logo
শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

সংবাদ সংক্ষেপ

বর্ণিল আহ্বান

উনিশ-বিশ ডেস্ক

শুষ্ক মৌসুমে দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, ফসলি মাঠ শুকিয়ে গেলে অনাবৃষ্টিতে অনেক সময় হতাশা দেখা দেয় আমাদের দেশের চাষিদের মধ্যে। বিশেষ করে বৈশাখের আচানক বৃষ্টিও যখন দুর্লভ হয়ে ওঠে, তখন চলে কাদামাটি খেলা। নামে কাদামাটি খেলা হলেও এটি আসলে আমাদের লোকজীবনের সংস্কার থেকে উদ্ভূত এক ধরনের আচার-অনুষ্ঠান। সংস্কার থেকে লোকের ধারণা জন্মায়, অনাবৃষ্টির সময়ে মেঘকে আমন্ত্রণ জানালে তা মাটির বুকে নেমে আসবে এবং শস্য ফলাবে। ধর্মতুল্য জাদুবিশ্বাস থেকে উদ্ভূত সংস্কারটি খেলার মোড়কে সুদীর্ঘকাল ধরে আমাদের অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে। অনাবৃষ্টির দিনগুলোয় ছেলেমেয়ের দল বাড়ি বাড়ি ঘুরে এক ধরনের ছড়া আবৃত্তি করে আর গৃহস্থরা তাদের গায়ে পানি ঢেলে দিলে সবাই মিলে উঠানে গড়াগড়ি খায়। জল মাগা ছড়াটি এ রকম- 'তেঁতুল-বিচি পেখম ধর/গুড়ুম গুড়ুম বাদল ঝর।/ফাটা আসমান ছিলাইয়্যা দে/গুটি-সুতা নাই'। এ রকম আরো কিছু আনুষ্ঠানিকতানির্ভর খেলা আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কথা ধরা যাক। এখানকার ছোট ছোট উলঙ্গ ছেলেমেয়ে বৈশাখের অনাবৃষ্টির দিনে একটি ভাঙা কুলা মাথায় নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করতে যায়। কুলায় বোঝাই থাকে কুনো ব্যাঙ, কিছু পাকা মরিচ, ধান-দূর্বা ও শুকনো বরইগাছের ডালপালা। প্রতিটি বাড়ির বউ-ঝিয়েরা এদের কুলার ওপর কলস থেকে পানি ঢেলে দেয়। আর মাটিতে পড়া এই পানির ওপর ছেলেমেয়েরা তখন গড়াগড়ি খেতে খেতে বলে- 'মেঘ রাজা রে, তুই আমার সহোদর ভাই/এক ঘটি মেঘের লাগি দুয়ার ভিজ্যা যায়...' ইত্যাদি। শুধু এ রকমটি যে রয়েছে তা নয়, দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বৈশাখী খরায় পড়লে বৃষ্টিকে আমন্ত্রণের জন্য বদনা, ব্যাঙ ও পুতুলের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

বিশেষ ঐতিহ্য

উনিশ-বিশ ডেস্ক

ইতিহাসের সূত্র ধরে বলা যায়, যেদিন সম্রাট আকবর প্রবর্তিত অভিনব বাংলা সনের ধারা এই বাংলার বুকে প্রোথিত হলো, সেদিন থেকে বৈশাখী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে নিল বাঙালি। বিচিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের লীলাভূমি এই বাংলায় আগে থেকে এমন অনেক খেলা প্রচলিত ছিল, যা বৈশাখের নতুন দিনগুলোকে বরণ করে নেয়ার জন্য অনুষ্ঠিত হতো। নববর্ষ উদযাপনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে যে খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হতো ঘটা করে, তার বাইরেও বাংলার ছেলেমেয়েরা অনেক খেলাকে নিজেদের চিত্তবিনোদনের সঙ্গী করে নিত। বলা বাহুল্য, এ ক্ষেত্রে বৈশাখ তথা নববর্ষের আমোদের দিনে এ উপলক্ষে আয়োজিত মেলাই ছিল বড়সড় ধরনের বিনোদন ক্ষেত্র। মেলার রংচঙে চরকি, নাগরদোলায় চড়ে কে না সুখ পায়। আরো যদি থাকে বিভিন্ন রকম সঙের হর্ষমুখর আনাগোনা, থাকে পুতুলনাচের আয়োজন আর বায়োস্কোপের সরব উপস্থিতি, তাহলে তো কথাই নেই। বৈশাখের দিন মাঠঘাট শুকনো থাকে, তাই মনের আনন্দে যেখানে সেখানে ইচ্ছামতো খেলা যায়। কিছু খেলা রয়েছে শুধু চৈত্র-বৈশাখের দিনগুলোয় খেলা যায়, আবার কিছু রয়েছে সারা বছরই খেলা যায়, অথচ শুষ্ক মৌসুমে না খেললেই নয়। কিছু লোকক্রীড়া রয়েছে, যেগুলো সারা বছরই খেলা যায় এবং স্থানীয়ভাবে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে, সেগুলোও বৈশাখী দিনের আমোদের সঙ্গী হয়। চৈত্র-বৈশাখের শুষ্ক দিনে লৌকিক আচারসর্বস্ব কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ খেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেগুলোর সঙ্গে চাওয়া-পাওয়ার যোগ থাকে। এগুলোর বেশ কয়েকটিকে খেলা হিসেবে ধরা যেতে পারে।

উৎসবে আমোদ

উনিশ-বিশ ডেস্ক

লোকবিশ্বাসজাত খেলার নাম 'যাক গান'। অনুষ্ঠানভিত্তিক এ খেলা পরিবেশনরীতির চমৎকারিত্বের জন্য অনেকের কাছে বেশ আদরণীয়। সাঙ্গীতিক দ্যোতনা বেশি থাকলেও মূলত এটি একটি খেলা। শুধু গান যে পরিবেশিত হয় এতে তা নয়, কিছু উপাদানের উপস্থিতিও থাকতে হয় 'যাক' গান'-এ। পহেলা বৈশাখের ভোরে বাচ্চারা সবাই মিলে চৈত্রের ঝরাপাতা দিয়ে প্রথমে কুন্ডলী পাকায়। এরপর তারা সমস্বরে গান ধরে। গানের বিষয়বস্তু একটাই- নিজেদের দুঃখ-অভাব বিত্তবানদের বাড়িতে যাক, বিত্তবানদের সব ব্যবহার্য সামগ্রী, আসবাব, অর্থ-সুখ যেন তাদের বাড়িতে চলে আসে। বৈশাখ উদযাপনের জন্য বাংলাদেশের কোথাও কোথাও এখনো আয়োজন করা হয় ষাঁড়ের লড়াইয়ের। দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ খেলাটির সঙ্গে গ্রামবাসী দারুণ পরিচিত অনেককাল আগে থেকে। ষাঁড়ে ষাঁড়ে লড়াইয়ের রোমহর্ষক খেলাটির রোমাঞ্চ সহজে ভোলার নয়। শুধু খেলার সময়ে নয়, লড়াইতে অংশগ্রহণের জন্য আনা ষাঁড়গুলোকে বিচিত্র কাপড় ও নানা রকম বেশভূষায় চিত্রিত করার সময়ও বেশ উৎসবের আমেজ পাওয়া গ্রামবাসীর মধ্যে। মোরগ লড়াইয়ের মতো দুর্র্ধর্ষ খেলাও বাদ পড়ে না বৈশাখী আমোদ থেকে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে