logo
শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  মোছা. সালেহা রব্বানী   ০৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

মরিতে চাহি না আমি...

মরিতে চাহি না আমি...
সত্যি এত সুন্দর পৃথিবী আমি ছাড়িতে চাই না। ইচ্ছে করে হাজার বছর বেঁচে থাকি। কি! সুন্দর সুন্দর অট্রালিকা, কী সুন্দর গাড়ি, কী সুন্দর বাড়ি- তার ভেতর কত সুখের উপকরণ।

সুইচ টিপলেই আলো, বাতাস, এসি ও ভেন, ফ্রিজ, রাইচকুকার, প্রেসার কুকার, কারীকুকার, গ্যাসের চুলা, ম্যাজিক চুলা, টিভি, টেলিভিশন ইত্যাদি কতনা কী সুখের উপকরণ, ঘরে বসেই বিশ্বের খবর পাওয়া যায়, দেখা যায়, শুনা যায় মোবাইলে, সারা বিশ্ব যেন হাতের মুঠোয়, সেই প্রেক্ষিতে আগের দিনের অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট একটু তুলে ধরি।

আগের দিনের ঘরবাড়ি ছিল ছনের খড়ের। একটু বৃষ্টি এলেই মানুষ বনের পশুপাখির মতই ভিজে যেত। প্রচন্ড গরমের দিনেও বাতাসে আগুন লেগে গ্রামকে গ্রাম পুড়ে চাই হয়ে যেত। এমনকি মানুষ ও গুরু ছাগল, গাছপালা পুড়ে যেত। তীব্র শীতেও এমনটি হতো, হায়রে, মানুষের কত অবর্ণীয় কষ্ট, আর এখন মানুষের কত সুখ, কত নিরাপদ বাড়িঘর। বিছানার সঙ্গেই বাথরুম, আগের দিনে যত বড় লোকই হোক না কেন তার মাত্র একটা পায়খানা বাঁশ ঝাড়ের নিচে, এত সুখ এত সুখ তবু মানুষ বাঁচে সর্ব ঊর্ধ্বে সত্তর-আশি বছর; আর বেশির ভাগ মানুষই মৃতু্যবরণ করছে। বিশ বছর, পঁচিশ বছর, ত্রিশ বছরে সবাই যন্ত্রণার যাতা কলে নিষ্পেষিত হয়ে সুন্দর পৃথিবী ছাড়ছে। হাসপাতালে গেলে রোগীদের করুণ দৃশ্য দেখলে দুচোখের পানি আর বাঁধ মানে না, বুকটা সত্যিই ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। ঢাকা ভার্সিটির পড়া কয়েকটা ব্রিলিয়াট ছাত্রের মৃতু্যর আগে তাদের আহাজারী শুনলে! মনে হয় বনের পশু পাখি কেঁদেছে। আহা! বাচা ধনরা-বাঁচিবার জন্য কতই না আহাজারি করল। ওমা! আমি বাঁচলে বিশ্বকে অনেক কিছুই দিয়ে যাব। প্রথমে আমার গ্রাম উন্নয়ন করব। তারপর দেশের, দুচোখে আমার অনেক স্বপ্ন ও আশা একটু আমায় মুক্তি দাও শান্তি দাও তবুকি বাঁচল? মরণ তাকে গ্রাস করেই ছাড়ল, মেনে নেয়া যায়? এরা দেশের সম্পদ জাতির সম্পদ। একজনের কিডনি ড্যামেজ আর একজনের ব্রেন ক্যান্সার, গরীব বাবার বুক ফাটা কান্না আর্ৎনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠল। আশা ছিল ছেলে বড় হলেই অনাহারি মুখে খাবার জুটবে সুখের মুখ দেখব। এ ছাড়া এই মৃতু্যগুলোকে শুধু নিয়তি বলেই মেনে নেব? পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এত অকাল মৃতু্য নেই। জামানে তো নেই বললেই চলে। একজন মানুষ যদি বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। তখন তার জন্য কত আফসোস হয় আর যখন সব চিকিৎসার পরে মারা যায় তখন মনকে বুঝান যায়। আগের দিনের মানুষ এত কষ্টে থেকেও এক হাজার বছর বাঁচত, সাতশত-আটশত বছর বাঁচত কেন? আগের মানুষ ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খেত। খড়ির চুলায় রান্না করে মাটির সানকিতে খেত। বিনা সারের চাল, তরকারি ও মাছ খেত। আর এখন ১০ বছরে জমিতে বিনা সারে যা জন্মে, তা এখন প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে, ১০ বছরের ফসল এক বা দুই বছরে ফলানো হচ্ছে। জমির উর্বর শক্তি ও জৈব সার প্রয়োগ করে জমিতে যা ফলানো হচ্ছে তাতে মানুষের পোষাচ্ছে না এতে জমিরও সর্বনাশ মানুষের জীবনের ও চরম সর্বনাশ। মানুষের শরীর দিন দিন পঙ্গু হয়ে পড়ছে। আসুন আমরা সুস্থ্য জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য আগের অভ্যাসগুলো চালু করি। তারপরেও কিছু কিছু বিষয়ের প্রতি মাননীয় সরকারের কঠোরভাবে নজর রাখলেই আমরা সুন্দর সুস্থ্য জীবন পেতে পারি। মাননীয় সরকার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন সব হারিয়ে শুধু দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করলেন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়লেন। সেখানে যদি মানুষই না বাঁচে সুস্থভাবে তাহলে কী নিয়ে বাঁচবেন। তাই সরকারকে সবিনয় অনুরোধ, নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি কঠোরভাবে নজর দিলেই আমরা সুস্থ জীবন পেতে পারি- বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

ইউকালিপটাস: ইউকালিপটাস গাছ কাটতে হবে। এই গাছের ভেতর থেকে এমন এক প্রকার বিষাক্ত পদার্থ ছড়ায় যা মানুষের ও প্রাণীর জন্য খুবই ক্ষতিকর। এমন তো না যে, মেহগনি গাছের মতো দামিগাছ কাটা যাবে না। মানুষের এই শত্রম্নকে চিরতরে উৎখাত করা দরকার। এমনি তো পচা ড্রেনের গন্ধে প্রাণ যায় যায়। বাতাসে কত ধূলিকণা। সরকার বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণের জন্য যেভাবে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ঠিক সেইভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। ইউক্যালিপটাস গাছ উপড়ে ফেলা। তার পরিবর্তে লাগাতে হবে নিমগাছ। নিমগাছের পাতা থেকে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন বের হয়। যা মানুষ ও প্রাণী দেহের জন্য খুবই উপকারী। এক দিকে দূষিত শত্রম্নর থেকে মুক্তি নেব আর নিমগাছ থেকে কত উপকারী অক্সিজেন পাব। যে বাতাস আমাদের শরীরকে কত রোগ মুক্ত করবে ইন্‌শালস্নাহ।

পানি বিশুদ্ধ করে খেতে হবে। পানিত প্রচুর পরিমাণে ব্যাকটেরিয়াও আর্সেনিক আছে- যা কোনো জায়গায় বেশি কোনো কোনো জায়গায় কম।

কীটনাশক: কীটনাশক ব্যাপারটা কৃষক এখানে নিরুপায়। তারপরেও বলব কৃষক ভাই ওষুধ প্রয়োগ করার পরের দিনই, সবজি তুলবেন না, একটু রোদে বাতাসে বৃষ্টিতে ওষধের ধকলটা একটু কমলে, সবজি তুলবেন ভাই; কেননা, ওপর দিকে ঢিল ছুড়লে নিজের মাথায় সে ঢিল পড়ে। তারপরেও ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করা দরকার কতদিন সবজি তোলা বন্ধ রাখতে হবে। সরকার সে ভাবেই নিষেধ করবেন।

ফরমালিন: ফরমালিন ব্যবসায়ীকে এমন করে শাসাতে হবে যে, যেভাবে সরকার বলেছিলেন- "এসিড ছুড়বেন তো মরবেন"। ঠিক এইভাবেই নিষেধ করবেন সরকার। তা ছাড়া আমরা দেখে শুনে খাব। অসময়ে যেসব ফল বাজারে আসে অর্থাৎ অপুক্ত ফল। বেশি পয়সার লোভে অপুক্ত ফলে ফরমালিন দিয়ে পাকায় এসব ফলগুলো আমরা কখনো খাব না। জ্যেষ্ঠ মাসের পুরা মৌসুমে ফরমালিন দিয়ে পাকাতে হয় না। আলস্নাহর অশেষ কৃপায় এমনিতে পাকে। তখন প্রাণ ভরে ফল খাব। এক ফল ব্যবসায়ীর ভাষ্য: "ফরমালিনের ভেতরে ডুবানো কলা বা ফল শেরপুর থেকে ঢাকা পৌঁছানো মাত্রই একদম হলুদ হয়ে যায়। চার পাঁচ বছরের শিশুদের চশমা পরা দেখলেই, মনে পড়ে ফল ব্যবসায়ীর ভাষ্য। সামান্য লাভের জন্য কত বড় সর্বনাশ করল মানুষের। এরা মানুষ নামের কলঙ্ক।

সাবান: বর্তমানে থালা বাসন পরিষ্কার করার জন্য যে সাবান বা তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয় তা খুবই ক্ষারযুক্ত। নিমিষে তেল ও চর্বি এক ঘঁষাতেই পরিষ্কার। এই থালা বাসন বারবার ধুতে হবে।

পলিথিন: পলিথিনকে একদম না বলতে হবে। পলিথিনে প্যাকেট জাত খাদ্য খুবই ক্ষতিকর। মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার তো খুবই ক্ষতিকর। এখন বাজারে যে ব্যাগ বিভিন্ন রঙের বের হচ্ছে এটা চালু রাখলেই চলবে।

তা ছাড়া গ্রামের মানুষ আর একটা সমমস্যার সম্মুখীন। অল্প শিক্ষিত ওষুধ বিক্রেতারা একদম পুরো ডাক্তারের ভূমিকা পালন করছে। এক রোগী এসব ডাক্তারের ওষুধ খেয়ে চিৎকার, চিৎকার, তারপর বগুড়ায় বড় ডাক্তারের কাছে অপারেশন করে পাওয়া গেল অতিমাত্রায় ক্যাপসুল রোগীর নাড়িতে পড়ে আছে। এসব হাতুড়ে ডাক্তার থেকে সাবধান থাকতে হবে।

তা ছাড়া আমরা হোমিও ও অ্যালোপ্যাথিক ওষুধে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। মহান আলস্নাহর দেয়া ওষুধ গাছ-গাছরার কথা আমরা একদম ভুলেই গেছি। পৃথিবীর শুরুতে যে দিন হোমিও এলোপ্যাথিক ছিল না তখন কী মানুষ শুধু গাছ-গাছড়ার ওষুধ খেয়ে বাঁচত না? তা ছাড়া আমাদের প্রত্যকের উচিত, আমাদের খেতে যতটুকু লাগবে, ততটুকু সবজি টবে কিংবা সামান্য জমিতে উৎপাদন করে খাওয়া। তারপরেও নিয়মিত গোসল, খাওয়া, ঘুমের প্রতি নজর দিতে হবে।

সর্ব প্রকারের মাদক দ্রব্য থেকে লাখ মাইল দুরে থাকতে হবে। এমনিতেই সার দেয়া গরুর মাংস, দুধ, সার দেয়া মাছ খেয়ে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তার ওপরে নেশা করলে মানুষ কিভাবে বাঁচবে।

তাহলেই আমরা সুন্দর পৃথিবীতে যত দিন মহান আলস্নাহ বাঁচায় ততদিন তো সুস্থভাবে শান্তিতে মহা আনন্দে প্রফুলস্নচিত্তে জীবনযাপন করিতে পারি; ইনশালস্নাহ। আলস্নাহুম্মা আমিন।

সদস্য

জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে