২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন উদ্গিরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আহ্বান

২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন উদ্গিরণ  শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার আহ্বান

আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশি^ক কার্বন উদ্গিরণ শূন্যের কোঠায় নামানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনসমূহ। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক নাগরিক মানববন্ধনে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সি.পি.আর.ডি.), শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এস.ডি.এস.), কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (সি.ডি.পি.), কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা), কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটার্নাল ডেট (বি.ডব্লিউ.জি.ই.ডি) অংশ নেন।

সি.পি.আর.ডি.’র রিসার্চ অ্যান্ড এডভোক্যাসি অ্যাসিস্ট্যান্ট আল ইমরান সঞ্চলনায় এ সময় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সি.পি.আর.ডি’র নির্বাহী প্রধান মো. শামছুদ্দোহা। বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাউসার রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মীহির বিশ^াস, উন্নয়নধারা ট্রাস্টের নির্বাহী প্রধান আমিনুর রাসূল, কালের কণ্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক নীখিল চন্দ্র ভদ্র, সি.পি.আর.ডি’র সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. আকিব জাবেদ এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধিবৃন্দ।

মো. শামছুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং এই পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবিলা বর্তমানে সারাবিশ্বের জন্য একটি অনস্বীকার্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক জলবায়ুর এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে মানবজাতির অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করেছেন। প্রাক-শিল্পবিপ্লবপর্যায় থেকে ইতোমধ্যেই পৃথিবীর গড় উষ্ণতা ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সে. বেড়েছে। মানুষের নানান কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসসমূহ বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রাতিরিক্ত উদ্গিরণকে জলবায়ু পরিবর্তন তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ১৯৯২ সালে রাষ্ট্রসমূহের সর্বজনীন কর্মকাঠামো ইউএনএফসিসি গৃহীত হয়। এই কর্ম-কাঠামোতে পৃথিবীর উষ্ণতাবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখার প্রত্যয়ে রাষ্ট্রসমূহকে কার্বন উদ্গিরণ হ্রাসকরণের ব্যাপারে জোর তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর প্রায় তিন দশক অতিবাহিত হলেও সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তাদের কর্তব্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। ইউএনএফসিসিতে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রসমূহ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তথা জলবায়ু পরিবর্তন সংঘটনে নিজেদের দায়ভার স্বীকার করে নিলেও পৃথিবীর উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় ধরে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি ১৯৯৭ সালে গৃহীত কিয়োটো প্রটোকল অনুসারে কার্বন উদ্গিরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শিল্পোন্নত দেশসমূহ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

বক্তারা আরও বলেন, আইপিসিসির ১ দশমিক ৫০ সে. রিপোর্টে কার্বন নির্গমন হ্রাসের বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে তিনটি কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যার একটি হচ্ছে পরিছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করা। বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটি ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শিগগিরই সরে আসা, নবায়নযোগ্য উৎস হতে জ্বালানির বর্ধিত চাহিদা মেটানো। এক্ষেত্রে উন্নত দেশসমূহকে ২০৩০ সালের মধ্যে অগ্রসরমান উন্নয়নশীল দেশসমূহকে ২০৪০ সালের মধ্যে এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে ২০৫০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। একই সঙ্গে বহুজাতিক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই খাতে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন, এতে বিনিয়োগ এবং এর ব্যবহার কমেনি। জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন উদ্গিরণকারী হচ্ছে কয়লা। উন্নত ও অগ্রসরমান উন্নয়নশীল দেশসমূহ নিজেদের দেশে কয়লার ব্যবহার কমালেও কয়লার উৎপাদন চালু রেখেছে। পাশাপাশি অনুন্নত দেশসমূহে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থ্পানে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে।

বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কয়লাসহ অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন, এগুলোতে বিনিয়োগ এবং এদের ব্যবহার বন্ধে সুস্পষ্ট ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিতকরণের জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী গড়ার তাগিদ দেন।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ কম কার্বন উদ্গিরণ করেও সবচেয়ে অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এখনই যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যর্থ হলে কঠিন মূল্য দিতে হবে। এজন্য বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব হতে হবে।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে