logo
বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

  তারার মেলা ডেস্ক   ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

ফের টেইলর ঝলক

ফের টেইলর ঝলক
তাকে বলা হয় পাশ্চাত্য সংগীতের নতুন রানী। বিশ্ব সংগীতে খুব অল্প বয়সেই নাম, যশ ও খ্যাতি এবং বাঘা বাঘা সব পুরস্কার অর্জন করে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মিষ্টি গলা আর তার চেয়েও মিষ্টি চেহারার টেইলর সুইফট সারা বিশ্বের সংগীতপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত এক নাম। ৩০ বছর বয়সেই আকাশছোঁয়া খ্যাতি আর কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা অর্জন করা এ তারকা আবারও নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন ভক্তদের মাঝে। শত ব্যস্ততার মধ্যেই নতুন গানের খবর জানালেন এই গায়িকা এবং অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে ঘোষণা দিলেন তার সপ্তম একক অ্যালবামেরও। এরই মধ্যে অ্যালবামের অনেক অংশের কাজ শেষ করেও ফেলেছেন। অ্যালবামের নাম রাখা হয়েছে 'লাভার'। তবে অ্যালবাম প্রকাশের আগে অচিরেই তিনি নতুন একটি গান উপহার দিতে যাচ্ছেন ভক্তদের। 'ইউ নিড টু কাম ডাউন' শিরোনামের এই গানটি পুরোপুরি রোমান্টিক ঘরানার। যা প্রেমিক-ভক্তদের মনে নতুন এক রোমান্স ও আবেগের সৃষ্টি করবে বলে জানালেন সুইফট। তিনি আরও জানান, এই গানের পরই আসবে তার নতুন অ্যালবাম। এই অ্যালবামের মাধ্যমে প্রায় তিন বছর পর অডিওবাজারে স্থান পাচ্ছে সুইফটের গান।

দুই বছর আগে ২০১৭ সালে বাজারে আসে সুইফটের ষষ্ঠ অ্যালবাম 'রিপুটেশন'। অ্যালবামটি সাজানো হয়েছিল ১৫টি গান দিয়ে। এই অ্যালবামের 'লুক হুয়াট ইউ মেক মে ডু' গানটির ভিডিওটি বেশ সাড়া ফেলেছিল ভক্তমহলে। এরপর অ্যালবামের আরেক হিট গান 'মি'র মিউজিক ভিডিওটিও রাতারাতি আলোচনায় এনে দেয় তাকে। এ শিল্পী ফিরে এসে সোজা কথায় চমকেই দিলেন ভক্তদের।

এর আগে ২০১৫ সালের 'ব্যাঙ্ক স্পেস' শিরোনামের গানটি দিয়ে বিলবোর্ডে শীর্ষ স্থান দখল করেন টেইলর। এর পর পরই 'স্টাইল' ও 'বেড বস্নাডে'র মতো একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেন। এর মধ্যে 'বেড বস্নাড' ১৬ সপ্তাহে বিলবোর্ডের টপচার্টে অবস্থান করে। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ সালে আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের আসরে সেরা শিল্পীর পুরস্কারসহ মোট চারটি পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন এই সংগীতশিল্পী ও গীতিকার। ভক্তদের ভোটে একাধিকবার আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছেন মিষ্টি চেহারার এই শিল্পী। এ ছাড়া ২০১৩ সালে ফেভারিট ফিমেল আটির্স্ট (পপ/রক) এবং ফেভারিট অ্যালবাম (কান্ট্রি) বিভাগেও পুরস্কার পেয়েছেন টেইলর। তিনি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার 'আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার পেয়েছেন তিন-তিনবার। আর এতটা জনপ্রিয়তার কারণেই মাকির্ন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও মাদাম তুসোয় দুটি মোমের মূর্তি প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

সমাজসেবাতেও আট-দশজন তরুণ তারকার চেয়ে ঢের এগিয়ে রয়েছেন টেইলর সুইফট। কিছুদিন আগে ক্যান্সার আক্রান্ত এক কিশোরের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার ডলার সহায়তা করেছেন। আইডেন নামের ওই শিশুটির বয়স ১৩ মাস। আইডেন টেইলর সুইফটের বিভিন্ন সফরের সঙ্গী নৃত্যশিল্পী কিম টোশি ডেভিডসনের ভাইপো। এ ছাড়া আমেরিকার ন্যাশভিল এলাকায় শিশুদের জন্য কান্ট্রি মিউজিক শেখার একটি স্কুল খুলেছেন টেইলর সুইফট। ৪০ লাখ ডলারের ওই প্রতিষ্ঠানের নাম 'টেইলর সুইফট এডুকেশন সেন্টার'। এ মিউজিক স্কুলটি 'কান্ট্রি মিউজিক হলো অব ফেইম অ্যান্ড মিউজিয়ামে'র একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। টেইলর সুইফট বলেন, আমি এই গানের স্কুলটি শিশুদের সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তুলতে তৈরি করেছি।

এখানে তারা একসঙ্গে তিনটি ভিন্ন ধরনের গান শিখছে। এতে শিশুদের জন্য একটি বিশেষ গ্যালারি রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সংগীত চর্চার পাশাপাশি গান লেখা ও সুর করার বিষয়েও জ্ঞান লাভ করতে পারবে। ভবিষতেও আমি আরও এ ধরনের শিশু কল্যাণমূলক সংস্থা গড়ে তুলতে চাই।'

\হটেইলর অ্যালিসন সুইফট ১৯৮৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর আমেরিকার পেনসিলভ্যানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা কাটে উয়ামিসিংয়ের খুব কাছেই তার পারিবারিক ক্রিসমাস ট্রি ফার্মে। বাবা স্কট কিংসলে সুইফট ও মা আন্দ্রিয়া ফিনলের আদরের মেয়ে টেইলরের ওপর তার নানি অপেরা শিল্পী মেজরি ফিনলের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। তার নাম 'টেইলর' রাখা হয় প্রখ্যাত আমেরিকান শিল্পী, গীতিকার ও গিটারিস্ট জেমস টেইলরের নামানুসারে। কান্ট্রি মিউজিক দিয়েই টেইলরের সংগীত সাধনা শুরু। কান্ট্রি মিউজিক হলো আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে উদ্ভুত এক ধরনের জনপ্রিয় সংগীত- যাতে নাচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনো লোকগাথা বা গল্প বণির্ত হয়। বাঁশি, ব্যাঞ্জো, গিটার ও বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার হয় এতে।

১০ বছর বয়স থেকেই টেইলর সুইফট স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করতেন। লে অ্যান রাইমসের 'বিগ ডিল' গেয়ে একটি লোকাল ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা জিতে নেন তিনি। ১২ বছর বয়সেই তিনি গিটারের তারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। একই সময়ে গান লিখতেও শুরু করেন ছোট্ট টেইলর।

একদিন প্রখ্যাত বস্ন বার্ড ক্যাফেতে গান পরিবেশন করার সময় স্কট ব্রচেটার নজর কাড়েন টেইলর। স্কট তখন সদ্য 'বিগ মেশিন লেবেল' নামে একটি রেকর্ডিং গ্রম্নপ গড়ে তুলেছেন। তার নতুন রেকর্ডিং গ্রম্নপে প্রথম শিল্পী হিসেবে তিনি টেইলরকে সাইন করান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে টেইলরের যাত্রা শুরু।

২০০৬-এর অক্টোবরে বের হয় ' টেইলর সুইফট' নামে টেইলরের প্রথম অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি বিলবোর্ডে ৫ম স্থান দখল করে নেয় আর এর গানগুলো ১৫৭ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। অদ্ভুত এক সারল্য আছে তার গানে। টিনএজারদের মধ্যে সাড়া জাগাতে তাই বেগ পেতে হয়নি টেইলরের। 'আওয়ার সঙ' গানটির মাধ্যমে টেইলর প্রথম কোনো স্থান দখল করা কান্ট্রি সঙের সবচেয়ে কমবয়সী গায়িকা ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত হন।

২০০৮-এ আসে তার 'ফিয়ারলেস'। কান্ট্রি মিউজিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করা অ্যালবাম এটি। একই সঙ্গে আমেরিকা, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মিউজিক চার্টে প্রথম স্থান দখল করে নেয় এটি। এই অ্যালবামের 'লাভ স্টোরি' টেইলরের ১ম স্থান দখলকারী একক বা সিঙ্গেল হয় অস্ট্রেলিয়ায়। কানাডায় ১ম স্থানে আসে একই অ্যালবামের 'টুডে ওয়াজ এ ফেইরি টেইল'। টেইলরের ৩য় অ্যালবাম 'স্পিক নাও' আসে ২০১০-এ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে