logo
শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

  সাইফুজ্জামান   ১৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

গণতান্ত্রিক আন্দোলন

গণতান্ত্রিক আন্দোলন
ইতিহাসের পাতায় কোনো ঘটনা বহুমাত্রিকতায় স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এমন স্মারক অসংখ্য। বাঙালির অমিত সাহস, আত্মত্যাগ ও দ্রোহ স্বৈরাচার ও দুঃশাসকদের হটিয়ে দিয়েছে। স্বাধীন দেশে পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ করে সামরিক শাসনের আবির্ভাব ও আশির দশকে স্বৈরশাসন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে বিপন্ন করে। স্বৈরশাসকের বিভিন্ন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধাগ্রস্ত করে। নব্বইয়ে এমন এক দুঃসময়ে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে জনতা মিলেছিল এক মোহনায়।

স্বৈরাচারের তখতে তাউস কেঁপে উঠেছিল। পতন হয়েছিল স্বৈরব্যবস্থার। গণতান্ত্রিক পথে তখন থেকেই নতুন এক অভিযাত্রা শুরু। তারপর ইতিহাসের পথপরিক্রমায় ঘটনা, দুর্ঘটনার মধ্যদিয়ে চলাচল। কী পেয়েছি, কী পাইনি তার হিসাব মেলাতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। আশাবাদী মানুষ তবু পথ চলে। নতুন স্বপ্ন-আশায় বুক বাঁধে। পাওয়া আর না পাওয়া নিয়েই তো বহতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা দু'পায়ে মাড়িয়ে নতুন সূর্যোদয়কে প্রণাম করি। নব্বইয়ের গণঅভু্যত্থানের পূর্বাপর ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। পেছনে ফিরে তাকাতে চাই।

১৯৮২ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল এরশাদ প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাত্তারকে এক রক্তপাতহীন সামরিক অভু্যত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার একটি অংশ এরশাদের সঙ্গে হাত মেলায়। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধিতা উপেক্ষা করে এরশাদকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্তি দেন। বিচারপতি সাত্তারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অনেক দাবি-দাওয়া আদায়ে সক্ষম হবে বলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অনেকের ধারণা ছিল, কিন্তু দেখা যায়, সাত্তার নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেন। সাত্তারের বক্তব্য বিশেষ করে সেনাবাহিনীর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছাড়া কোনো কাজ নেই সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর পর সামরিক শাসন জারি হলে জনমনে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, জিয়াউর রহমানের মৃতু্যর জন্য সেনাবাহিনী দায়ী। এজন্য তখন সরাসরি সামরিক শাসন জারি হয়নি।

ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, ছাত্র ধর্মঘট, দুর্নীতি বিষয়গুলো চিহ্নিত করে এরশাদ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করে বক্তব্য দেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সংসদ ও মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে সংবিধান স্থগিত করা হয়। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসক হিসেবে এরশাদ দেশের উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করবেন এমন ঘোষণাও করা হয়। বিচারপতি সাত্তারকে দিয়ে এমন ঘোষণা করা হয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর মৌলিক অধিকার রহিত করা হয়।

বাংলাদেশের সমস্ত সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্র সংগঠন এরশাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এরশাদের বিরুদ্ধে মিছিল উচ্চকিত হয়। মৌন মিছিল পরে স্স্নোগানে বিদীর্ণ করে 'এরশাদ ধ্বংস হোক।' বিচারপতি আহসান উদ্দীন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হয়। সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব প্রশমিত করতে এরশাদ সামরিক বাহিনীতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন। দুবার বেতন বাড়িয়ে দিয়ে সেনা সদস্যদের মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি ও নানা কৌশল রপ্ত করে এরশাদ রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নেন। প্রেসিডেন্ট প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের নির্দেশমতো কাজ করতে বাধ্য হন। এরশাদ এমন বক্তব্যও দিয়েছেন দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে তিনি ব্যারাকে ফিরে যাবেন। এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক বাহিনীর ভেতর থেকে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের তিনি বোঝাতে সক্ষম হন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে তার এ দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। সামরিক শাসন জারির পর এরশাদ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিলেন। উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৮২ সালের শেষেরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ গঠন করা হয়। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদকে প্রতিহত করতে নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ গঠন করা হলেও রাজনীতি সচেতন ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে টিকে থাকতে পারেনি।

এরশাদ বিভিন্ন জনসভায় রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের ঐক্যজোট গড়ে ওঠে। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় ঐক্যজোট রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করে। ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর ১৫ দল ও ৭ দল যুগ্মভাবে সচিবালয়ের সামনে ধর্মঘট আহ্বান করে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ দুই জোটের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। কৃষক-শ্রমিক-জনতা সচিবালয় ঘেরাও অভিযানে অংশ নেয়। ১৪৪ ধারা জারি করেও জনতাকে প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনী গুলি চালালে ১১ জন নিহত হয়। বিরোধীদলীয় দুই নেত্রীকে অন্ত্যরীণ করে রাখা হয়। ২২ দল ২৯ নভেম্বর ঢাকায় ও ৩০ নভেম্বর সারা দেশে হরতাল ডাকে। উপজেলা নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। এরশাদবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দুই জোট সম্পৃক্ত হয়। জনতার মিছিলে ট্রাক উঠিয়ে দেয়া হয়। সেলিম-দেলোয়ার নিহত হয়। তাজুল, সেলিম-দেলোয়ারের জীবন উৎসর্গে এরশাদবিরোধী রাজনীতি তুঙ্গে ওঠে। দুই জোটে প্রবল আপত্তি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

১৯৮৪ সালের এপ্রিলে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নামে। ২২ মে ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তারা বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়ার পক্ষে কাজ করলেও এরশাদের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের কারণে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে এরশাদ গংদের সমন্বয় হয়নি। ১৯৮৬ সালে এরশাদ প্রকাশ্য রাজনীতির ওপর বিধি তুলে নেন। এরশাদ ঘোষণা দেন ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ দল, ৭ দল ও জামায়াতে ইসলামী ৮ মার্চ অর্ধদিবস হরতালের আহ্বান জানায় মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন। ২২ মার্চ পূর্ণদিবস হরতালের ডাক দেয়া হয়। ১৫ দলের মধ্য থেকে ৫ দল জাসদ (ইনু), বাসদ (মাহবুব), বাসদ (খালেকুজ্জামান), ওয়ার্কার্স পার্টি (মেনন) ও শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১০ দল ও স্বতন্ত্রভাবে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দল নির্বাচন বর্জন করে। ২৬ এপ্রিলের পরিবর্তে ৭ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের ফলাফল দাঁড়ায় এরকম ৩০০ আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টি ১৫৩ আসন, ১৫ দলের মধ্যে ৮টি দল ৯৭ আসন পায়। আওয়ামী লীগ ঘোষণা দেয় সামরিক শাসন প্রত্যাহার না হলে আওয়ামী লীগ সংসদ অধিবেশনে অংশ নেবে না।

আওয়ামী লীগ প্রথম সংসদ অধিবেশন বর্জন করলেও আ স ম রবকে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচন করার চেষ্টা করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সংসদে অংশগ্রহণ করে।

১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ডাকা হয়। এরশাদ সপ্তম সংশোধনী বিল উত্থাপন করেন।

এ বিল উত্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল ১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইন জারি থেকে শুরু করে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত গৃহীত সব আইন নির্দেশ ও অধ্যাদেশকে বৈধতা দেয়া আওয়ামী লীগসহ আট দলীয় জোট এই বিলের বিরোধিতা করে। এদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিলটি পাস হয়।

এরশাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি এক বিবৃতিতে ছাত্রদের কোনো অবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের লেজড়ুবৃত্তি পছন্দ করেন না বলে জানান।

১৯৮৭ সালের প্রথম দিকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ তৈরির ষড়যন্ত্র চলে। একে একে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ হতে থাকে। বিরোধী দল লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে ঘেরাও, প্রতিরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন বুকে-পিঠে সেই অমিত স্স্নোগান 'স্বৈরাচার নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তিপাক'। লিখে মিছিলে অংশ নেয়। গোলাপ শাহ মাজারের কাছে আসতেই ঘাতকের গুলিতে নূর হোসেন লুটিয়ে পড়ে।

১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর সংসদ ভেঙে দেয়া হয়। সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে বক্তৃতা দিতে যাওয়ার পক্ষে বাধাগ্রস্ত হন। এক পুলিশ অফিসার শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আবুল কাশেম শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিলে তার পরিবর্তে তিনি নিজেই গুলিতে নিহত হন।

৩০ জানুয়ারি তিন জোটের আহ্বানে ঢাকায় শোকসভা আয়োজন করা হয়। এরশাদ 'বিশ্ব বেহায়া' খেতাবে ভূষিত করা হয়। ২৬ ফেব্রম্নয়ারি শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে গণআন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। ৩ মার্চ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধী দল সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। জাসদ (রব) জাসদ (সিরাজ) ফ্রিডম পার্টি নির্বাচনে অংশ নেয়।

ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এরশাদ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। দীর্ঘ নয় বছর তার শাসনামল ছিল স্বৈরাচারী কর্মযজ্ঞে ভরপুর। এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় ১৯৯০ সালের শেষে। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে এরশাদের আজ্ঞাবাহী সদস্যরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলার মোড়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, নবাবপুর, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এরশাদবিরোধী মিছিলের জনসমুদ্রে বোমাবাজি, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ, লাঠিচার্জ ও গুলি চালানো হয়। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলে অবরোধ কর্মসূচি। অন্যদিকে পুলিশি অ্যাকশন অব্যাহত থাকে।

ছাত্র-শিক্ষক এরশাদবিরোধী আন্দোলন অংশ নেন। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য প্রেস ক্লাবের সামনে ঘোষণা দেয়- স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো হবে। মন্ত্রী পাড়া ও দালাল রাজনীতি ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় ১৭ নভেম্বর। ২০ নভেম্বর বিরোধী দল হরতাল আহ্বান করে। ছাত্র ঐক্যের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা ও ছাত্র নেতৃত্বের ওপর চাপ তৈরির জন্য একটি সশস্ত্র বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। ২৭ নভেম্বর ডা. মিলনকে হত্যা করা হয়। মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসক একযোগে পদত্যাগ করেন।

সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা প্রকাশনা বন্ধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পদত্যাগ করেন। ঢাকার বিভিন্নস্থানে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, নোয়াখালীতে গুলিবর্ষণে নিহত হয় অগণন। ৩০ নভেম্বর ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে গায়েবানা জানাজায় হাজারো মানুষের সমাগম হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বায়তুল মোকাররম ঘিরে রেখেছিলেন।

১৯৯০ সালের ১ ডিসেম্বর হরতালের সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে পুলিশের গুলিতে ৫ জন মৃতু্যবরণ করে। ২ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মিলিত সাংস্কৃতিকগোষ্ঠী আয়োজিত সমাবেশ হয়। ৩ ডিসেম্বর সচিবালয়ের কর্মচারীরা এরশাদবিরোধী কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সচিবালয় থেকে রাজপথে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়।

১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর তিন জোটের সমাবেশে এরশাদ ঘোষিত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হয়। ছাত্রজনতার মিছিল থেকে উচ্চকিত এরশাদের পদত্যাগের বিষয়টি। ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে এরশাদ পদত্যাগ করেন।

১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অবৈধ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যে স্বৈরশাসকের ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ ঘটেছিল তার পতন হয়। নব্বইয়ের গণঅভু্যত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের অন্যতম মাইলফলক।

জনপ্রত্যাশা পূরণে বাঙালি দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে যে ঐক্য রচনা করেছিল তা ইতিহাসের অংশ। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এই ঐক্য নতুন করে পথ দেখায়। প্রলোভন ও চাটুকারিতার বিপরীতে দ্রোহ, স্বপ্ন ও আগামীর পথচলায় এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন এক অনিঃশেষ প্রেরণা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে