বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

চিলমারীতে স্ত্রী হত্যায় ঘাতক স্বামী আটক

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১৪:৫৪

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্বামী মো: শাহাবুদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের সাতকানিয় উপজেলার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক শাহাবুদ্দিন উলিপুর উপজেলার হাতিয়া বেগাপাড়ার বাগুয়া অনন্তপুর এলাকার আফতাব উদ্দিনের ছেলে।

এর আগে (৬ নভেম্বর) নওমুসলিম নববধু আমেনা বেগম (২৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

চিলমারী থানাসুত্রে জানাগেছে, গত (৬ নভেম্বর) সোমবার আমেনা বেগমকে শ^াসরোধে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে চিলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর ঘাতক স্বামী শাহাবুদ্দিন পালিয়ে ছিলেন।

চিলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ হারেছুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাব-ইন্সপেক্টর দিলিপের নেতৃত্বে একটি টিম সাতকানিয়া থানার সহযোগীতায় তাকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

২৮ নভেম্বর আটক শাহাবুদ্দিনকে চিলমারী থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন আগে নওমুসলিম আমেনা বেগম কে বিয়ে করেন উলিপুর উপজেলার হাতিয়া বেগাপাড়ার বাগুয়া অনন্তপুর এলাকার আবতাব উদ্দিনের ছেলে শাহাবুদ্দিন। শাহাবুদ্দিন সাবেক বিজিবি সদস্য ছিলেন। পিলখানার নারকীয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫ বছর কারাভোগ করেন। কয়েকমাস ধরে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয়ের সুত্রধরে হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন আগে নগদ দেড়লক্ষ টাকা দেনমোহর দিয়ে আমেনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি।

শাহাবুদ্দিনের ঘরে আরো এক স্ত্রী ও ২ সন্তান রয়েছে বলে জানাগেছে। এর আগে ২০১৫ সালে আমেনা বেগম হরিজন সম্প্রদায় থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন, জোড়গাছ নতুন বাজার এলাকার জ্ঞানচাঁদ রবিদাসের মেয়ে। তার আগের নাম ছিলো আদুরী রাণী।

২০১৫ সালে লালমনিরহাট রেলপথে টিকিট কালেক্টর মোহাম্মদ আলীকে বিয়ে করতে গিয়ে আদুরী রাণী ধর্মান্তরিত হয়ে আমেনা বেগম হন। সে বিয়েটিও মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সুত্রধরে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের ২ বছরের মাথায় মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হলে সে স্বামীর বাড়ীতে আশ্রয় না পেয়ে চিলমারী ফিরে এসে বিভিন্ন জনের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত একবছর আগে আমেনা বেগমকে স্বাবলম্বি করতে একটি সামাজিক সংগঠন তাকে একটি মুদি দোকান তুলে দেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরাতন বাজার বাঁধ এলাকায় খাস জায়গায় ঘর তুলে দেয়া হয়। সেখানে আমেনা বেগম বসবাস করে আসছিলেন। স্থানীয়রা আরো জানান, শাহাবুদ্দিনকে বিয়ে করার পর প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরুতেন না আমেনা বেগম। স্বামীকে নিয়েই সব সময় ঘরে থাকতেন। ঘটনার দিন দুপুর পেরিয়ে গেলেও ঘরের দরজায় তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা জানালা দিয়ে ভেতরে আমেনাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আঁকা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতর থেকে আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে