বর্ধিত এনডিসি প্রণয়ন চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় সিপিআরডি’র আট সুপারিশ

বর্ধিত এনডিসি প্রণয়ন চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ায় সিপিআরডি’র আট সুপারিশ

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ‘এনহ্যান্সড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস তথা জাতীয়ভাবে নির্ণিত অবদান (এনডিসি) প্রণয়ন চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ার জন্য আটটি সুপারিশ করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর ডেইলী স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)’র উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এনডিসি প্রণয়ন চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়ার জন্য আটটি সুপারিশ করেছে সিপিআরডি।

সিপিআরডি’র সুপারিশগুলোতে বলা হয়, যেসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব সে ক্ষেত্রগুলো হলো, নির্মাণ কাজে জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রের ব্যবহার ও যথাযথ বিল্ডিং কোডের ভিত্তিতে নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করা। গণপরিবহনগুলোকে জ্বালানি সক্ষমতা ও কার্যকারিতা অনুসারে শ্রেণিবিভক্ত করে পুরাতন ও বেশী জ্বালানি নির্ভর যান থেকে পর্যায়ক্রমে জ্বালানি সাশ্রয়ী যান দ্বারা প্রতিস্থাপন করা। নির্মানাধীন মেট্রোরেল পরিবহনে প্রায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ চাপ কমানো। ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাতের মত বিদ্যুৎ-নির্ভর শিল্পে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নির্গমন হ্রাস করা।

সুপারিশগুলোতে আরও বলা হয়, ২০১২ সালের নির্মাণ খাত হতে নির্গত মোট কার্বনের শতকরা ৫৫ ভাগই ইট ভাটা হতে সৃষ্ট। ফলে গতানুগতিক ইট উৎপাদন থেকে সরে এসে পরিবেশবান্ধব অন্যান্য উপকরণ উৎপাদন এবং ভবন নির্মাণে এদের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এনডিসি’র বর্ধিত লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা অর্জন করা সম্ভব। কৃষি খাত (কৃষি সেচে) হতে উদগীরিত কার্বন দুই ভাবে হ্রাস করা সম্ভব। গ্রামাঞ্চলে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও জৈব জ্বালানির বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কার্বন নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। আলোচাক হিসাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক, বিআইডিএস’র সাবেক পরিচালক ডা. (গবেষণা) এম আসাদুজ্জামান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ডা. নুরুল কাদের, বাংলাদেশ পরিবেশ সংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম, জ¦ালানী বিশেষজ্ঞ উৎপল দত্ত, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী, পিকেএসএফ এর জলবায়ু পরিবর্তন ইউনিটের পরিচালক ফজলে রাব্বী সাদেক আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, আইপিসিসি’র বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্ট ও সন্দেহাতীতভাবে বলা হয়েছে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপ ধারণকারী গ্রিন হাউস গ্যাসের যথেচ্ছ উদ্গীরণ ঘটছে। ফলে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। বায়ুমণ্ডলে তাপ বৃদ্ধিকারী এসব গ্রিন হাউস গ্যাসের উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে বৈশি^ক গড় উষ্ণতা ইতোমধ্যে শিল্প-বিপ্লবপূর্ব পর্যায় থেকে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেড়েছে। বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে সাথে বিশ^ব্যাপি আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এবং দুর্যোগ জনিত ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা হচ্ছে। ফলে কার্বন উদ্গীরণ কমানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে সহনীয় মাত্রায় সীমাবদ্ধ রেখে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর পন্থা হিসেবে বিবেচনা করে ইউএনএফসিসিসি সুস্পষ্টভাবে কার্বন উদ্গীরণ হ্রাসের বিষয়ে রাষ্ট্রসমূহকে তাগিদ দিয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, এনডিসি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সবার অংশগ্রহণ অনেক জরুরি। সবাইকে নিয়ে এই রকম একটি জাতীয় দলিল তৈরী করা দরকার। অনেক সময় যদিও সেটি বাস্তবায়ন করা যায় না। বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্রগুলো যে টার্গেট দিয়েছে সেটাকে যদি তিনগুণ ও বৃদ্ধি করা হয় তবুও ২ ডিগ্রি সেট্রিগ্রেডে রাখা যাবে কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তেমন মনযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।

পুনর্মূল্যায়িত জাতীয়ভাবে নির্নীত অবদান বিষয়ে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা, সদ্য জমাদানকৃত (অর্ন্তবর্তীকালীন) নথিটির বিশ্লেষণ এবং নাগরিক সমাজের মতামত জানতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকের সিপিআরডির ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ‘এনহ্যান্সড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশনস (এনডিসি) প্রণয়ন :প্রেক্ষাপট এবং প্রত্যাশা” শীর্ষক প্রকাশনাটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

যাযাদি/এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে