logo
মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

  রায়হান মাহবুব   ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

পাহাড় আর সমুদ্রতটে মিলেছি উৎসবে

পাহাড় আর সমুদ্রতটে মিলেছি উৎসবে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
সেদিন ছিল জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন। দিনটির কথা নিশ্চয় সবাই অবগত আছেন। সকালে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছে 'মৃতু্যঞ্জয়ী মুজিব' মু্যরাল চত্বরে সবাই। একে একে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সাংবাদিক সংগঠন 'ইবি প্রেস ক্লাব'। সবার অন্তরে বইছে প্রাণোচ্ছলতা, চোখে-মুখে আনন্দের আলোকচ্ছটা। কারণ দিনটি ছিল ক্যাম্পাস জুড়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন কেন্দ্রিক উৎসবের আমেজ, আবার দীর্ঘ প্রতিক্ষা আর অপেক্ষার অবসান। সবাই যার যার মতো প্রস্তুতি নিয়ে প্রেস কর্নারে জড়ো হলাম। তখন ঠিক দুপুর ২টা বেজে ১৯ মিনিট। গাড়ি মেইন গেট পেরিয়ে ছুটে চলল কুষ্টিয়া শহরের পানে। সড়কের দু'ধারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সূর্যীমামার তপ্তমাখা আলোর কিরণ আর ঝিঁরি ঝিঁরি শীতল বাতাসে একঘেয়েমি যান্ত্রিক জীবন যেন তখনই প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠল। আবার সাউন্ড বক্সের হিপহপ আর ঝাঁকানাকা গানের তালে মনটাও যেন ঝাঁকি দিয়ে উঠল তখনই।

আমরা ছিলাম মোট ১৮ জন, যার মধ্যে চার জন সাবেক সদস্য। রাত ১০টা নাগাত রাজধানীতে পৌঁছিয়ে আমরা কাওরানবাজারে প্রথম আলো অফিসের সামনে গাড়ি পার্কিং করলাম। এ সময় সাবেক আর বর্তমান সাংবাদিকদের মিলনমেলায় পরিণত হলো যেন কাওরানবাজার। সফরসঙ্গী সাবেক ভাইদের কাছে পেয়ে আমাদের সব কষ্ট ক্লেশ আর দুশ্চিন্তা যেন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।

শুরু হলো পরবতী যাত্রা। গাড়ি ছুটে চলেছে অবিরাম গতিতে। গভীর রজনী অবধি খোশগল্প, আলাপচারিতা, মজা-মাস্তি শেষে অনেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। রাত গড়িয়ে ভোর হলো, চোখ মেলে দেখতে পেলাম চোখ জুড়ানো নয়নাভিরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আমরা আলাওল হল থেকে ফ্রেশ হয়ে চট্টলার ঐতিহ্যবাহী নান রুটি দিয়ে সকালের নাস্তা করলাম। নাস্তা শেষে জাতীয় ক্যাম্পাস সাংবাদিক উৎসব-২০১৯ যোগ দিলাম। সারাদেশ হতে আগত ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শামিল হতে পেরে খুব গর্বিত মনে হচ্ছিল। শুরু হলো পরিচিতি পর্ব আর একে অপরের ভাববিনিময়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি বায়োজিদ ইমনের সভাপতিত্বে উৎসবের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিরিন আক্তার। প্রশিক্ষণ পর্বে প্রশিক্ষক ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সায়ে্যদ ইশতিয়াক রাজা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিকেলে আমরা সবাই একত্রিত হলাম চট্টলার ঐতিহ্যবাহী শিরোনামহীন আর বগিবাজ ব্যান্ডের অংশগ্রহণে কনসার্ট অনুষ্ঠানস্থলে। অনুষ্ঠান উপভোগ করে রাত সাড়ে ৯টায় আমরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করলাম।

শুরু হলো তৃতীয় যাত্রা। গানের আসর, হাসি-ঠাট্টা, কৌতুক আর জারি গানের তালে সবাই যেন আনন্দে আত্মহারা তখন। অবশেষে রাত সাড়ে ৩টায় আমাদের গাড়ি কলাতলী পৌঁছাল। অনেকেই তখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন। চোখ মুছতে মুছতে একে একে সবাই গাড়ি থেকে নেমে আসলাম। হোটেল সি পয়েন্ট রিসোর্টে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হলো। উষার আলো উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হেঁটে হেঁটে আমাদের কেউ লাবনী পয়েন্টে, আবার কেউ সুগন্ধ্যা বিচে ছুট দিল। সকালের শুভ্র আবহাওয়ায় তর্জন-গর্জনে মুখর সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ যখন কিনারে এসে পা দুখানি ধুয়ে নিয়ে গেল, তখন প্রশান্তির বাতাসে মনটা যেন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে নাচন দিতে লাগল। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে উৎসবের সমাপনী পর্বে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট চ্যানেলের নির্বাহী সম্পাদক খালিদ মহিউদ্দীন। এবার ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের বক্তব্যদান এবং পরিচিতি পর্বের পালা। ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেডারেশনের সভাপতি আসিফ তাসিনের হাতেই ২১টি ক্যাম্পাসের ২৭টি সংগঠনের ক্রেস্ট প্রদান শেষে আমরা সবাই গ্রম্নপ ফটোসেশনে শামিল হলাম। দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এ উৎসবে জাতির বিবেকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো একই সুর, একই আওয়াজ। দুঃসময়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার আর শত বাধা-বিপত্তিতেও অশুভ শক্তির কাছে মাথা না নোয়াবার দৃঢ় প্রত্যয়। বিকেলের স্নীগ্ধ, লাবণ্যময়ী সমুদ্রকে উপভোগ করে একে একে সব ক্যাম্পাস প্রতিনিধি বিদায় জানালেন, আমরাও সবাইকে বিদায় জানিয়ে রিসোর্টে ফিরে আসলাম।

গভীর রজনী অবধি সুগন্ধ্যা বিচে সময় কাটিয়ে সেখানে আমরা বার-বি-কিউ পার্টিতে যোগ দিলাম। বুধবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা সমুদ্রের বিশাল জলরাশিতে নিজেকে ভিজিয়ে নিয়ে আমরা রিসোর্টে ফিরে আসলাম। এবার আমরা হিমছড়ি ও ইনানী বিচের উদ্দেশে স্থানীয় চাঁন্দের গাড়িতে চড়ে বসলাম। অভাবনীয় এ ইনানী সৈকতে যেতে যেতে সড়কের বাম পাশে দেখলাম সবুজঘেরা উঁচু উঁচু পাহাড় আর ডান পাশে বিশাল সমুদ্রের নীলাকৃতির জলরাশি। সৈকতের ডাবের পানি পান করে শরীরের ক্লান্তিকে নিভৃত করলাম। চলে এলাম হিমছড়ি পাহাড়ে। সর্বোচ্চ চূড়া হতে আমরা পুরা সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্যকে উপভোগ করলাম।

আমরা বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে পৌঁছিয়ে সীতাকুন্ডুর চন্দ্রনাথ শৃঙ্গে আরোহন করলাম। প্রায় ১০২০ ফুট উচ্চতার এ শৃঙ্গ চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ স্থান। প্রায় একঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আমরা শৃঙ্গের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠতে সক্ষম হলাম। মিলনমেলা, সমুদ্রসৈকতে ঘেরা কক্সবাজারের ইনানী-লাবনী, হিমছড়ি আর পাহাড়ি অরণ্যে ঘেরা পুণ্যভূমি চট্টলার ছোট্ট ছোট্ট এ স্মৃতিকে অন্তরের গহীনে, ক্যামেরা ফ্রেমে বন্দি করে অবশেষে চড়ে বসলাম গাড়িতে। গাড়ি ছুটে চলল প্রাণের ক্যাম্পাসে। শ্রান্ত-ক্লান্ত নির্ঘুম ভ্রমণ পিপাসুরা একে একে বর্ণনা করলেন তার ভ্রমণ অভিঙ্গতার কথা। ঢাকায় ঢুকতেই গাড়িটি ফাঁকা হওয়া শুরু হলো, একে একে বিদায় নিল সাবেক ভাইয়েরা। অবশেষে শুক্রবার সকালে দীর্ঘ ক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে আমাদের গাড়ি ক্যাম্পাসের মূলফটকে প্রবেশ করল। সত্যিই ভ্রমণটি চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবে এ মম চিত্তে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে