সমন্বিত চিংড়ি চাষে ভাগ্য ফিরেছে কৃষকের

সমন্বিত চিংড়ি চাষে ভাগ্য ফিরেছে কৃষকের

খুলনার ডুমুরিয়ায় সমন্বিত চিংড়ি চাষে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে কৃষকের। তারা একই জমিতে চিংড়ি (গলদা), সাদা মাছ, ধান ও শাকসবজি উৎপাদন করছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে।

সরেজমিন জানা গেছে, দেশে ক্রমন্বয় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার বাসস্থানের কারণে যেমন কমছে কৃষি জমি, তেমনি বাড়ছে মানুষের খাদ্যের চাহিদা। আর তাই অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে মিঠা পানিতে 'সমন্বিত চিংড়ি চাষ কার্যক্রম' শুরু হয়। চীন সর্ব প্রথম সমন্বিত চাষ শুরু করে। ১৯৫০ সালে বিশ্বব্যাপী এ চাষ ব্যবস্থা আরো উন্নত হয়, বিশেষ করে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে। বাংলাদেশের কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে চলেছে। সমন্বিত চাষ এখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ উপজেলায় লবণ ও মিঠা পানির মিলে ১৪শ হেক্টর জমিতে মৎস্য ঘের রয়েছে। ডুমুরিয়া কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের দিক দিয়ে দেশের অন্যতম। কৃষকরা মৎস্য ঘেরের আইলে সীম, করলা, শসা, লাউ, টমেটো, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, বরবটি, বেগুন, পেঁপে, ওলকপি, ফুলকপি, আলু, চুইঝাল, কাঁচকলা চাষাবাদ করছে। গেল বছরে উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে ঘেরের একই জমিতে প্রায় ৩শ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে।

উপজেলার বান্দা, বড়ডাঙ্গা, হাজিবুনিয়া, সোনাডাঙ্গা, রাজনগর, তালতলা, চাতরাবিল, ধানিবুনিয়া, ঘোনা, কাপালিডাঙ্গা, গুটুদিয়া, বগারখোর, কালিদাশপুর, খড়িয়া, মির্জাপুর, ভেলকামারি, বিলপাবলা, লাইনবিলপাবলা, রামকৃষ্ণপুর, মাধবকাটি, রংপুর, রঘুনাথপুরসহ অধিকাংশ বিলে মিশ্র চাষাবাদ হচ্ছে।

হাজিবুনিয়া এলাকার ঘের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ ঢালী সমন্বিত চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে সে মৎস্য চাষ শুরু করে। সোনাডাঙ্গা, রাজনগর ও হাজিবুনিয়া বিলে তার ৫৫টি গলদা চিংড়ির ঘের আছে। প্রতি বিঘা জমিতে সে সাড়ে ৩ হাজার গলদা রেনু, ২৫টি কাতলা, ২৫টি সিলভারকার্প, ১টি গস্নাসকার্প ও ১টি বস্নাপকার্প মাছ দেয়। ঘের ব্যবসায়ী বিশ্বজিত ঢালী যায়যায়দিনকে বলেন, প্রত্যেকটা ঘেরের আইলে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেছি।

এ বছর সবজির দাম খুব ভালো। তিনি বলেন, এবার ২০০ মন গলদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে এবং প্রায় ২৮ লাখ টাকার সবজি বাজারজাত করেছি। তবে সবজিতে আর্থিকভাবে লাভ বেশি হলেও করোনার কারণে মাছের ভালো দাম পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ওই এলাকার ঘোনার বিকাশ গাইন, হাজিবুনিয়ার অংশু ঢালী, বিশ্বজিৎ মন্ডল, বিকাশ ঢালী, দিলিপ মন্ডল, গুটুদিয়ার সুকুমার মন্ডল, চৈতন্য কবিরাজ সমন্বিত চিংড়ি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে