logo
সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬

  রাখি মাহবুবা   ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

নেইলপলিশ দিয়ে বর্ণিল সাজ

নেইলপলিশ দিয়ে বর্ণিল সাজ
নেইলপলিশ কখনই ফ্রিজে রাখবেন না তাতে পলিশে কেমিক্যালগুলো আলাদা হয়ে যায়। আলো ছাড়া ঠান্ডা জায়গায় রাখুন, পলিশ অনেকদিন ভালো থাকবে।

পলিশ দেয়ার আগে ঝাঁকাবেন না। দুই হাতের তালুর মধ্যে নিয়ে রোল করে ওয়ার্ম আপ করুন। তাতে পলিশে বাবল হবে না এবং মসৃণ হবে।

পলিশ দেয়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না, হাতে ৩০ মিনিট সময় নিয়ে পলিশ দিতে বসুন।

যারা নিয়মিত পলিশ লাগান তাদের জন্য ৭ দিনের বেশি এক পলিশ নখে না থাকাই ভালো। সপ্তাহে একবার চেঞ্জ করুন। মাঝেমধ্যে নেইল আর্ট করলে সেটা চাইলে ২ সপ্তাহ রাখা যায়।

পলিশের গন্ধটা কিন্তু শরীরের জন্য ভালো না তাই দেয়ার সময় দরজা-জানালা খুলে বা খোলা কোনো জায়গায় দেয়া ভালো।

যাদের পলিশ দিতে গেলে হাত কাঁপে এবং ম্যাসি হয়ে যায় তারা পলিশ দেয়ার আগে একটু ভ্যাসলিন লাগিয়ে পলিশ দেয়া শুরু করুন তবে নখে যেন না লাগে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে পলিশ লেগে গেলেও ভ্যাসলিনের কারণে চামড়ায় লাগবে না।

সুন্দর করে সাজের পরে যদি দেখা যায় হাতের নেইলপলিশটাই হয়ে আছে এবড়ো-খেবড়ো তা হলে তো পুরো সাজটাই মাটি। তা ছাড়া সুন্দর করে নেইলপলিশ দেয়াটাও কিন্তু একটি গুণের মধ্যে পড়ে, আর যারা নিজের সাজ নিয়ে একটু খুঁতখুঁতে তাদের তো একটি পারফেক্ট ম্যানিকিউর দরকারই। নেইলপলিশ তো আমরা সবাই লাগাই কিন্তু নেইলপলিশ লাগানোরও যে কিছু পদ্ধতি আছে সেগুলো কয়জনই বা জানি? এ ছাড়া সব সাজগোজের জিনিসেই কিছু না কিছু কেমিক্যাল থাকে সেই মতে নেইলপলিশেও কিছু কেমিক্যালের উপস্থিতি রয়েছে। সঠিকভাবে এর প্রয়োগ না করলে সেটা আপনার নখকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলতে পারে। তাই আসুন জেনে নিই নেইলপলিশ দেয়ার সঠিক পদ্ধতি। পুরনো পলিশ রিমুভার দিয়ে উঠিয়ে ফেলুন। নখের শেপ ঠিক না থাকলে ফাইলার দিয়ে ঘষে ফাইল করুন। এ ক্ষেত্রে কাগজের ফাইলার ব্যবহার করা উত্তম।

ক্লিপার দিয়ে নখের চারপাশের বাড়তি চামড়া কেটে নিন এবং কিউটিকল পুশার দিয়ে নখের কিউটিকলগুলো ঠেলে ভেতরে ঢুকিয়ে দিন। চাইলে এই স্টেপে নখের একটু যত্ন নিয়ে ফেলতে পারেন। হালকা গরম পানিতে একটু শ্যাম্পু আর লবণ দিয়ে ৫ মিনিট ভিজিয়ে ব্রাশ দিয়ে ঘষলেই নখটা বেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে অথবা হাতটা ধুয়ে একটু লেবু ঘষে নিতে পারেন।

হাত ভালো করে শুকিয়ে গেলে যে কোনো জীবাণুনাশক লাগিয়ে নিন একটু তুলোতে করে। আমি লাগাই হেক্সাসল। এতে নখের বাড়তি তেলও চলে যাবে।

ভালো মানের একটি বেইস কোট থাকতে হবে। আমরা অনেকেই বেইস কোটের প্রয়োজনীয়তা জানি না বা জানলেও ব্যবহার করি না। নিয়মিত নেইলপলিশ ব্যবহারের ফলে আমাদের নখে হলুদাভ একটি বর্ণ ধারণ করে। বেইস কোটের একটি প্রলেপ থাকলে কিন্তু সেই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ ছাড়া পলিশের কেমিক্যালটাও সরাসরি নখে লাগে না। তাই ১ পরত বেইস কোট লাগান এবং ভালোভাবে শুকান।

বেইস কোটের পরে পাতলা করে ২ কোট পছন্দের কালারের পলিশ লাগাবেন। ছবির মতো করে প্রথমে ব্রাশে পলিশ নিয়ে নখের মাঝ বরাবর স্থাপন করে একটি স্ট্রোক টানুন এবং পর্যায়ক্রমে ডানে ও বামে দুইটা স্ট্রোক দিয়ে পলিশ দেয়া শেষ করুন। এক-ই পদ্ধতিতে ২ বার লাগান। খেয়াল রাখবেন খুব বেশি ঘন করে যেন পলিশ লাগানো না হয় তাতে পলিশ শুকাতে সময় লাগবে এবং স্মাজ হয়ে যেতে পারে।

নেইলপলিশ দেয়ার পরে নখের প্রান্তটি পলিশ দিয়ে লক করে দিন (দেখে নিন ছবিতে) তাতে পলিশ সুরক্ষিত থাকবে অনেকদিন।

এখন চাইলে আপনি করতে পারেন সুন্দর একটি নেইল আর্ট, না করলেও সমস্যা নেই।

২ পরতের পলিশ ভালোভাবে শুকানোর পরে একটি ভালো মানের টপ কোট লাগান। অনেকেই মনে করেন শুধু নেইল আর্ট করলেই টপ কোট লাগাতে হয়। আসলে নেইল পলিশ দেয়ার ফিনিসিংটাই হলো টপ কোট। এতে আপনার নেইলপলিশ হাতে টিকবে বেশিদিন আর পারফেক্ট ম্যানিকিউরের উজ্জ্বলতা পাবেন। ছবিতে টপ কোট দেয়ার আগের এবং পরের ছবি দেয়া হলো-

নখের চারপাশে পলিশ লেগে গেলে সেগুলো কটন বাড দিয়ে রিমুভারের সাহায্যে তুলে ফেলুন।

এবার নখ শুকানোর পালা। মোটামুটি ৪ পরত পলিশ আপনার হাতে। এখন এটা কিন্তু এত সহজে শুকাবে না। শুকানোর জন্য আপনি নিচের পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন-

পলিশ দেয়ার ৫ মিনিট পরে নখটা যখন হাত দিয়ে ধরার উপযোগী হবে তখন বরফ ঠান্ডা পানিতে কিছুক্ষণ নখ ডুবিয়ে রাখুন। দ্রম্নত পলিশ শক্ত হয়ে যাবে।

বেস্না ড্রায়ার যেটাতে ঠান্ডা বাতাসের অপশন আছে সেটা ব্যবহার করতে পারেন, তবে গরম বাতাসে নয় তাতে পলিশে বাবল হতে পারে অথবা উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ব্যস হয়ে গেল একটি পারফেক্ট ম্যানি। এবার বেরিয়ে পড়তে পারেন মনের আনন্দে যেখানে খুশি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে