সারাদেশে লোডশেডিং, পরিবর্তন হচ্ছে অফিস শিডিউল

সারাদেশে লোডশেডিং, পরিবর্তন হচ্ছে অফিস শিডিউল
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে বিদ্যুৎ সঙ্কট চলছে। কোথাও কোথাও দিন ও রাত মিলিয়ে ১১-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তীব্র গরমে দিন ও রাতে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবন বিপন্ন। এই পরিস্থিতিতে করোনা মহামারি সময়ের মতো অফিসের সময় করার কথা ভাবছে সরকার। অফিস সময় সংশোধন করে ৯টা থেকে ৩টা করা যায় কিনা বা ঘরে বসে কাজ করতে পারি কিনা তা চিন্তা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের সময়কার অফিসসূচিতে ফেরার সুপারিশ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক সভায়। বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) ওই সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।

তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, কোভিডের সময় জীবন অন্যভাবে ছিল। অফিসের সময় সংশোধন করা গেলে যেমন ৯টা থেকে ৩টা করা যায় কিনা বা ঘরে বসে কাজ করতে পারি কিনা, এটা সরকারের উচ্চ পর্যায় চিন্তা করতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা আছে। দাম না বাড়লে আমরা সবাইকে দিতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রী দামের বিষয়ে সহনশীল হয়েছেন। সাবসিডি দেওয়া হচ্ছে। কোথায় যাবে কেউ বলতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, লোডশেডিংয়ের আগেই জানানোর বিষয়ে আলোচনা করেছি; ফিল্ড লেভেলে কিছু কমিটি আছে। তারা এটাকে বাস্তবায়ন করে। এটা আমরা রিভাইব করছি। কত উৎপাদন হবে, কত বিতরণ হবে, এটা জেনে পরে জানানো হবে। ডিপিডিসি অ্যাপ করে সেখানে জানা যাবে।

এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আবারও মিতব্যয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে গ্যাসের যে দাম বেড়েছে তা সরকারের পক্ষে কেনা সম্ভব না।

বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সকালে এক অডিওবার্তায় এ অনুরোধ জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি গত ছয়-সাত মাস আগে থেকেই তেলের মূল্য বেশি প্রচণ্ডভাবে। যে তেল আমরা ৭০-৭৫ ডলারে কিনতাম, সে তেল এখন ১৭১ ডলারে ঠেকেছে এবং এখনও বেড়েই চলছে। আমরা বলে আসছি যে, তেলের দাম সমন্বয়ে যাব। এতদিন যাইনি কিন্তু নিজস্ব অর্থে ভর্তুকি দিয়ে আসছি, এখন সমন্বয় করতে হবে।

নসরুল হামিদ বলেন, সারাবিশ্বে তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও তেলের দাম বাড়িয়েছে। তারা প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ টাকা লিটারপ্রতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে। আমাদের গ্যাস দিয়ে ৬৪ শতাংশ বিদ্যুৎ চলে। আমাদের যে নিজস্ব গ্যাস দিন দিন বাড়াচ্ছি আবার কমছেও। যে খনিগুলোর কাছ থেকে পাচ্ছি তা খুব অল্প পরিমাণে। আমাদের গ্যাসের ঘাটতি ছিল, সেটি আমদানি করে পূরণ করতাম। এ ক্ষেত্রে দুই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং স্বল্পমেয়াদি খোলাবাজার থেকে গ্যাস ক্রয় করা হয়। এখানে চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের কারণে এর দাম অনেক বেড়েছে। চার ডলারের গ্যাস এখন ৩০ ডলারে পৌঁছে গেছে, যা কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থের জোগান দিতে আমাদের প্রচণ্ডভাবে বেগ পেতে হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সরকারের পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে এই পরিমাণ জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। এখন যদি দাম বাড়িয়ে দেই, তা হলে জনগণের ওপরে চাপ পড়বে। আমি আগে থেকে বলেছি— সরকার এমন কিছু করবে না, যা জনগণের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে গ্যাসে দাম সামান্য পরিমাণে সমন্বয় করা হয়েছে। তেলের ক্ষেত্রে তা এখনও করিনি।

যাযাদি/ এস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে