logo
সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

  আলীজা ইভা   ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

রুচিশীলতার ছেঁায়ায় তারুণ্য

রুচিশীলতার ছেঁায়ায় তারুণ্য
রুচিশীলতা তারুণ্যের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে ছবি : ইন্টারনেট
রেডিমেড স্যুট না কিনে নিজের মাপে বানিয়ে নিতে পারেন। একেবারে নিজের মাপে স্যুট হবে। কঁাধের মাপ, হাতের মাপ, বুকের মাপ, সঠিক আকারের লম্বা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। একটু বেশি লম্বা অথবা একটু বেশি খাটো হলেই আপনার স্যুটটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। রেডিমেড স্যুট আপনার গায়ে যতই ফিট থাকুক না কেন পুরোপুরিভাবে তা মানানসই হবে না। তাই রেডিমেড স্যুটের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ভালো কাপড়ের স্যুট বানাতে দিন। পোশাকে আভিজাত্য আনতে স্যুটের বিকল্প নেই। শীতের সময় স্যুটের ব্যবহারটাও বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্যহারে। যে কোনো পাটিের্ত স্যুট পরা এক ধরনের ফ্যাশন ট্রেন্ড হয়ে দঁাড়িয়েছে। তবে স্যুটের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় রয়েছে যা না মানলে পুরো ইমেজটি নষ্ট হয়ে যায়। সচেতন না হলে আপনি হয়ে যেতে পারেন একজন ‘ফ্যাশন ডিজাস্টার’। তাই স্যুট তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সাধারণ ফমার্ল প্যান্টের মতো স্যুটের প্যান্টে প্লেট থাকে না। স্যুটের প্যান্ট প্লেট ছাড়া হয়। সাধারণ ফমার্ল প্যান্টের মতো ভঁাজের (প্লেটের) পরিবতের্ সোজা ছঁাট দিতে ভুলবেন না। এই বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে

স্যুটের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হচ্ছে দুটি বোতাম। আপনার শারীরিক গড়ন যে ধরনেরই হোক না কেন লম্বা বা খাটো দুই বোতামের স্যুট মানিয়ে যাবে। এটি বতর্মানের স্ট্যান্ডাডর্ স্টাইলও বটে। তাই স্যুট তৈরির ক্ষেত্রে দজিের্ক মনে করিয়ে দিন আপনার পছন্দের বিষয়টি

স্যুটের ক্ষেত্রে কিছু নিদির্ষ্ট রং রয়েছে, তার ভেতর থেকে মানানসই রং বেছে নিন। অ্যাশ, কালো, গ্রে, সাদা, গাঢ় পীত ইত্যাদি রঙের বিভিন্ন শেডেই স্যুটের কাপড় মানানসই হবে। লক্ষ্য রাখবেন স্যুটের কাপড়ের রং যেন বেশি ঝলমলে না হয় এবং আপনার গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই হয়। পাটির্ এবং প্রফেশনের ক্ষেত্রে আলাদা ধরনের রং ব্যবহার করতে পারেন।

একটি সঠিক মাপের স্যুটের হাতা আপনার হাতের অনুযায়ী তৈরি হবে। হাতা কখনো কবজির নিচ পযর্ন্ত যাবে না। স্যুটের হাতের সঠিক মাপ হলো আপনার শাটের্র হাতের মাপের চেয়ে একটু খাটো যা সাধারণত কবজির ওপরই থাকে। এ ব্যাপারে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন।

মানুষ নিজ জীবনের মাধুযর্ ও সৌন্দযর্ অটুট রাখতে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত। ব্যস্ততার ধারায় ঋতু বৈচিত্র্যের পালাবদলে ক্রেতাদের ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিবতর্ন ঘটে। এই ট্রেন্ডকে অনুসরণ করেই এগিয়ে চলে ফ্যাশন হাউসগুলো। কিন্তু কিছু পোশাক কখনো যেন পুরনো হয় না, বরং বেড়ে চলে চাহিদা। তেমনি একটি ফ্যাশন অনুষঙ্গ জিন্স প্যান্ট।

মোটা কটন কাপড়কে জামার্ন ভাষায় বলা হয় জিনিয়া। যা বতর্মানে জিন্স হিসেবে পরিচিত। জিন্সের প্রথম ব্যবহার শুরু হয়েছে আমেরিকার ওয়েস্টানর্ কাউবয়দের থেকে। তারা দীঘর্স্থায়িত্বের জন্য এটা পরতো বলে ধারণা করা হয়। তবে ১৮৭২ সালের কিছু সময় পরে জামার্ন কাপড় ব্যবসায়ী লেভি স্ট্রস নামের এক ব্যক্তি জিন্স প্যান্টের বাটন, হুক এবং ব্যাকপকেটের প্রথম ডিজাইন করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় জনপ্রিয় জিন্স প্যান্টের ব্যবহার।

জিন্সের আদিরূপ হয়তো যুগে যুগে পরিবতির্ত হয়েছে কিন্তু জনপ্রিয়তা কমেনি। বিংশশতকে এসে দেখা গেল বেশির ভাগ সেলিব্রেটির প্রথম পছন্দ জিন্স আর টি-শাটর্। এশিয়ার সেরা চারের একজন মডেল আসিফ আজিমের প্রিয় পোশাক জিন্স, টি-শাটর্। তাই বলা চলে তারুণ্যের জয়গান গাইতেই যেন আজ জিন্সের এই অগ্রযাত্রা।

ক্যাম্পাস কিংবা আড্ডায় জিন্স প্যান্টের বিকল্প নেই। তরুণ-তরুণীদের কাছে জিন্স প্যান্ট প্রথম পছন্দের পোশাক, বাদ যায় না বৃদ্ধ এবং শিশুরা। অবশ্য বিভিন্ন পাটিের্ত আজকাল জিন্সের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। রুচি এবং চাহিদার প্রেক্ষিতে জিন্স প্যান্টের রয়েছে রকমভেদ। যেমন ব্যাগি জিন্স, ন্যারো শেপ, স্ট্রেট, স্টিচ ইত্যাদি। ফুটপাথ থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সগুলোয় জিন্সের চমকপ্রদ সমাহার।

আগে জিন্স প্যান্ট মানেই ছিল নীল রং, কিন্তু বতর্মানে জিন্সের রয়েছে বহু রং এবং স্টাইল। বতর্মান সময়ে বøু জিন্স ছাড়াও চোখে পড়ে লাল, সবুজ, কালো, হলুদ, কমলা রঙের জিন্স, তারুণ্যের সঙ্গে মানিয়েও যাচ্ছে বেশ। দেশেই প্রস্তুত হচ্ছে উন্নতমানের জিন্স প্যান্ট। ফলে পযার্প্ততার কারণে দামও সাধ্যের মধ্যে। জিন্সের প্যান্টগুলো ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় নগরীর বিপণি বিতানগুলোয়। স্মাটের্ক্স, ব্যাঙ, ইজি, মেনজক্লাব, স্বপ্ন চ‚ড়া প্রভৃতি ফ্যাশন হাউসসহ সব হাউসেই দেখা মেলে নিত্যনতুন ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট। শুধু নিজের সাধ্য এবং রুচি অনুযায়ী বেছে নিলেই হলো।

পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক বেøজার নয়, ক্যাজুয়াল বেøজারই বেশি চলছে বাজারে। চামড়ার জ্যাকেটে আছে নানা রঙের খেলা। ইস্পাতের বোতামের ব্যবহার জ্যাকেটগুলোকে আরও আকষর্ণীয় করে তুলেছে। চামড়ার এক রঙের জ্যাকেট ছাড়া আছে চেকের নকশার জ্যাকেট। কোনোটিতে আবার কাপড়ের সঙ্গে চামড়ার ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেনিম কাপড়ের তৈরি নানা ধরনের বেøজার চলছে এবারও। নতুন ট্রেন্ড হিসেবে মখমলের নকশা করা বেøজার এসেছে এবার। জ্যাকেট ও সেমি-স্যুট ধঁাচের এসব মখমলের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন উজ্জ্বল রঙের প্যান্ট।

একের ভেতর দুই অথার্ৎ অফিসে পরা যায় আবার বাইরে কোনো পাটিের্তও ঠিকমতো মানিয়ে যায়, এমন বেøজার কিনছেন অনেকে। জ্যাকেট বা বেøজারের ভেতরে আগে একটা সাধারণ কাপড় ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এবার সেখানে নকশার অংশ হিসেবেই দেখা যাচ্ছে বৈচিত্র্য, যেহেতু গরম কাপড় মানেই এখন আর মোটা কাপড় বোঝায় না। এ ছাড়া তরুণরা চান, শীতের কাপড়ে যেন ফ্যাশনটাও হয় ঠিকঠাক। আর তাই তো এখন বাজারে হালকা গরম কাপড়ের কাটছঁাটে বৈচিত্র্যের অভাব নেই। শুধু জিন্স আর টি-শাটর্ তো এই সময়ে চলবে না, এখন চাই একটা বাড়তি পোশাক যেমন ধরুন জ্যাকেট বা বেøজার। তরুণদের চাহিদা মাথায় রেখে জ্যাকেট বা বেøজারেও এসেছে পরিবতর্ন। বেøজারের কাপড়, কাটছঁাট, বোতাম, রং ইত্যাদি বিষয়ে এবার বৈচিত্র্যের ছেঁায়া লেগেছে বেশি। জিন্স, চামড়া, সুতির বাইরে এবার নতুন এসেছে মখমলের জ্যাকেট বা কোট।

আমাদের দেশে খুব কম সময়ের জন্যই জঁাকানো শীত পড়ে। তাই মাথা থেকে পা পযর্ন্ত নিজেকে শীতের পোশাকে মুড়িয়ে রাখাটা পছন্দ করেন না ফ্যাশন-সচেতন তরুণরা। অনেকেই ভেতরে একটা টি-শাটর্ বা শাটর্ পরে তার ওপরে শীতের পোশাক পরে।

চামড়ার জ্যাকেট কেনা যাবে ২০০০ থেকে ৬০০০ টাকায়। বেøজারের দাম পড়বে ১৮০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, গ্যাবাডির্ন কাপড়ে তৈরি বেøজারের দাম পড়বে ১২০০ থেকে ৩০০০ টাকা, রেইনকোটে যে ধরনের কাপড় ব্যবহার হয় তেমন চকচকে পানিরোধী উপাদানে তৈরি পাতলা জ্যাকেটের দাম পড়বে ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, মখমলের বেøজারের দাম পড়বে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে, মোটা সুতি কাপড়ের বেøজারের দাম ৫০০০ টাকার মধ্যে। খাদি কাপড়ের তৈরি বেøজারগুলোর দাম শুরু ১২০০ টাকা থেকে।

রাজধানীর ফ্যাশন হাউস ওটু, আটিির্স্ট, ফ্রিল্যান্ড, ক্যাটস আই, একস্ট্যাসি, স্মাটের্ক্স, প্লাস পয়েন্ট, তানজিম স্ট্রিট, ইনফিনিটিসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাবেন। এ ছাড়া ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মাকের্ট, বঙ্গবাজার, ইসলামপুর, বদরুদ্দোজা সুপার মাকের্ট, প্রিন্স প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিং মলে পাওয়া যাবে বেøজার বা জ্যাকেট।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে