logo
  • Tue, 25 Sep, 2018

  মো. ওসমান গনি   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

আসন্ন জাতীয় সংসদ নিবার্চন ও নেতাদের কান্না

এখন তৃণমূল পযাের্য়র সাধারণ মানুষের কথা হলো আমরা আমাদের সুখ-দুঃখের কথা বলার জন্য নেতা বানালাম আর সেই নেতাই যখন আমাদের কথা শোনে না তাহলে এই নেতা আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা এমন নেতা চাই যে নেতা গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝবে। যার সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ অনায়াসে তাদের মনের কথা বলতে পারবে। আগামী নিবার্চনে নেতারা কান্নাকাটি করলেও আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আবার দেশের অনেক নিবার্চনী এলাকায় দীঘির্দন ধরে একক নেতা হিসেবে নেতা কাজ করছেন। অথার্ৎ সেই নিবার্চনী এলাকায় মাত্র একজন নেতা রয়েছেন। তার বিপরীত কোনো নেতা তিনি তৈরি করেননি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নিবার্চন ও নেতাদের কান্না
সামনে আসছে জাতীয় সংসদ নিবার্চন। এই নিবার্চনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে চলছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। তবে এ আনন্দ উৎসব শুধু সাধারণ নেতাকমীের্দর মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর বড় বড় মাপের নেতাদের মধ্যে চলছে শুধু মায়া আর কান্না। তার কারণ হলো বড় মাপের নেতারা তাদের বিগত দিনের কাজকমের্র জন্য এখন কেন্দ্র হতে শুরু করে তাদের নিবার্চনী এলাকার সব লোকজনের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। গত দুই টামের্র নিবার্চনের সময় অনেক নেতা সংসদ সদস্য নিবাির্চত হয়েছেন। তারা নিবাের্নর পর তাদের নিবার্চনী এলাকায় কে কি কাজ করছেন তা দেশের সাধারণ মানুষের জানার বাকি নেই। কমীের্দর সঙ্গে নেতারা কে কি রকম আচরণ করছেন তাও দেশের মানুষ ভালো করে জানে। সে সময় সাধারণ নেতাকমীর্রা মুখ বন্ধ করে নেতার সব কাজকমর্ সহ্য করে নিয়েছেন। নেতার ভয়ে কথা বলা তো দূরে থাক তার সম্পকের্ কোনো রকম টু শব্দ করার সাহসটুকু পাননি। এখন সাধারণ নেতাকমীের্দর সময় এসেছে নেতাদের কথার পাল্টা জবাব দেয়ার। যার কারণে সারাদেশের সাধারণ মানুষ এখন শক্ত হয়ে বসেছে। আর নেতারা তাদের কাছে গিয়ে এখন কান্নাকাটি শুরু করেছেন। তার কারণ দেশের প্রধানমন্ত্রী আগামী সংসদ নিবার্চনে মনোনয়নের ব্যাপারে শক্তভাবে বলে দিয়েছেন যে নেতাদের তৃণমূল পযাের্য়র সাধারণ মানুষ ও কমীের্দর সঙ্গে যোগাযোগ নেই আগামী সংসদ নিবার্চনে তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না । তিনি যত বড় মাপের নেতাই হন না কেন। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিবার্চনে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে তৃণমূলের সাধারণ নেতাকমীের্দর মতামতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এবং তিনি তার বিশেষ বাহিনীর (গোয়েন্দা) মাধ্যমে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী সব নেতাদের তৃণমূল পযাের্য়র হিসাব-নিকাশ কড়ায়-গÐায় তুলে নিচ্ছেন। মনোয়নের ক্ষেত্রে সেই তৃণমূলের নেতাকমীের্দর মতামতের ওপর নিভর্র করবে নেতাদের আগামী সংসদ নিবার্চনের মনোনয়ন। যে সব নেতারা গত সংসদ নিবার্চনে এমপি নিবাির্চত হয়ে নিবার্চনী এলাকা ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া থেকে দূরে রেখেছেন তারা এখন বেকায়দায় আটকা পড়েছেন। যে সব এমপিরা নিবাির্চত হওয়ার পর তার নিবার্চনী এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারলেন না তারা এখন কি করে সেই সাধারণ মানুষের কাছে ভোটের জন্য যাবেন তা দেশবাসী জানতে চায়। নিবার্চন আসার কারণে এখন নিবার্চনী এলাকার লোকজন নেতাদের মধুর চেয়ে প্রিয় হয়ে গেছে। আগে সাধারণ লোকজন তাদের কোনো বিশেষ প্রয়োজনে বার বার ফোন করলেও নেতাদের পাওয়া যেত না। আবার যদি কোনো সময়ে পাওয়াও যেত তাহলে কমীের্দর সঙ্গে ধমক দিয়ে উঠতেন। বলতেন এখন সময় নাই, পরে কথা বলবে। এই বলে ফোন রেখে দিত। আর এখন সম্পূণর্ এর বিপরীত। এখন সাধারণ মানুষ অনেক নেতাদের বারবার ফোনের বিরক্তের কারণে ফোন বন্ধ করে রাখে। আবার কোনো কোনো সময় নেতা (এমপি) যখন নিবার্চনী এলাকায় আসতেন তখন তার সঙ্গে থাকত পুলিশ। পুলিশের কারণেও অনেক সাধারণ মানুষ এমপির ধারেকাছে ভিড়তে পারত না। পুলিশ রাখার অথর্ হলো সাধারণ মানুষ যেন তাকে ডিস্টাবর্ করতে না পারে। এখন দেশের কিছু কিছু সাধারণ মানুষ বলে এবার নিবার্চনে নেতার সেই পুলিশের লোকেরা ভোট দিক। আমাদের ভোটের কোনো প্রয়োজন নেই। তার কারণ পুলিশের কারণে সে সময়ে আমরা কোনো কথা বলার সুযোগ পাইনি। আবার অনেক সময় দেখা গেছে দেশের গ্রামের লোকজন বেশির ভাগই হলো নিরক্ষর। তারা সঠিকভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে না। সেই সব নিরক্ষর লোকজনের সঙ্গে নেতা ইংরেজিতে কথা বলে। যা সাধারণ মানুষ কখনো বোঝে না। এখন তৃণমূল পযাের্য়র সাধারণ মানুষের কথা হলো আমরা আমাদের সুখ-দুঃখের কথা বলার জন্য নেতা বানালাম আর সেই নেতাই যখন আমাদের কথা শোনে না তাহলে এই নেতা আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা এমন নেতা চাই যে নেতা গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝবে। যার সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ অনায়াসে তাদের মনের কথা বলতে পারবে। আগামী নিবার্চনে নেতারা কান্নাকাটি করলেও আমাদের কিছুই করার থাকবে না। আবার দেশের অনেক নিবার্চনী এলাকায় দীঘির্দন ধরে একক নেতা হিসেবে নেতা কাজ করছেন। অথার্ৎ সেই নিবার্চনী এলাকায় মাত্র একজন নেতা রয়েছেন। তার বিপরীত কোনো নেতা তিনি তৈরি করেননি। তার ধারণা হলো নেতা তৈরি হলে অদূর ভবিষ্যতে তার প্রতিপক্ষ হয়ে যাবে। তখন কমীের্দর কাছে তার কোনো মূল্যায়ন থাকবে না। এমন ধারণা নিয়েই অনেক নিবার্চনী এলাকায় একজনের কোনো বিকল্প নেতা তৈরি হয়নি। তার ধারণা হলো এখানে নেতা তৈরি করলে সে হয়তো একদিন আমার বিপরীতে দলের মনোনয়ন চাইবে। দল তাকে মনোনয়ন দিলে সে এমপি হলে আমার কোনো মূল্য থাকবে না। আমাকে আর কেউ জি হুজুর জি হুজুর করবে না। এই ধরনের নেতার নিবার্চনী এলাকার সাধারণ মানুষ তার কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের কোনো শক্তি নেই দলের প্রধানের কাছে গিয়ে বলবে এখানে বিকল্প নেতা তৈরি করা দরকার। যদিও দুই-চারজন থেকে তাকে তাদের কেউ নেতা বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রাখে। তারা যাতে মুখ খুলে নেতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে না পারে। আবার তাদের ভয়েও তৃণমূলের সাধারণ লোকজন কোনো কথা বলার সাহস পায় না। নেতার ধারণা হলো যেহেতু এখানে আমার বিকল্প কোনো নেতা নেই সেহেতু এখানকার দলীয় লোকজন আমাকে ছেড়ে তারা কোথাও যাওয়ার পথ নেই। তাদের আমি কিছু দিলেও আমার লোক আবার না দিলেও আমার লোক। তাদের যাওয়ার পথ বন্ধ। কিন্তু এবার আগামী সংসদ নিবার্চনে মনোনয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন মনে হয় সেই একক নেতাদের বিপদ আসছে। কারণ আগামী সংসদ নিবার্চনে প্রতিটি নিবার্চনী এলাকায় বতর্মান সংসদ সদস্যদের বিপরীতে তার চেয়েও আরও প্রতাপশালী নেতা এসে গেছেন। যার কারণে নিবার্চনী এলাকার সাধারণ নেতাকমীের্দর মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি নিবার্চনী এলাকায় একক নেতার স্থলে আরও বিকল্প প্রাথীর্ থাকার কারণে সাধারণ কমীের্দর ভাগ্য খুলছে। বাড়ছে নেতাদের কাছে সাধারণ ভোটারের মূল্যায়ন। নেতা বেশি হওয়ার কারণে যার যার কমর্ ও দক্ষতার প্রমাণ দেখিয়ে কমীের্দর তাদের ধারে কাছে টেনে নিচ্ছেন। এমপি নিবাির্চত হলে অমুখ সুমুখ উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন। অনেকে আবার কান্নাকাটিও করছেন। পুরাতন নেতারাও এখন বেশি বেশি করে কমীের্দর খেঁাজখবর নিচ্ছেন। অনেক নেতারা আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমেও কমীের্দর সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। এক কথায় নেতা যা দশ বছরেও করেননি এখন তার চেয়ে বেশি কিছু করার চেষ্টা করছেন। অনেক নেতার চোখের পানি দেখলে কমীর্রাও তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে বলছেন নেতা আপনার কান্না আমরা সহ্য করতে পারছি না। আগামী সংসদ নিবার্চনে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়তে পারেন বতর্মান ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্যরা। তার কারণ গত ইউনিয়ন নিবার্চনের সময় অনেক নেতাই নিবার্চনে দলীয় মনোনয়ন (প্রতীক) দেয়ার ক্ষেত্রে যে অথর্ বাণিজ্য করছেন তার জন্য তাকে আগামী সংসদ নিবার্চনে মাশুল গুনতে হবে। কারণ যারা দলীয় মনোনয়ন দিয়ে প্রাথীের্ক জয় লাভ করিয়ে নিতে পারছেন তার জন্য সুফল আর যে প্রাথীর্ দলীয় মনোনয়ন পেয়েও নিবার্চনে জয় লাভ করতে পারেননি তিনি দলীয় এমপির বিপরীতে কাজ করতে পারেন। আবার অনেক জায়গায় এমনও হয়েছে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু দলের কোনো প্রভাবশালী লোক তাকে ফেল করানোর জন্য কাজ করছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনের প্রভাব কিছুটা হলেও সংসদ নিবার্চনে পড়তে পারে। দেখা গেছে ইউপি নিবার্চনের সময় যে নেতা নৌকা মাকাের্ক ঠেকানোর জন্য কাজ করছে সে এখন আবার নৌকা মাকার্য় নিবার্চন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে নেতা এখন দলের দোহাই দিয়ে দলের কমীের্দর কাছে কান্নাকাটি করছেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ নেতাকমীের্দর বক্তব্য হলো আমরা অমুক তমুক বুঝি না। যে নেতা তার কমর্ ও দক্ষতা দেখিয়ে কেন্দ্র হতে নৌকা মাকার্ প্রতীক নিয়ে আসতে পারবে আমরা তার সঙ্গে আছি। চোখের পানি ফেললে আর কান্নাকাটি করলে কোনো লাভ হবে না। যার যার বিগত দিনের কমের্র ফলাফল দেখে এবার জনগণ তাদের প্রাথীের্ক নিবাির্চত করবে। কোনো কান্না বা চোখের জলে মানুষ ভোট দেবে না। গত ৫/১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কি কাজ করছে তার সাক্ষী স্থানীয় এলাকার লোকজন। আগামী সংসদ নিবার্চনের বৈতরণী যার যার আমলের মধ্য দিয়ে পার হতে হবে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ঊসধরষ : মধহরঢ়ৎবংং@ুধযড়ড়.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে