logo
বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

  শারমিন হক   ১২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

সঙ্গীর বিষয়ে সতকর্তা

তরুণীদের আশপাশে অনেক পুরুষই ঘোরাঘুরি করে একটু মনোযোগ পাওয়া কিংবা বন্ধুত্বের আশায়। কিন্তু সবার উদ্দেশ্য তো আর সৎ নয়। তাই তরুণীদের উচিত বন্ধু নিবার্চনের ক্ষেত্রে সতকর্ হওয়া। না জেনেশুনে হুট করে খুব বেশি জড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় বন্ধুত্বের জালে। বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু তো বটেই অনেক সময় বান্ধবীরাও ডেকে আনতে পারে অনেক বড় বিপদ। তাই বন্ধু নিবার্চনে প্রয়োজন একটু সাবধানতার

সঙ্গীর বিষয়ে সতকর্তা
তরুণীদের উচিত বন্ধু নিবার্চনের ক্ষেত্রে সতকর্ হওয়া ছবি : ইন্টারনেট
ইদানীং আমাদের সমাজের অনেক তরুণীই হুট করে প্রেমের ফঁাদে পা দিয়ে দিচ্ছে। নিয়মিত প্রেমিক পরিবতর্ন, প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করছে অনেকেই। ফলে কম বয়সেই প্রেমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়ে যায় তাদের এবং ‘ভালোবাসা’ বিষয়টি এক ধরনের ছেলেখেলা মনে হয় তাদের কাছে। অনেকে আবার ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করার কারণে বø্যাকমেইলের শিকারও হচ্ছে অহরহ। তাই তরুণীদের উচিত হুট করে প্রেমের ফঁাদে পা বাড়িয়ে না দিয়ে নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করা।

পুরুষশাসিত এ সমাজে তরুণীরা এখনো অনিরাপদ। আমাদের সমাজ যেহেতু তরুণীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না তাই নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিজেদেরই সচেতন থাকা উচিত তরুণীদের।

আমাদের সমাজব্যবস্থায় তরুণীরা সবদিক থেকেই বেশ ঝুঁকিতে থাকে। কিছু হলেই পরিবার আর সমাজ আঙুল তোলে তরুণীদের দিকে। আর তাই নিজেকে সামলে চলতে না পারলে এ তারুণ্যই কাল হয়ে দঁাড়ায় তরুণীদের জন্য। জীবনে চলার পথে একজন তরুণীর বেশকিছু বিষয় সামলে চলা উচিত। জেনে নিন একজন তরুণীর নিজের নিরাপত্তার এবং জীবনে সাফল্য পাওয়ার জন্য কী কী বিষয় সামলে নেয়া উচিত সে সম্পকের্।

একজন তরুণীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ বিষয়টি হলো তার পড়াশোনা। পড়াশোনা করার এ সময়টা কোনো দিনও আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। আর তাই এ সময়ে সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত পড়াশোনাকে। তারুণ্যে পড়াশোনায় ফঁাকি দিলে ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাই তরুণীদের উচিত পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়া।

তারুণ্যে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত। তারুণ্যই নিজের ব্যক্তিত্ব গড়ার সময়। আর তাই এ সময়ে পোশাক-আশাক, চাল-চলন, ব্যক্তিত্ব, কথা বলার ভঙ্গিমা সবকিছুতেই নিজেকে প্রকাশ করুন একজন রুচিশীল তরুণী হিসেবে।

নিজের সঙ্গীকে খুশি করার জন্য অনেক কিছুই করে থাকেন সবাই। দামি কোনো উপহার দেয়া কিংবা তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া, অথবা ফুল/চকলেট কিনে দেয়া বা কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে যাওয়াÑ এসবই তাকে খুশি রাখার জন্য।

কিন্তু আপনি তো এ কাজগুলো সবসময় করতে পারছেন না। তাহলে আপনার কি উচিত নয় আপনার সঙ্গীর কিছু চাওয়া-পাওয়া পূরণ করা? অবশ্যই! হয়তো ভাবছেন এসবের ঊধ্বের্ আর কী করতে পারেন। এটুকুন কাজ করলেই কি সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না। কিছুটা সময়ের জন্য খুশি করা এবং সবসময়ের জন্য খুশি রাখার মধ্যে পাথর্ক্য রয়েছে। আর সবসময় খুশি রাখার জন্য আপনাকে খুব বেশি কষ্টও করতে হবে না, দিতে হবে না দামি কোনো উপহার। শুধু সঙ্গীকে একটু মানসিক সাহায্য করলেই চলবে। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কিভাবে নিজের সঙ্গীকে দিতে পারেন মানসিক সাহায্যের উপহারটি। তারুণ্য হলো একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ সময়। তারুণ্যকে আশীবার্দও বলা হয়। কিন্তু এ আশীবার্দই পরিণত হতে পারে অভিশাপে যদি তারুণ্যে নিজেকে সামলে চলা না যায়।

তরুণীদের আশপাশে অনেক পুরুষই ঘোরাঘুরি করে একটু মনোযোগ পাওয়া কিংবা বন্ধুত্বের আশায়। কিন্তু সবার উদ্দেশ্য তো আর সৎ নয়। তাই তরুণীদের উচিত বন্ধু নিবার্চনের ক্ষেত্রে সতকর্ হওয়া। না জেনেশুনে হুট করে খুব বেশি জড়িয়ে যাওয়া উচিত নয় বন্ধুত্বের জালে। বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু তো বটেই অনেক সময় বান্ধবীরাও ডেকে আনতে পারে অনেক বড় বিপদ। তাই বন্ধু নিবার্চনে প্রয়োজন একটু সাবধানতার।

আমাদের তরুণ সমাজ বতর্মানে নেশার মরণ ছোবলে আক্রান্ত। আর এ মরণ ছোবলের কবল থেকে বঁাচতে পারছে না তরুণীরাও। নেশাদ্রব্যের সহজলভ্যতা ও নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আগ্রহের কারণে অনেক তরুণীই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে উচ্ছন্নতা ও উগ্রতা গ্রাস করে ফেলছে তাদের। ফলে নষ্ট হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন ও চরিত্র। আর তাই তরুণীদের উচিত নেশা থেকে দূরে থাকা এবং নেশাগ্রস্ত বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করা।

সবচেয়ে প্রথম যে কাজটি করতে পারেন তা হলো সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনার চেষ্টা। যত কষ্টই হোক, প্রথমে নিজের সঙ্গীর কথায় মনোযোগ দিন। বোঝার চেষ্টা করুন তিনি কী বলতে চাচ্ছেন। নিজের চিন্তা-ভাবনা খানিকটা সময়ের জন্য হলেও সরিয়ে রেখে তার কথায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করুন। যা করছেন বা করছিলেন তা সঙ্গীর কথা বলার সময় বন্ধ রাখুন। তিনি কথা বললে সরাসরি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা শুনুন। তার কথা এড়িয়ে নিজের কাজে মনোযোগী হলে আপনি আপনার সঙ্গী এবং আপনাদের সম্পকর্ দুটোকেই অবহেলা করবেন। এতে আপনার সঙ্গী আপনার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন।

দ্বিতীয় যে কাজটি করবেন তা হলো সঙ্গীর কথা অনুসারে এবং তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সান্ত¡না দেয়ার চেষ্টা। এতে তিনি বুঝবেন যে আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং আপনি তার কথার মূল্য বোঝেন। তার মন ভালো করার জন্য কোনো কথা বলবেন না। কিংবা হাস্যকর কোনো কিছু করবেন না। এতে আপনার সঙ্গী আরো বেশি কষ্টে পড়তে পারেন। ভাবতে পারেন আপনি তার কথা শুনেও তার দুঃখকে বোঝার চেষ্টা করছেন না।

আপনি যদি তার কোনো কথার সঙ্গে তাল মেলান এর মানে এই নয় যে আপনি তার সব কথা একবাক্যে মাথা নেড়ে হ্যঁা বলে দিচ্ছেন। ধরুন সঙ্গী আপনাকে কোনো মুভি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। মুভিটি সম্পকের্ আপনার সঙ্গীর বক্তব্য ‘অনেক মজার এবং ভালো মুভি ছিল’। কিন্তু আপনার বক্তব্য ‘বোরিং’। যদি আপনি সরাসরি বলেন মুভিটি বিরক্তিকর ছিল এতে আপনার সঙ্গীর অনুভ‚তিতে আঘাত লাগবে। তার চেয়ে আপনার অনুভ‚তি একটু ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করুন। আপনি তাকে বলতে পারেন, ‘মুভিটি তোমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে, কিন্তু আমার কাছে অতটা ভালো লাগেনি। তোমার দেখতে ভালো লাগলেই ভালো’। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে এভাবে ইতিবাচকভাবে নিজের অনুভ‚তি ব্যাখ্যা করুন।

কথায় বলে মানুষের আসল অনুভ‚তি জানা অনেক কঠিন কাজ। কিন্তু মোটেই তা নয়। একটু ধৈযর্ ধরে প্রশ্ন করলে অনুভ‚তি প্রকাশ পায়। মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনে প্রাসঙ্গিক কোনো বিষয়ে ভালো করে প্রশ্ন করে বের করতে চেষ্টা করুন আপনার সঙ্গীর অনুভ‚তি কোন দিকে কাজ করছে। এতে আপনি তার অনুভ‚তির মূল্য বোঝেন তা আপনার সঙ্গীর কাছে উপস্থাপিত হবে। এর চেয়ে বড় মানসিক সহায়তা আর হতে পারে না।

ধরুন আপনার সঙ্গী আপনাকে কিছু কথা বলেছেন বা নিজের কোনো সমস্যা বলছেন যা আপনি ভালো করেই বুঝছেন। কিন্তু আপনি নিজে বুঝে তার কাছে তা প্রকাশ না করলে আপনি তাকে মানসিকভাবে সাহায্য করছেন না। আপনি তার কাছে প্রকাশ করুন যে আপনি তার কথা বুঝছেন বা আপনি তার কষ্ট অনুভব করতে পারছেন। মুখে না বললে কোনো কিছুই প্রকাশ পায় না। তাই যতই চাপা স্বভাবের হয়ে থাকুন না কেন প্রকাশ করুন সঙ্গীর কাছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে