logo
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া   ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

আস্থা ও নির্ভরতায় নারী ইউএনও শাহনাজ

আস্থা ও নির্ভরতায় নারী ইউএনও শাহনাজ
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম
মোছা. শাহনাজ বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে খুলনার ডুমুরিয়ায় যোগদানের মাত্র দেড় বছরে বিভিন্ন কর্মকান্ড ও আর্তমানবতার সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতিমধ্যে তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। সৎ-সাহস ও সদিচ্ছা থাকলে একদিন কঠিন কাজেও সফলতা অর্জন করা সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে তার কর্মকান্ডে এমন প্রমাণ মিলেছে। যে কারণে জনগণ আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে খুঁজে নিয়েছেন মমতাময়ী ইউএনওকে।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহনাজ বেগম ২০১৮ সালের ৮ মে তারিখে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনকে নিজের মতো করে ঢেলে সাজান। উদ্যোগ নেন দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করে একটি আধুনিক জনপদ গড়ে তোলার। তার সততা ও কর্মদক্ষতায় ক্রমান্বয়ে বদলে গেছে উপজেলা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। এক কথায় বলা যায় ডুমুরিয়ায় তিনিই শান্তি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শাহনাজ বেগম এ উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। শান্তির লক্ষ্যে তিনি গণশুনানির মাধ্যমে পারিবারিক কলহ-বিবাদ, জমি-জমা, রাস্তাঘাটসংক্রান্ত অসংখ্য বিরোধ নিষ্পত্তি করে জনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। তার কার্যালয় সবার জন্য উন্মুক্ত দ্বার হিসেবে খুলে রেখেছেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আদালত পর্যন্ত আর যেতে হচ্ছে না কাউকে।

প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখল প্রতিরোধে দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেছেন ইউএনও শাহনাজ বেগম। ফলে চুকনগর, খর্ণিয়া ও ডুমুরিয়া বাজারের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদপূর্বক বাজারের জমি পুনরুদ্ধার এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও জনকল্যাণমূলক কাজ করে দক্ষ প্রশাসক হিসেবে সব শ্রেণিপেশার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ এবং পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য হয়েছে একমাত্র তার নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে। ডুমুরিয়ায় এত নিরপেক্ষ নির্বাচন অতীতে কোনো দিন হয়নি।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫৮টি মামলায় ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে নজির স্থাপন করেছেন ইউএনও মোছা. শাহনাজ বেগম। তিনি ৫১টি মামলায় জড়িত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন এবং ভেজালবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও পাবলিক প্যালেসে প্রকাশ্যে ধূমপানের বিরুদ্ধে প্রতিমাসে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। গাঁজা/মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে হুলিয়া জারি করেছেন। তিনি যুবসমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। যা অতীতে কেউ পারেনি। শতাধিক বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছেন। এক কথায় সর্বক্ষেত্রেই রয়েছে এই নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদচারণা।

ইউএনও শাহনাজ দাপ্তরিক কাজের বাইরে সকাল-বিকাল ছুটে বেড়ান ডুমুরিয়া সব প্রান্তে। কথা বলেন সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে। শোনেন তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা। নিয়মিত খোঁজখবর নেন সমাজের অবহেলিত গরিব-দুঃখী মানুষের। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রম্নতি অনুযায়ী প্রাপ্ত ৪০৫টি অসহায় পরিবারকে নিজ তত্ত্বাবধানে মানসম্মত ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। ৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য ৪০টি নেবুলাইজার মেশিন ক্রয় করে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিতরণ করেছেন। যার ফলে ক্লিনিকগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা চত্বরের মসজিদ, থানা মসজিদ, গুটুদিয়া মঠ, পঞ্চু মায়ের মন্দিরসহ ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। কাবিখা, টিআর প্রকল্পগুলো সরেজমিনে গিয়ে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত দেখে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও। তার নজরদারির ফলে পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় নকলমুক্ত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়েছে।

তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরীণ রাস্তা পাকাকরণ, শিশুপার্ক সংস্কার, চুরি বন্ধে মসজিদ চত্বরসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্নস্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্যানেলসহ সোলার লাইট স্থাপন, উপজেলা পুকুরের চারপাশের চলার পথ ও দৃষ্টিনন্দন ছাতাসহ বসার জায়গা নির্মাণ এবং নয়নাভিরাম রঙিন বাতি স্থাপন করে সমগ্র ক্যাম্পাসটিকে শরীরচর্চায় প্রাতঃভ্রমণ, বিনোদন ও অবকাশের জন্য একটি আধুনিক ক্যাম্পাসে পরিণত করেছেন। বিনোদনের জন্য পুকুরে দুটি স্টিলের নৌকাও সরবরাহ করেছেন।

ইউএনও মোছা. শাহনাজ বেগম নিজ উদ্যোগে গরিব, অসহায় ও অবহেলিত মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। যা ইতোপূর্বে কোনো অফিসার করেনি। তার আর্থিক অনুদান থেকে বাদ পড়েনি সাংবাদিকরাও। সাংবাদিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ বিতরণ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার ও মহলস্নাদারদের কাজে গতিশীলতার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাইসাইকেল প্রদান করেছেন তিনি।

ডুমুরিয়া উপজেলা মাঠ প্রশাসন কর্মে যার বিশেষ অবদান সে নারী ইউএনও মোছা. শাহনাজ বেগম। তার অবদান উপজেলায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি কেবল একজন ইউএনও নন, তিনি একজন স্ত্রী, একজন মা, একজন গৃহিণী, রাঁধেন এবং চুলও বাঁধেন। এ সব কিছু একজন নারীর গতানুগতিক উপাধি। কিন্তু সব কিছু ছাড়িয়ে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের সাড়ে ৪ লাখ জনগোষ্ঠীর অভিভাবক হয়ে ওঠা অনেক নারীর পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিন্তু তিনি পেরেছেন। সবার মধ্যে হয়ে ওঠা আজ এক অসাধারণ গল্পের মানুষ তিনি। ডুমুরিয়া উপজেলায় জনবান্ধব প্রশাসন গড়ায় মহীয়সী এ নারী আজ রাজনৈতিকসহ সর্ব মহলে প্রশংসিত।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া শহীদ স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, এত ভালো ইউএনও ডুমুরিয়ায় অতীতে দেখিনি। তিনি অসহায় এবং গরিব মানুষের প্রকৃত বন্ধু। অন্যায় এবং অসৎ ব্যক্তিদের কখনো প্রশ্রয় দেয়নি। যার কারণে সাধারণ মানুষ ইউএনও স্যারের ওপর আস্থা পেয়েছেন। উপজেলা পরিষদটাকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়েছেন তিনি। এক কথায় তিনি একজন সততার প্রতীক।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ সমাজসেবক গোপাল চন্দ্র দে বলেন, ইউএনও সাহেব গরিব ও অসহায় মানুষের দুঃখের কথা শোনেন এবং তাদের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। কেউ বিপদে-আপদে পড়ে তার কাছে গেলে তিনি তাৎক্ষণিক সমাধান করে দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নদী-খালের অবৈধ নেট-পাটা উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যার সুফল ডুমুরিয়া হাজার হাজার মানুষ ভোগ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাহনাজ বেগম বলেন, সত্যি কথা বলতে কি আমাদের চাকরির নির্ধারিত কোনো দায়িত্ব ও কর্তব্য নেই, সুনির্দিষ্ট কোনো পরিধি নেই, জনগণকে সেবা দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ছকে বাধা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনগণের মঙ্গল হয়, ভালো হয় সেটাই করার চেষ্টা করছি। তবে এমপি স্যার, জেলা প্রশাসক স্যার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষের ঐকান্তিক সহযোহিতায় প্রতিটি কাজ করা সহজ হয়েছে বলে আশা করি। প্রত্যাশা করি প্রধানমন্ত্রীর উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবার সহযোগিতায় প্রতিটি সেক্টরের সমন্বয়ে প্রান্তিক জনগণের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্ব করবে।

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ার ইউএনও স্বচ্ছতার সহিত কাজ করছেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল ইউএনও। সরকারি কর্মকর্তাদের যে কাজ এবং দায়িত্ব তিনি তা সঠিকভাবে পালন করছেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে