের ঝুঁকি কমায়, জনকল্যাণ বাড়ায়, অভাব কমায় এবং সামাজিক সমতা গড়ে তোলে। ২০০৮ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা ‘গ্রীণ ইকোনমি ইনিশিয়েটিভ (জিইআই)’ নামে শুরু করে সবুজ অথর্নীতি কমর্সূচি। যার উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ-বান্ধব বিনিয়োগে সমথর্ন জোরালো করা। বৈশ্বিক ঝঁু কি গবেষণায় দেশীয় পযাের্য় সাহায্য বাড়ানো, সবুজ অথর্নীতি কমর্সূচি সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নীতি-নিধার্রকদের প্রভাবিত করা ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

সাধারণত একটি দেশের আথির্ক খাত সেদেশের অথৈর্নতিক প্রবৃদ্ধির পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। সুতরাং যথাযথ প্রস্তুতি ও আন্তরিকতা নিয়ে খাতটির কাযর্ক্রম চালানো হলে সবুজ অথর্নীতির বিকাশ ঘটাতে পারে বাংলাদেশের আরেক উন্নয়ন বিস্ময়। সবুজ অথার্য়ন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, পরিবার থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা এবং সরকারি কতৃর্পক্ষের মধ্যে নানা রকম পরিসেবার বিন্যাস ঘটিয়ে বাস্তব অথর্নীতির সেবা দান করা। অথর্নীতিতে স্বল্প মেয়াদ থেকে দীঘের্ময়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারতা জোরদার করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান হিসেবে সবুজ অথর্নীতি বিকাশে উদ্ভাবনমূলক অথার্য়ন কৌশল নিমাের্ণ আমি স্বদেশে ও বিদেশে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আর সে কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি কৌশলে টেকসই উন্নয়ন ধারণা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আথির্ক ও প্রকৃত খাতের ঐতিহাসিক যোগসূত্র এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। এর ফলে অন্তভুির্ক্তমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈশ্বিক মানচিত্রের সীমানা স্পশর্ করার সুযোগ বাড়ছে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা আথির্ক ব্যবস্থায় নতুন চাহিদা তৈরি করছে। এই চাহিদা একসেট ট্রান্সমিশন চ্যানেলের মাধ্যমে আবতির্ত হচ্ছে। ব্যাপকমাত্রায় দ্রæত পরিবতির্ত হয়ে স্পশর্কাতর এই চ্যানেল পরিবেশ ও সামাজিক ক্ষেত্রের মূলস্রোতে ঘুরেফিরে আসছে। সঙ্গে রয়েছে নীতিমালা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাপূণর্ বাজারের নেতৃত্ব। মানুষ, প্রকৃতি ও অথর্নীতি একসূতোয় গেঁথে যাচ্ছে এই নয়া ভাবনায়। আর এই নয়া ভাবনাই সবুজ অথর্নীতির পক্ষে জোরালো দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে ইতিবাচক ভ‚মিকা পালন করছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে? এ ক্ষেত্রে পঁাচটি দৃষ্টিভঙ্গির কথা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বলা যায়। প্রথমতঃ মূলধন পুনঃসংস্থানের প্রচেষ্টাপূণর্ আথির্ক ব্যবস্থার মাধ্যমে (যেমন নিয়ন্ত্রক ও প্রধান কারবারি) পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের পক্ষে মূলধন জোগান দেয়া। যেমন, টেকসই লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে এগিয়ে আসা বা এ কাজে নিয়োজিত উদ্যোক্তা-প্রতিষ্ঠানকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া। দ্বিতীয়তঃ সব ধরনের ব্যবসায়ী উদ্যোগের পরিবেশগত সামাজিক ঝঁু কি ব্যবস্থাপনা নিণর্য় করে এগিয়ে যাওয়া। আথির্ক সম্পদ এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের অবক্ষয় থেকে উদ্ভুত ঝঁুকি নিরসনে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। এজন্য আথির্ক নীতি কৌশল নিধার্রক রেগুলেশনের ওপর প্রাধান্য দিতে হবে। ক্ষয়িষ্ণু পরিবেশ অথর্-সম্পদ এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ঝঁুকি তৈরি করে। এই ঝুঁকির পরিধি বুঝতে তাই উদ্যোক্তা, রেগুলেটর ও অন্যদের মনোযোগী হতে হবে। তৈরি করতে হবে প্রয়োজনীয় আথির্ক নীতি-বিধান। বিপযের্য়র ঝুঁকি থেকে উত্তরণে আথির্ক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। তৃতীয়তঃ পরিবেশগত, সামাজিক এবং সুশাসন সংশ্লিষ্টদের বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পকর্ বোঝানো ও স্বীকার করানোর কাজ করা আথির্ক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। এসব কাজে বাধা-বিপত্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাদানসমূহ আথির্ক প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় আনা দরকার। এক্ষেত্রে আথির্ক খাতের রেগুলেটরের ভ‚মিকা খুবই গুরুত্বপূণর্। চতুথর্তঃ প্রতিবেদন এবং প্রকাশনা। টেকসই আথির্ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রাহক এবং নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে পারস্পরিক রিপোটির্ং বাড়ানো প্রয়োজন। ‘ডিসক্লোজার’ পযার্প্ত হলেই ভোক্তার পক্ষে সঠিকভাবে আথির্ক পণ্য নিবার্চন সহজতর হবে। বাস্তব অথর্নীতি এবং আথির্ক ব্যবস্থার মধ্যে কাযর্কর সেতু হিসেবে কাজ করে এই রিপোটির্ং। এই রিপোটির্ং কাক্সিক্ষত তথ্যপ্রবাহের উন্নয়ন ঘটায়। সবশেষে যে বিষয়টি মোটেও কম গুরুত্বপূণর্ নয় তা হলো-গোটা অথর্ব্যবস্থাকে টেকসই উপায়ে সাজানোর জন্য দরকার কৌশলগত পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনা হতে পারে স্বল্প, মধ্যম ও দীঘের্ময়াদি। এক্ষেত্রে পথনিদের্শনার জন্য রোডম্যাপ থাকাও জরুরি। ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অনেক দেশ এমন পথ-নক্সা এরই মধ্যে তৈরি করেছে। আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সামাজিক, পরিবেশগত ও পরিচালনা ঝুঁকি বিষয়ে নীতিমালা চালু করেছে। তবে আথির্ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ঝুঁকির পরিমাপ ও তার আলোকেই কাযর্ক্রম পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট রেগুলেটরি চাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

নিঃসন্দেহে সবুজ অথার্য়নের উন্নয়নে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে ব্যাংক। এর প্রথম কারণ হলো, ব্যবসায়-উদ্যোগ পরিচালনার জন্য অথের্র জোগান দেয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে ব্যাংক তার গ্রাহকদের সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহার, বাস্তবায়ন ও নীতি-কৌশল নিয়ে জোরালোভাবে প্রেরণা জোগাতে পারে এবং সেই প্রযুক্তির জন্য অথর্ জোগান দিতে পারে। সেই অথর্ ঠিকমতো কাজে লাগানো হচ্ছে কি না তার দেখভালও করতে পারে। এইভাবেই ব্যাংক এবং তার গ্রাহকদের মিথস্ক্রিয়ায় অজির্ত হতে পারে সবুজ প্রবৃদ্ধি। এসব কারণে সবুজ প্রবৃদ্ধি অজের্ন সরাসরি জড়িত থাকতে পারে ব্যাংক। আর যেহেতু ব্যবসা ক্ষেত্রের যাবতীয় তথ্যসূত্র থাকে ব্যাংকের কাছে, তাই অতি ক্ষুদ্র পযাের্য়ও কী হচ্ছে ব্যাংক তা অবহিত থাকে। সেজন্যে সবুজ প্রবৃদ্ধি অজের্ন ভালো নীতি-উপদেশ দিতে পারে একমাত্র ব্যাংকের কমর্কতার্রাই। এরপর ৩৪ পৃষ্ঠায়

সবুজ প্রবৃদ্ধিসংক্রান্ত কাজে ব্যাংকের অপরাপর গ্রাহক কে কী করছেন এ বিষয়ে ব্যাংক তার গ্রাহকদের তথ্যসেবা দিয়ে অবহিত ও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সবুজ উদ্যোগে অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য-জ্ঞান বিনিময়ের কাজও করতে পারে ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সবুজ প্রবৃদ্ধি অজর্ন কাযর্কর করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উন্নয়নমূলক গুরুত্বপূণর্ ভ‚মিকা পালন করতে পারে। সবুজ প্রবৃদ্ধি অজের্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের সক্ষমতা জোরদারে কাজ করতে পারে। যেমন পুনঃঅথার্য়ন সুযোগ সৃষ্টি করা। মানবিক চেতনার মধ্য দিয়ে আথির্ক ক্ষেত্রকে সবুজ অথার্য়নে আগ্রহী করে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সবুজ প্রবৃদ্ধি অজের্নর জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক যথাযথ কাজ করছে কী না সেসব তথ্যের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিব্যবস্থা কাযর্কর করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়াও সক্রিয় সবুজ ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্ভূত সমস্যা ও তথ্যগুলোর নীতিমালা তৈরির কাজ নিশ্চিত করতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে পুঁজিবাজার ও বীমা বাজারও সবুজ অথার্য়নের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে পারে। উন্নত বিশ্বে জলবায়ু পরিবতের্নর ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে পুঁজিবাজার ও বীমা বাজারের তথ্য প্রকাশ ও প্রণোদনা প্রদানে বড় মাপের সংস্কার কমর্সূচি হাতে নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ইংল্যান্ড বীমা বাজারকে সবুজ করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বতর্মানে জলবায়ু পরিবতের্নর ঝুঁকি বীমা বাজারের মূলস্রোতে ঢুকে পড়েছে। আর সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাতে ওই দেশের বীমাখাত দিনে দিনে পারদশীর্ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশে সবুজ অথার্য়ন এবং আথির্ক অন্তভুর্র্ক্তির (বতর্মান সরকারের জোরালো সমথের্নর কারণে) ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উন্নয়নমূলক ভূমিকার কারণে সবুজ অথার্য়নে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে গৌরবময় আসনে স্থান করে নিয়েছে। এই অভিযাত্রাকে টেকসই করার স্বাথের্ই বাংলাদেশ ব্যাংককে সদা সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল বিশ্ব আথির্ক মন্দার গোলমেলে পরিবেশের মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি সবুজ অথার্য়নসহায়ক রেগুলেটর হিসেবে দঁাড় করাবার। একই সঙ্গে জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা ইউনেপের টেকসই অথার্য়নবিষয়ক উপদেষ্টামÐলির সদস্য হিসেবেও আমি বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে বিশ্ব পরিমÐলে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সবুজ পণ্য উৎপাদনের পুনঃঅথার্য়ন কমর্সূচি চালু করেছে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅথার্য়নে প্রায় দ্বিগুণ মূলধন (৪৭৮ মিলিয়ন টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২০ মিলিয়ন টাকা) জোগান দিয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় সবোর্চ্চ পরিমাণে ঋণ গ্রহণকারী ক্ষেত্রগুলো হচ্ছেÑপরিবেশবান্ধব ইটের ভাটা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি এবং তরল বজর্্য ব্যবস্থাপনা। এ জন্য পরিবেশ ও সামাজিক ঝঁুকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালার মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত কাবর্ন মনো-অক্সাইড উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের অথের্জাগানে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সেসব কাটিয়ে ওঠার জন্য সবুজ অথার্য়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্যে ঋণ প্রস্তাবনার শুরুতে উদ্যোক্তার পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয় খতিয়ে দেখার বিধান প্রবতর্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সবুজ বিনিয়োগ বা সবুজ অথার্য়নের উদ্যোগকে দৃঢ় সমথর্ন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন (সৌরবিদ্যুৎ), জ্বালানি সাশ্রয়ী দক্ষতার অভিযোজন (যেমন-এলইডি বা লাইট ইমিটেটিং ডায়োড সংযোজন), কারখানায় ন্যূনতম বজর্্য উৎপাদনের অনুশীলন, সূযের্র আলো বেশি করে ব্যবহার ইত্যাদি। সবুজ পুনঃঅথার্য়ন চালু রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গঠন করেছে ‘বিশেষ তহবিল’। বহিরাগত উন্নয়ন সহযোগীরাও এই তহবিলের অংশীদার (যেমন এডিবি ও বিশ্বব্যাংক)। এভাবে পুনঃঅথার্য়নের মাধ্যমে পরিচালিত সবুজ প্রকল্পগুলো হচ্ছে পারিবারিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌর বিদ্যুতের ক্ষুদ্র কেন্দ্র স্থাপন, সৌরবিদ্যুতচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রবতর্ন, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল সংযোজন, জৈব জ্বালানি, বায়োগ্যাস ও ইটিপি বজর্্য ব্যবস্থাপনা। ইটভাটায় পরিবেশ দূষণকারী কাঠ ব্যবহার বা পরিবেশ বিধ্বংসী ইটপোড়ানোর পরিবতের্ জ্বালানিসাশ্রয়ী বিকল্প উপায়ে ইট পোড়ানো, জৈব সার উৎপাদন, ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, পুরনো প্লাস্টিক বোতল পুনঃব্যবহার, সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি রিসাইক্লিং, লাইট ইমিটেটিং ডায়োড বা এলইডি বাতি, এলইডি মনিটর উৎপাদন এবং সবুজ গামের্ন্টস কারখানা ও বাড়ি নিমাের্ণর মতো নানামুখী অধর্শতাধিক সবুজ পণ্যের বিনিয়োগের উদ্যোগ কাযর্কর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতকে কাগজবিহীন ও আধুনিক করে তোলার জন্য লেনদেন ও নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপক ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে যা চ‚ড়ান্ত অথের্ একটি সবুজ উদ্যোগই। অথর্নীতির চাকাকে সবুজ করার জন্য দুশো কোটি টাকার রিভলভিং সবুজ পুনঃঅথার্য়ন তহবিল রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। যা দিয়ে প্রাথমিকভাবে রপ্তানি শিল্প যেমন, তৈরি পোশাক, চামড়া ইত্যাদিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালিত চৌকস পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিশ কোটি ডলার মূল্যের সবুজ রূপান্তর তহবিল। এটি আমাদের নিজস্ব রিজাভর্ থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া, বিশ্বব্যাংক ও জাইকাও সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য অথর্ যেগানে এগিয়ে এসেছে। এসব সবুজ অথার্য়ন কমর্সূচির যথাথর্ বাস্তবায়ন করা গেলে নিশ্চয় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জন্য (যেমন, সবুজ টেক্সটাইল পণ্য, চামড়া) বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নয়া সবুজ ব্র্যান্ডিং-এর উৎসও হয়ে উঠতে পারবে। সবুজ অথার্য়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তা সত্তে¡ও স্বীকার করতে হবে আমাদের সামনে রয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ। যেমন, সীমিত সম্পদ, চাহিদার অপ্রতুলতা, দক্ষতার অভাব, উচ্চ ঝঁুকি গ্রহণ, অধিক ব্যয় ইত্যাদি। এছাড়াও বতর্মান পুঁজি বাজারের পরিবেশ এই সবুজ ব্যাংকিংয়ের অনুক‚লে নেই। এ ক্ষেত্রেও সবুজ অথার্য়নের সূচনার কথা বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোকে সবুজ করার জন্য সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারে পুঁজিবাজারের রেগুলেটর। রাজস্ব নীতিতে সে জন্যে যথেষ্ট সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

জলবায়ু পরিবতের্নর ঝুঁকি মোকাবেলায় আথির্ক খাতের ভূমিকা, নীতি-পলিসি তৈরির প্রেক্ষাপটসমূহ নজীরবিহীন মনোযোগ আকষর্ণ করেছে গোটা বিশ্বে। সুবজ অথার্য়ন বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের নীতি-নিধার্রকগণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে একযোগে কাজ শুরু করেছে। চীনের কথাই ধরা যাক। দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে উচ্চাভিলাষী সবুজ অথার্য়নের উদ্যোগ নিয়েছে সেদেশের সরকার। চীনের গৃহিত নানাবিধ উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে পুরোমাত্রায় কাজ করে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নেদারল্যান্ড সরকার ব্যাংক-বীমা খাতের পাশাপাশি দেশটির পেনশন শিল্পের টেকসই অথার্য়ন আলোচনা জাতীয় কৌশলের অন্তভুর্ক্ত করেছে। জলবায়ূ ঝঁুকি সম্পকির্ত বিআইএস টাস্কফোসের্র কাজের জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভনর্রকে প্রধান করে আথির্ক স্থিতিশীলতা বোডর্ গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া আগেই জানিয়েছি, জলবায়ু পরিবতর্ন ও সমন্বিত ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ঐ দেশের বীমাখাতের রূপান্তর ঘটিয়েছে। এভাবে উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্রহণ করছে সবুজ অথার্য়ন কৌশল। কেনিয়ার কথা উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে। কেনিয়া এখন ডিজিটাল অথার্য়নে গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অবশ্যি, বাংলাদেশও কম যায় না। ক্রমবধর্মান জলবায়ূ ঝুঁকি বিষয়টি মনে রেখে তারা উদ্ভাবনীমূলক সবুজ ডিজিটাল অথার্য়নের জন্য মোবাইল পেমেন্ট প্লাটফমের্ অ্যাপস যুক্ত করে সবুজ অথার্য়নের ধারণা সুকৌশলে কাজে লাগিয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ করছে। ‘নেট মিটারিং’ এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুত জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে। ব্যবহার করছে বøকচেইন, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো আধুনিক ডিজিটাল সবুজ লেনদেন মাধ্যম। বিশ্বের প্রথম টেকসই অথার্য়ন রোডম্যাপ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আথির্ক রেগুলেটরি অথরিটি। ব্রাজিলের প্রভাবশালী ‘ব্যাংকার এসোসিয়েশন’ সেদেশের ব্যাংকিং সম্প্রদায়কে সবুজ অথার্য়নে একীভূত করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। অথচ আমাদের দেশের ব্যাংকের মালিকরা সবুজের বদলে উল্টো কাজেই মনে হয় বেশি আগ্রহী ।

সবুজ অথার্য়নে আমাদের বাংলাদেশের প্রচেষ্টা, উদ্যোগ, সফলতা এবং অজর্ন সম্পকের্ আলোকপাত করার আগে একথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে,আমাদের এখনো অনেকদূর পথচলা বাকি রয়েছে। বাংলাদেশে সবুজ অথার্য়ন একটি সূচনা মাত্র। গন্তব্য নয়। আথির্ক খাতের সবুজায়ন প্রক্রিয়া বাড়ানোর কাজে দেশের শীষর্ নীতি-কৌশল প্রণেতাদের অংশ গ্রহণ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিকরণ, নিরীক্ষায়ন ও বাস্তবায়নের পথে আমাদের আরও অনেক কিছুই করার আছে। সবুজ অথার্য়নের জন্য নিবেদিত একটি ‘উইং’ অথর্মন্ত্রনালয়ের অধীনে কাজ করতে পারে। সবুজ অথর্নীতির স্বাথের্ মুদ্রা ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়ের জন্যেই এমন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যাদের কাজ হবে সুবজ অথার্য়নে উচ্চতর নীতি কাঠামো প্রণয়ন ও ধারাবাহিকভাবে তার উন্নয়ন করা। দেশের বৃহৎ আথির্ক কমর্কাÐের সঙ্গে সমন্বয় করে সবুজ অথার্য়ন বাড়ানোর কাজে তারা নিবেদিত থাকবেন। তবে এ ধরণের যে কোন প্রক্রিয়ায় বেসরকারী খাতকে তাদের স্থান ছেড়ে দিতে হবে। তাহলেই আমাদের চাহিদা তাড়িত সমস্যার চিহ্নিত সমাধান আমাদের হাতে চলে আসবে। সবুজ প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারী খাতের অথর্ তহবিল, বন্ড মাকের্ট ও পটুজি বাজারের ‘লেভারেজ’ বা কমর্কাÐ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেন্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা এক্ষেত্রে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রনোদনা দিয়ে এগিয়ে নিতে পারে। যেমন- যেসব ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান সবুজ অথার্য়নে মনোযোগী হয়েছে তাদের তালিকা প্রকাশ এবং যথাযথভাবে ‘ক্যামেলস রেটিং’ এর মাধ্যমে পুরস্কৃত করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শীষর্ ১০ ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠান সবুজ ব্যাংকিং এর জন্য প্রতিবছর পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে সবুজ অথার্য়নে ব্যাংক ও আথির্ক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ এবং সুনাম দুইই বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে, বিশেষ করে মশলা ফসল উৎপাদন ও গবাদী পশু পালনের ভতূর্কী ঋণের সহায়তা নিশ্চিত করে নয়া মডেল সৃষ্টি করেছে। মডেলটি সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্যেও অনুসরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সবুজ আথির্ক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রবতর্ন করেছে সিএসআর। বতর্মানে সিএসআর এর ১০ শতাংশ ব্যায়িত হচ্ছে সবুজ অথার্য়নের উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবতের্নর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্যে এই তহবিল ব্যয় করার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এই অনুপাত ২৫ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। সামাজিক উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে সহযোগিতা পাচ্ছে। নয়া উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতা করে এই তহবিল থেকে সহযোগিতা নিচ্ছেন। সবুজ অথার্য়ন কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নতুন উদ্ভাবনী ক্ষেত্র সমুহের এগিয়ে আসার আরো প্রেরণা জোগাতে হবে। পারিবারিক পযাের্য়র ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উদ্যোক্তা থেকে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ কিনে ‘নেট মিটারিং’ এর মাধ্যমে অফগ্রীড লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলার কাজ অনেকটাই সম্ভব করা যেতে পারে। আমাদের সরকারী-বেসরকারী বিদ্যুৎ কোম্পানীগুলোকে এ বিষয়ে উৎসাহী করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে সবুজ উদ্ভাবনী কাজে সহযোগিতা করা হলে নিজেদের উৎপাদিত জ্বালানি ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে বিক্রি করতে আগ্রহী হবেন আরও বেশি পরিবার। সেজন্যে প্রণোদনা প্যাকেজটি যথাথর্ করার প্রয়োজন রয়েছে। শুনতে পাচ্ছি, সরকার এরই মধ্যে ‘নেট মিটারিং’ নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে করে রুফটপ সোলার প্যানেল ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পযাের্য় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ অনেকটাই বেড়ে যাবে। সত্যি সত্যি এটা হবে একটি স্মাটর্ কাযর্ক্রম।

জলবায়ু ঝঁুকি ও টেকসই অথার্য়নের জন্যে নিবেদিত বৈশ্বিক অথের্র উৎস বাংলাদেশের হাতে এখনও পযর্ন্ত যথেষ্ট নেই। থাকলে বাংলাদেশের এইসব প্রত্যাশা পূরণ করতে অনেকটাই সহায়ক হতো। এক্ষেত্রে উচ্চতম পযাের্য়র নীতিগত অঙ্গীকার প্রয়োজন। সংসদের নিবিড় তত্ত¡াবধানে বিশ্বাসযোগ্য শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে আসা সম্ভব হলে সবুজ বিদ্যুৎ তৈরি ও বিতরণে এক নয়া যুগের সূচনা আমরা নিশ্চয় করতে পারব।

বড়ই আশার কথা, ‘গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড’ নামে আন্তজাির্তক সবুজ জলবায়ু তহবিল, সম্প্রতি ইডকল (ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিডেট বা ইডকল) এবং পিকেএসএফ-কে বাংলাদেশি পরিচয়দানকারী কোম্পানি হিসেবে এনআই্ই (‘ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন এনটিটি’) স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশীয় এই প্রতিষ্ঠান এখন থেকে ওই তহবিলের অথর্সহায়তা পাবে। সেই অথর্ তারা উদ্যোক্তাদের কাছে সহজলভ্য করবে। সত্যিকার অথের্ই এটি আমাদের সবুজ অথার্য়নের একটি শুভযাত্রা বৈকি। তাই সবুজ অথার্য়নে আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার, আথির্ক নিয়ন্ত্রক বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ক্ষেত্রে কৌশলগত ভূমিকা রাখতে সক্ষম। সেজন্যে সামাজিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। নীতি-নিধার্রকদেরও মনকে আরও সবুজ করতে হবে। ব্যক্তিখাত, সামাজিক উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সরকার মিলে মিশেও সবুজ অথর্নীতি প্রচলনে উল্লেখ করার মতো ভ‚মিকা গ্রহণ করতে পারে। একটি উদাহরণ দিই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. আইভিকে এক অনুষ্ঠানে অনুরোধ করেছিলাম তঁার করপোরেশনের অধীনে বাড়িগুলোর ছাদে বাগান করার জন্য মালিকদের উৎসাহী করতে কিছুটা নগর কর ছাড় ও সামাজিক উদ্যোক্তাদের কাজ করার সুযোগ করে দেবার। তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। তঁার প্রধান নিবার্হীও যথেষ্ট উৎসাহ দেখাচ্ছেন। ছাদ বাগানে জৈব সার ব্যবহৃত হচ্ছে। সূযের্র আলো বেশি করে ব্যবহার, সাশ্রয়ী বাতি, সবুজ বিদ্যুৎ ইত্যাদি কমর্কাÐে তিনি উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। একজন সাবেক ব্যাংকার সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এসব কাজ করছেন। আমার ধারণা সমাজ ও স্থানীয় সরকার সচেষ্ট হলে নারায়ণগঞ্জ এক সবুজ নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। আমরা বিআইডিএস ভবনের ছাদে, উত্তরা রাজউক স্কুল ও কলেজের ছাদে অনুরূপ সবুজ ছাদ বাগান গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমার বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ এখনও চালু রয়েছে। সবাই মিলেই আমাদের সবুজ অথর্নীতির পক্ষে কাজ করে যেতে হবে। সবুজ অথর্নীতিই আগামীর অথর্নীতি।

ড. আতিউর রহমান, অথর্নীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর। বাংলাদেশ ব্যাংক।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে