logo
বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০  

অপ্রতিদ্বন্দ্বী শবনম বুবলি

বলতে দ্বিধা নেই, বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে আলোচিত মুখ শবনম বুবলি। বাঘা বাঘা নায়িকাদের বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিয়ে শীর্ষ নায়িকার আসনটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি। অনেকটা উড়ে এসেই জুড়ে বসেন এ নায়িকা। সংবাদ পাঠক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া বুবলি সরাসরি চিত্রজগতে প্রবেশ করেন ২০১৬ সালে 'বসগিরি' সিনেমার মধ্য দিয়ে। শুরুটা বেশ জমকালোই হয় তার। ক্যারিয়ারের প্রথম ছবিতেই শাকিবের বিপরীতে কাজ করার সুবাদে প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন তিনি। তারপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। লিখেছেন- জাহাঙ্গীর বিপস্নব

অপ্রতিদ্বন্দ্বী শবনম বুবলি
শবনম বুবলি
ঈদ মানেই যেন বুবলি। চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরুর পর থেকেই এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে সিনেমাপাড়ায়। গত রোজার ঈদে মুক্তি পেয়েছিল শাকিব-বুবলি অভিনীত মালেক আফসারী পরিচালিত 'পাসওয়ার্ড' ছবিটি। নকলের অভিযোগ থাকলেও প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ব্যবসা করে ছবিটি। এতে বুবলি অভিনয়েরও প্রশংসা পায় দর্শকমহলে। আর এবার ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন ছবি 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না'। চলচ্চিত্রের সবচেয়ে হিট ছবির পরিচালক জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এ ছবিটিতেও বুবলির নায়ক শাকিব খান। দেশ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ঈদুল আজহায় প্রায় দেড় শতাধিক সিনেমা হলে একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না'।

তবে এই জুটির 'পাসওয়ার্ডে'র চেয়েও বেশি ব্যবসা করবে 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' ছবিটিতে- এমনই প্রত্যাশা বুবলির। ছবির বিষয়বস্তু ও নিজের চরিত্র নিয়ে বুবলি বলেন, পাসওয়ার্ড' ছিল থ্রিলার ছবি, কিন্তু 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' অন্য ট্র্যাকের ছবি। ভিন্ন গল্পের ছবি। দুটোর মধ্যে কোনো মিল নেই। আমার বিশ্বাস, দর্শকদের মনে সাম্প্রতিক ইসু্যগুলোতে নাড়া দেবে 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না'। তিনি আরও বলেন, 'পাসওয়ার্ড' ছিল মিশন কেন্দ্রিক ছবি, কিন্তু 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' পুরোপুরি গল্প প্রধান ছবি। যেখানে দেশ, সমাজ, প্রেম-ভালোবাসা, দেশপ্রেম, মানবতার মূল্যবোধের কথা বলা হয়েছে। যেটা দেখলে মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করবে ও পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় হবে। মানুষকে ভালোবাসতে শেখাবে। তা ছাড়া আমার চরিত্রটিও ভিন্ন ঘরানার। এ ধরনের চরিত্রে এবারই প্রথম অভিনয় করলাম। অনেক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয়েছে ছবিতে অভিনয় করে। আর নির্মাণশৈলী নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। সবাই জানেন জাবির হোসেন রাজু মানেই নিখুঁত নির্মাণ। সবমিলিয়ে দর্শকরা পরিপূর্ণ বিনোদন পাবে বলে আমার বিশ্বাস।'

যদিও ছবিটি ঈদে মুক্তি পাবে কিনা এ নিয়ে বেশ সংশয় ছিল বুবলির মনে। কারণ রোজার ঈদের পরপরই ছবিটির শুটিং শুরু হয়। এত অল্প সময়ে ছবিটির যাবতীয় কাজ শেষ হবে কিনা- এটা নিয়েও বেশ চিন্তায় ছিলেন তিনি। অনেকটা তাড়াহুড়া করে ছবিটি সেন্সরে জমা দেয়া হয়। কিন্তু বিনা কর্তনে ছবিটি ছাড়পত্র পাওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত বুবলি। শুধু কী তাই! খোদ সেন্সর বোর্ডও ছবি এবং শাকিব-বুবলির অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন। সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান নিজামুল কবির বলেন, 'খুবই চমৎকার একটি ছবি। একটি বাস্তবধর্মী ছবির বাস্তবধর্মী অভিনয়ে বোর্ডের সবার কাছে বেশ প্রশংসা পেয়েছে। প্রশংসা পাওয়ার মতো ছবি এটি। বিশেষ করে শাকিব-বুবলির অনবদ্য অভিনয় আমাদের মুগ্ধ করেছে। আশা করি, ঈদে দর্শকরা সিনেমা হলে একটা পরিচ্ছন্ন সিনেমা দেখতে পাবেন।'

রোজার ঈদের মতো এবারও বুবলির প্রতিদ্বন্দ্বী ববি। কোরবানি ঈদে 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' ছবির সঙ্গে মুক্তি পেয়েছে ববি ও রোশান অভিনীত 'বেপরোয়া' ছবিটি। তবে বুবলি কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চান না। কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেনও না। অনেকটা সরলতার সঙ্গে বুবলি বলেন, 'এ ছবির ফলাফলের ওপর আমার অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমি চলচ্চিত্রে এসেছি বড় ধরনের একটা স্বপ্ন নিয়ে। আমি আমার সেই স্বপ্নকে স্পর্শ করতে চাই। কোনো লড়াই করতে আসিনি। তবে লড়াই করতে আমি ভয়ও পাই না। অনেক কষ্ট করেছি সিনেমাটির জন্য। এই কষ্ট তখনই স্বার্থক হবে, যখন আমার সিনেমাটি দর্শক ভালোভাবে গ্রহণ করবে। এর বাইরে আমি আর কিছুই ভাবতে চাচ্ছি না আপাতত। লড়াই করে নয়, টিকে থাককে হয় নিজের যোগ্যতা আর দক্ষতা দিয়ে। আমি চাই, সবাই তার নিজ নিজ মেধা দিয়ে এগিয়ে যাক।'

বর্তমানে কাজী হায়াতের বীর ছবিতে একটানা কাজ করছেন বুবলি। এ ছবিতেও তার বিপরীতে রয়েছেন শাকিব খান। ছবিটি নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রপাড়ায় গুঞ্জন ওঠে এই ছবি থেকে বাদ পড়েছেন বুবলি। সংবাদমাধ্যমেও এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ছবির অন্যতম প্রযোজক শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা বুবলির কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলেননি। শাকিব বলেছিলেন, 'আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন চারটি ছবির শুটিং হচ্ছে, দুটিতে বুবলি থাকবেন, এটাই চূড়ান্ত। সেই দুটির একটি যে বীর, সেটা নিশ্চিত করে বুবলি বলেন, 'ভীষণ ভালো লাগছে, শেষ পর্যন্ত বীর ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছি। এস কে ফিল্মসকে অনেক ধন্যবাদ। একই সঙ্গে ছবির প্রযোজক ও সুপারহিরো শাকিব খান এবং ইকবাল ভাই ও পরিচালক হায়াৎ আঙ্কেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ছবির গল্প চমৎকার। আশা করছি, সবার ভালো লাগবে। শাকিব-বুবলি জুটিকে এই ছবিতে দর্শক পুরোপুরি ভিন্নভাবে দেখবে।'

এবার আসা যাক, শাকিব খান-বুবলিকে নিয়ে নানান গুজব আর গুঞ্জন প্রসঙ্গে। ক্যারিয়ারে শুরু থেকেই শাকিব ছাড়া অন্য কোনো ছবিতে অভিনয় না করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়া আর কথায় কথায় বুবলির মুখে শাকিবের প্রশংসা- এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানান কথামালা। গোপনে বিয়ে করেছেন বলেও খবর রটে। তবে এসব কানাঘুষাকে পাত্তা না দিয়ে বরাবরই একই ধরনের বক্তব্য তার। বুবলি পরিষ্কার করে বলেন, 'শাকিব খানের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। আর আমার কোনো বয়ফ্রেন্ডও নেই। এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি চক্র। তারা শাকিব খানের সঙ্গে আমার কাজ করা পছন্দ করছে না। তবে আমি এসব গুজবে কান দেই না। আমি আমার মতো কাজ করে যাব।'

কিন্তু তারপরেও গুজব যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তার। কিছুদিন আগে শাহেন-শাহ ছবিতে শাকিব খানের বিপরীতে বুবলি থাকার কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে বুবলির জায়গায় নুসরাত ফারিয়াকে নেয়ায় নতুন করে খবর রটে, শাকিবের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে বুবলির।

বুবলিকে নিয়ে সর্বশেষ গুজব ওঠে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে। গুজবটি হলো- চলচ্চিত্র ছেড়ে দিচ্ছেন বুবলি। কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল লেখা হয়েছে, শাকিব খানের সঙ্গে কাজ না করায় অনেকটা একা হয়ে পড়েছেন বুবলি। রাগে, অভিমানে চলচ্চিত্রকেই 'গুডবাই' জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে এসব খবর নিয়ে আগের মতো মাথা ঘামান না বলে জানিয়ে বুবলি জানান, একটা সময় খুব মন খারাপ হতো। যখন বিভিন্ন গুজব শুনতাম তখন মনে হতো খুব প্রতিবাদ করে সত্যটা বলে দেব। খারাপ লাগত। তবে যখন আমি গঠনমূলক সমালোচনা শুনি, তখন বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করি। সমালোচনা গঠনমূলক আকারে হলে তখন গুরুত্ব সহকারে নিই। যারা গঠনমূলকভাবে আমার কাজের সমালোচনা করে তখন নিজেকে পরিমার্জন করার চেষ্টা করি।

বুবলি বলেন, 'যারা আমাকে নিয়ে গসিপ করছে তাদের আসলে কোনো কাজ নেই। যার কারণেই তারা এগুলো করছে। আর তাদের মূল কাজটাই হচ্ছে এগুলো করা। যারা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাদের আসলে এ সময়টা নেই। গুটি কয়েকজন মানুষই গসিপগুলো ছড়াচ্ছে। তারা দেখছে আমি ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। তারা সেগুলো সহ্য করতে পারছে না। আমার ইমেজটা ডাউন করার চেষ্টা করছে।

হিংসার বশবর্তী হয়েই আসলে গসিপগুলো হয়। আর আলোচনা যাদের নিয়ে হয়, তাদের নিয়েই তো সমালোচনা হয়।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে