logo
  • Fri, 16 Nov, 2018

  অনলাইন ডেস্ক    ০৯ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

টিনএজদের রঙিন জগৎ

টিনএজদের রঙিন জগৎ
টিনএজ সময়ে একটি মেয়ের মধ্যে ভালো লাগার অনুভ‚তি জাগতেই পারে মডেল : ফারজানা তনিমা

ছবি ঘোষ বয়ঃসন্ধিকাল প্রতিটি মানুষের জীবনে বয়ে আনে প্রশান্তির সুবাতাস। সময়টা পাগলা ঘোড়ার মতো এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে। পাগলা ঘোড়ার যেমন লাগাম টেনে ধরার কৌশল জানা না থাকলে তাকে যেমন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তেমনি এই টিএনএজকে হস্তে কুক্ষিগত করতে না পারলে জীবনে অনেক মূল্য দিতে হয়। সেই মূল্যায়ন হতে পারে সুখকর আবার হতে পারে সমুদ্রের অথৈ জল। প্রত্যেক মানুষকে এই বহমান নদীটি পার করতে হয় অত্যন্ত সূক্ষè দৃষ্টি রেখে। আবেগের ঘনঘটা থাকে সবর্ত্র। অপ্রিয়কে প্রিয় করার বাসনা সত্যিই ভাবনার বিষয় হয়ে দঁাড়ায়। টিনএজ সময়টাতে বুদ্ধি থাকলেও বিবেচনা করার মতো মানসিকতা থাকে না। ভালো-মন্দ বুঝে ওঠার ক্ষমতা অনেকটা কম থাকে। পৃথিবীর সব সৃষ্টি এই সময় অত্যন্ত মধুর হয়ে উঠে। সবাইকে প্রিয় মনে হয়। মনে হয় পাখির মতো যদি ডানা থাকে তবে আকাশের বুকে ঘর বাধার সাধটা কম নয়। সাধারণত এই সময়টা, মনটা অনেক সফট থাকে। এই বয়সের তরুণ-তরুণীদের চোখে একটা রঙিন চশমা পরিয়ে দেয়া হয়। তাদের ভাবনাগুলো হয় প্রিয় কাল্পনিক। আবেগের উচ্ছ¡াসে হাবুডুবু খায় প্রত্যেক তরুণ-তরুণী। সমাজের অনগ্রসরতা রুখতে চায় এই মন। টিএনএজ সম্পকের্ সাধারণত অনেক বাধার পাহাড় পাড়ি দিতে হয়। বাস্তবতা সম্পকের্ তাদের ধারণাটা খুব কম পরিলক্ষিত হয়। সময়টা পার হয় কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্য থেকে। সিদ্ধান্ত নেয়া যেমন কঠিন হয়ে পড়ে তেমনি অনেক সময় সিদ্ধান্তগুলো ভুল থাকে। সময়ের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত থাকে হুট করেই প্রেমে পড়া। কারণ আবেগ এতটা বেশি থাকে যে, কোনো মেয়ে না বুঝেই প্রেম নামক বিষয়টির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে অথবা অবচেতনভাবে কাউকে ভালো লেগে গেলে তাকে নিয়ে ভাবনা শুরু হয়ে যায়। উড়িয়ে দেয় স্বপ্নের রঙিন ফানুস। শুধু ফানুস উড়িয়েই সে শান্ত থাকে না। তার সব চিন্তাভাবনা, ধ্যানধারণা ও নানারকম মনোবৃত্তির মধ্যে লুকায়িত থাকে তার ওই প্রেম জগৎটি নিয়ে। তার এই কাল্পনিক জগৎ নিয়ে ভাবনার অন্ত থাকে না। লেখাপড়া, খাওয়া, ঘুম ত্যাগ করে সেই প্রিয় মানুষটির ভাবনায় বিভোর থাকে কোমল মনটি। পিছিয়ে পড়ে তার লক্ষ্যস্থান থেকে। পরিবারের সদস্যরা থাকে নিদারুণ ভাবনায়। শাওন মোল্লা এবার জিপিএ-৫ পেয়ে রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভতির্ হয়েছে। তার সাথে কথা হলো। সে অকপটে বলল, কলেজে যেদিন প্রথম ক্লাস করতে গেলাম সেদিন থেকে একটি মেয়েকে ভালো লেগেছিল। তার পর তার জন্য একটা নতুন জগৎ তৈরি হয়। আমার এই সময় খাওয়া-দাওয়াও কিছু ভালো লাগছিল না। পরে আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে কথাটি জানালাম। আমি যখন ম্যাচিউরড হব তখন আমার ভালো লাগার মানুষটিকেই বিয়ে করব বলে আমার বন্ধু আমাকে পরামশর্ দিয়েছিল। বন্ধুর ওই পরামশর্ শুনতে ইচ্ছা করে না তবুও তার কথা মেনে নিলাম। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মাইসা ইসলাম কাবিরা তার অনুভ‚তি শেয়ার করল এইভাবে, আমার মনে হয় এ সময়টায় সবাই একবার প্রেমে পড়ে। আমাদের ডিবেডিং ক্লাবের এক ভাইয়াকে আমার খুব ভালো লাগত। মনে মনে তাকে ভালোবাসতাম। পৃথিবীর কাউকে বলার সাহস পাইনি। যাকে ভালোবাসি তাকেও না। নবম শ্রেণীর ছাত্রী আরিফা সুলতানা বলল, আমি যে তাকে ভালোবাসি এটা প্রথমে বান্ধবীরা জানত। তারপর আব্বু-আম্মুর কানে আসতেই আমার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। তারা ব্যাপারটা মানছেন না। সারাক্ষণ বকাবকি করেন। সেলফোনটা নিয়ে গেছে। ঘরে-বাইরে খুব শাসন করেন। আম্মু সারাক্ষণ সঙ্গে সঙ্গে থাকেন। সবাই ওকে ভুলে যেতে বলেন। আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারছি না। পিএন গালর্স স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ফারলিনা তাবাসুম ফারিহা জানালো তার ভালোলাগার কথা। সে বলল, আমার এক কাজিনকে খুব ভালোবাসি কিন্তু সে জানে না। তার সঙ্গে প্রায়ই আমার কথা হয়। কথার মধ্যে ভালোবাসার কোনো কথা থাকে না। আমার মনে হচ্ছে তাকে না পেলে অনেক কষ্ট পাব। টিনএজ প্রেমকে সমথর্ন করে না নিউগভনের্মন্ট কলেজের একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর ছাত্রী শোভা কানিজ। সে বলল, যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন পাড়ার এক বড়ভাইকে পছন্দ করতাম। দুজন-দুজনকে ভালোবাসতাম। মনে হয়েছিল তাকে না পেলে বঁাচব না। পরে বুঝতে পেরেছিলাম সেই পথটা ভুল ছিল। শুভ এবার সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি দিবে। সে বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষাথীর্। টিএনএজ লাভ সম্পকের্ তার মা মরিয়ম বেগম জানান, শুভ যখন আনমনে কিছুক্ষণ পর পর বেলকনিতে গিয়ে দঁাড়াত তখন আমি কিছুটা অঁাচ করতে পেরে ওকে সবসময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতাম। বেড়াতে নিয়ে যেতাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল ও যেন কাজের মধ্য থেকে মেয়েটিকে ভুলে যায়। আর ভুলে না থাকলে তাকে অনেক কষ্ট পোহাতে হবে ভেবে মা হিসেবে আমি তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে পেরেছি। কায়সার চৌধুরী একজন বাবা। তিনি বললেন, যে বয়সে একটি মেয়ে পড়াশোনা করে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়ার চিন্তা করবে, তা না করে সেই বসয়ে একটি ছেলেকে পছন্দ করে সারাক্ষণ তাকে নিয়ে চিন্তা করবে এটা তো আমি মা হিসেবে মেনে নিতে পারি না।’ আমি এটা কখনো ভালো চোখে দেখি না। যে বয়সে ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা হয় না সেই বয়সে জীবনের একটি সিদ্ধান্ত নেয়া! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কানিজ কেয়া। তিনি তার মতামত প্রকাশ করলেন এইভাবে, টিনএজ সময়ে একটি মেয়ের মধ্যে ভালো লাগার অনুভ‚তি জাগতেই পারে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং না জাগাটাই অস্বাভাবিক। আগে আমাদের দেখতে হবে, একটি মেয়ে পারিবারিক বন্ধন ছেড়ে কেন অন্য একটি ছেলের জন্য দুবর্ল হবে? এ জন্য আমি সম্পূণর্ দায়ী করব মেয়েটির পরিবারকে। কারণ পরিবার থেকে তার যে ভালোবাসা পাওয়া উচিত সেটা সে পায় না। সে তার পরিবারের ওপর নিভর্র করতে পারছে না। পরিবারকে সে ভয় পায়। সে তার সমস্যাগুলো পরিবারকে বলতে পারে না। টিনএজ সময়ে একটি মেয়ের মনে পরিবতর্ন ঘটে। তখন যদি কাউকে ভালো লাগে তখন সে ভালো লাগার মানুষটিকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে ভেসে বেড়ায়। পরিবারকে খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন বাস্তবে চলে না আসে। এ ব্যাপারে পরিবারকে সতকর্তার সঙ্গে মিশে মেয়েটিকে বুঝাতে হবে। এখানে পরিবার থেকে তাকে শাসন করা হলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। পরিবার থেকে মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। কখনো দেখা যায়, মেয়েটি তার মাকে বলতে পারছে না, সে একটি ছেলেকে পছন্দ করে। কারণ সে তার মাকে ভয় পায়। পরিবারে শুধু মা-বাবাকে দায়িত্ববান হতে হবে। টিএনএজ নিয়ে সব পরিবার একটু উদ্বিগ্ন থাকে এটাই স্বাভাবিক। এই টিএনএজারগুলো যখন বাস্তব জীবনে পদার্পণ করবে তখন তারা বুঝতে শিখবে তারা কি করছিল আর কিবা করা উচিত। তবে সব কিছুর ঊধ্বের্ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির শোচনীয় পরিবতর্ন উতরিয়ে ব্যাপকতার দিকে ছুটতে হবে। একটি সুস্থ জাতি ও দেশ গঠনের ক্ষেত্রে এই টিএনএজারদের ভ‚মিকা প্রশংসার দাবিদার। প্রেম ভালোবাসা প্রত্যেক মানুষের অন্তরে লালিত হয়, হবে এটাই বাস্তবতা। তবে সেইটা যেন পরিপক্ক হয় সেই লক্ষ্যে প্রত্যেক তরুণ-তরুণীদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে