logo
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  মো. লিয়াকত আলী সেখ   ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ

শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ
একটি জাতির সামগ্রিক সত্তার নিগূঢ়তম সত্য, নিবিড়তম আকাঙ্ক্ষা পরমপ্রিয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অবিনাশী এবং অবিস্মরণীয় চেতনাবোধ মানবচিত্তে দেশপ্রেমের উদ্রেক করে বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস, দেশের তরে সদা জাগ্রত অতন্দ্র প্রহরীর মনোভাব জাগ্রত করে। নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম জাতির সর্বোচ্চ অর্জন। তাই মুক্তিযুদ্ধের মহান মূল্যবোধ ও চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে জাতীয় জীবনে সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক জনশক্তির প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ একজনের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল সুমহান চেতনার বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিবিড় পরিচর্যা। সর্বোপরি সৃষ্টিশীল এবং ফলপ্রসূ কর্মসূচির মাধ্যমে নবীন সবুজপ্রাণ কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মাঝে সুনিপুণ বিস্তার ঘটাতে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যোদয়ের বর্ণালি গৌরবগাথা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সংবলিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সুনাগরিক তৈরির লক্ষ্যে শিশু-কিশোরদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত, অবিকৃত এবং পূর্ণতা ইতিহাসের বিস্তার ঘটাতে হবে। সঠিক ইতিহাসের পরিপূর্ণ শিক্ষাই শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগরণের প্রথম পদক্ষেপ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল সংযোজন অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ দুইটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিতভাবে গ্রন্থ দুইটির ধারাবাহিক পাঠ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার চেতনাবোধের বাস্তবধর্মী, জীবনঘনিষ্ঠ অনুভূতির উদ্বোধন হবে। তাই গ্রন্থ দুইটির তাৎপর্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া আবশ্যক। শিশুদের কাছে কার্টুন বিনোদনের একটি জনপ্রিয় উপকরণ। দুর্ভাগ্যবশত স্বাধীনতার ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারাবাহিক কার্টুন আজও নির্মিত হয়নি। তাই শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ গ্রোথিত করতে একটি কার্টুন সিরিজ নির্মাণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অ্যানিমেশন ভিডিও, ভিডিও গেমস তৈরি করেও শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাথার প্রচার সম্ভব।

এ ছাড়াও শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সমাবেশেও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গল্পচ্ছলে বললে শিক্ষার্থীরা এ বিষয় আয়ত্ত করতে পারবে। এ ছাড়াও অ্যাসেম্বলির সময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসসমূহ (২১ ফেব্রম্নয়ারি, ৭ মার্চ, ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ, ১৫ আগস্ট, ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর ইত্যাদি) সম্পর্কে ধারণা দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া গল্পচ্ছলে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলোর ওপর লিফলেট প্রচার করা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সংগ্রামী সূর্যসন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী। তাই জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা শিশুদের নবচেতনায় অনুপ্রাণিত করবে- নতুন আলোয় উদ্ভাসিত করবে। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত সেশন স্বাধীনতার চেতনার স্ফুরণ ঘটাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এতে করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকেও তারা সম্মান জানাতে শিখবে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ওপর অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে দেয়া বা রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বরচিত কবিতা ও গল্পের সমন্বয়ে স্মারক ম্যাগাজিন বা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপন প্রভৃতি কার্যক্রমে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেও মুক্তিযুদ্ধের সুমহান আদর্শের বিস্তার সম্ভব। অভিভাবকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। সরকারের নির্দেশনায় বিদ্যালয়গুলোতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্ণার থেকে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও মর্মবাণী আত্মস্থ ও উপলব্ধির সুযোগ পেতে পারে।

চূড়ান্তভাবে মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকমন্ডলীকে আন্তরিক হতে হবে, পরিবার থেকে সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও যথাযথভাবে উপরোক্ত কর্মসূচির বাস্তবায়নে সমন্বয় ঘটাতে হবে। এভাবে সবার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় একটি শিশুর মাঝে নতুন সত্তার, নতুন মনোজাগতিক বাস্তবতার এবং নতুন আত্মার উদ্বোধনের মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৃত দেশপ্রেমিক সুনাগরিক তৈরি করতে হবে।

\হউপজেলা নির্বাহী অফিসার

\হও

উপদেষ্টা, জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম

\হশেরপুর, বগুড়া।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে