logo
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

করোনা উপসর্গে ৬ জেলায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু

করোনা উপসর্গে ৬ জেলায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু

করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশের ৬ জেলায় ১৪ জনের মৃতু্য হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে ২ জন, গোপালগঞ্জে ২ জন, বরগুনায় ২ জন, কুমিলস্নায় ৫ জন, ফরিদপুরে ২ জন এবং ঝালকাঠিতে ১ জন মারা গেছেন। আমাদের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: রাজশাহী :রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মৃতু্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় হাসপাতালের ৩০নং ওয়ার্ডে (করোনা ওয়ার্ড) তিনি মারা যান। তার নাম অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি রাজশাহী নগরের কাজীহাটায় বসবাস করতেন। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির আধাঘণ্টা পর তিনি মারা যান। এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে রামপদ (৬০) নামের আরও একজন রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার রাত ১১টায় তিনি মারা যান বলে জানান ডা. সাইফুল ফেরদৌস। তিনি জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার বিকালে রামপদ হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনার উপসর্গ থাকায় তাকে হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃতু্য হয়। তিনি বলেন, দুইজনেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া তাদের লাশ দাফনের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডা. সাইফুল। গোপালগঞ্জ :গোপালগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে মোতালেব মিয়া (৬৮) ও দীপংকর শিরালী (৩৪) নামের ২ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে টুকু কাজী (৬৭) নামের একজনের মৃতু্য হয়েছে। তারা গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ও বুধবার রাতে তারা মারা যান। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মলিস্নক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মৃত ব্যক্তিরা হলেন, সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মোতালেব মিয়া এবং মানিকদাহ গ্রামের দীপংকর শিরালী। এদের মধ্যে প্রথম জন ১ জুলাই এবং দ্বিতীয় জন ৩০ জুন করোনার উপসর্গ শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও কাশি নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিল। তাদের নমূনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কুমিলস্না : করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্থাপিত কুমিলস্না কোভিড-১৯ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ও একজন করোনা ওয়ার্ডে মারা যান। তাদের একজন নারী ও চারজন পুরুষ। হাসপাতালের তথ্য শাখার সহকারী সার্জন মুক্তা রানী ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার সকাল আটটা ৩৪ মিনিটে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মারা গেছেন কুমিলস্নার চান্দিনা উপজেলার ৪৯ বছরের এক ব্যক্তি। আইসিইউতে বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৬৪ বছরের একজন, রাত আটটায় মারা গেছেন আদর্শ সদর উপজেলার বলরামপুর এলাকার ৫২ বছরের একজন, সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুমিলস্না নগরের ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ এলাকার ২৮ বছরের এক যুবক এবং সকাল সাতটা ৫ মিনিটে দেবীদ্বার উপজেলার তালতলা গ্রামের ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। বরগুনা :বরগুনার বেতাগীতে কোভিড-১৯-এর (ক?রোনাভাইরাস) উপসর্গ নি?য়ে এক ইমামের (৭০) মৃতু্য হ?য়ে?ছে। বুধবার রাতে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরব্যথা নি?য়ে নিজ বাসায় তি?নি মারা যান। উপ?জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসান এ তথ?্য জা?নি?য়ে?ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি গত শুক্রবার থেকে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ শরীরব্যথায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তার নমুনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নমুনা দেওয়া আগেই বুধবার রাতে তিনি মারা যান। এদিকে বরগুনার আমতলী উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কুদ্দুস মোলস্না (৭০) করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বুধবার রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতু্যবরণ করেন। জানা গেছে, উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কুদ্দুস মোলস্না কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। বুধবার সকালে তার ডায়রিয়া ও প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। স্বজনরা দ্রম্নত তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে নিয়ে আসেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওই দিনই তাকে ওই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বুধবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃতু্যবরণ করেন। ফরিদপুর :ফরিদপুরের জ্বর, সর্দি, কাশিসহ কোভিড-১৯-এর উপসর্গ নিয়ে দুই ব্যক্তির মৃতু্য হয়েছে। বুধবার রাতে ফরিদপুরে করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার (৫২)। তিনি জ্বর, সর্দিসহ করোনাভাইরাসজনিত উপসর্গ নিয়ে গত মঙ্গলবার এ হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল বুধবার রাত ৩টায় মারা যান। ওই হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনাভাইরাসজনিত বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতেই মারা গেছেন ফরিদপুর শহরের ৯৪ বছরের এক বৃদ্ধ। তিনিও গত মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, মৃতু্যর পর ওই দুই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার পর জানা যাবে ওই দুই ব্যক্তির মৃতু্য করোনাভাইরাসজনিত কারণে ছিল কি না। ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজারপুর থানার পুলিশ সদস্য ফিরোজ সিকদার (৫০) জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। বুধবার রাত ৮টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে মাওয়া ফেরিঘাটে তার মৃতু্য হয়। ফিরোজ সিকদারের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায়। তিনি শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ জুন থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্য ফিরোজ সিকদার অসুস্থ হয়ে গত ২৪ জুন প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৬ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। সেখান থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে বুধবার রাতে তার মৃতু্য হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে