ধীর গতিতে কমছে হাওড়ের পানি বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ধীর গতিতে কমছে হাওড়ের পানি বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

কমছে না হাওড়ের পানি, দুশ্চিন্তায় হাওড়ের হাজার হাজার কৃষক। গত বছর ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই হাওড়ে হাওড়ে পুরোদমে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত কোনো হাওড়ে এখনো চোখে পড়ছে না বোরো ধান রোপণ। ফলে শুধু বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল কৃষদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা। আগামী ১৫ দিনের মধ্যেও বোরো ধান রোপণের পুরোপুরি মৌসুম শুরু হবে কি না তা নিয়েও রয়েছে সংশয়ে কৃষকরা।

সুনামগঞ্জ জেলার হাওড় উপজেলা তাহিরপুর। উপজেলায় শনি, মাটিয়ান, আঙ্গারউলি, ফানা, কেচুরিয়া, মহালিয়া, শমসা হাওড়সহ ছোট বড় ২৩টি বোরো ফসলি হাওড় রয়েছে। এসব হাওড়ে বোরো ফসলি জমি রয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর। এ জমিতে ৪০ হাজারের অধিক কৃষক বোরো ধান চাষাবাদ করেন। আর এ সমস্ত জমি এক ফসলি। বছরে একবারই কৃষকরা তাদের জমিতে ধান ফলান। বাকি টুকু সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে সম্পূর্ণ জমি।

প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই প্রতিটি হাওড়ে পুরোদমে চলে বোরো ধান রোপণ। চলতি বছর হাওড়ে পানি এখনো না কমায় ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি এসেও কৃষক জমিতে ধান রোপণ করতে পারছেন না। ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে শুরু হবে কি না তা বলা যাচ্ছে না সহসাই। হাওড়ে হাওড়ে পানি না কমায় এ চিত্র দেখে হাওড় পারের হাজার হাজার কৃষক বোর ধান রোপণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সেই সঙ্গে অনেক কৃষক উচ্চ ফলনশীল ব্রি আর ২৯ রোপণ করার ইচ্ছে থাকলে রোপণ মৌসুম দেরী হওয়ার কারণে ব্রি আর ২৯ রোপণ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

বিগত বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষক ভালো ধান উৎপাদন করতে পেরেছিলেন। ধানের বাজার দর ভালো পেয়েছেন। সে আশাতে এবার অনেক কৃষক গত বছরের চাইতে আরো অধিক পরিমাণ জমি রোপনের ইচ্ছে পোষণ করেন। কিন্তু রোপণ মৌসুম মাসখানেক পিছিয়ে পড়ায় তাদের আশা হাতাশায় রূপ নিচ্ছে। হাওড়ের পানি ধীর গেিতত কমায় এখনো অনেক কৃষক বীজতলা তৈরির কাজ শেষ করতে পারছেন না।

\হশনি হাওড়পাড় দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের মাড়ালা গ্রামের কৃষক শামীম আহমেদ বলেন, পৌষ মাসের শুরুতে গত বছর শনির হাওড়ের অর্ধেক জমি রোপণ শেষ হয়ে ছিল। এবার হাওড়ে পানি না কমায় কৃষক এখনো জমিকে বোরো রোপণ শুরু করতে পারছেন না।

মাটিয়ান হাওড়পাড় রতনশ্রী গ্রামের কৃষক এনামুল কবির বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হাওড়ের পানি না কমলে পরবর্তী সময়ে আর জমিতে বোরো রোপণ করেও তেমন কোনো লাভ হবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনি হাওড়, মাটিয়ান হাওড়, বলদা হাওড়সহ সব হাওড়ে একই অবস্থা। ধীর গতিতে কমছে হাওড়ের পানি। এভাবে ধীর গতিতে পানি কমলে হাওড়ের বোরো ধান রোপণ শেষ করতে অনেক দিন লেগে যাবে। যথা সময়ে জমিতে রোপণ না করতে পারলে অসময়ে জমি রোপণ করে ভালো ফসল আশা করতে পারেন না।

মাটিয়ান হাওড়পাড় দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আজর আলী বলেন, হাওড়ের ধীর গতিতে পানি কমায় কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। জমিতে বোরো রোপণ না করতে পারলে আগামী দিনে কি খাবেন, এ নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই বলেও তিনি জানান।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান উদ দৌলা অপু বলেন, ধীর গতিতে কমছে হাওড়ের পানি। এভাবে পানি কমলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেও কৃষক বোর ধান রোপণ পুরোপুরি শুরু করতে পারবেন কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে। রোপণ মৌসুম পিছিয়ে পড়ায় আমরা কৃষকদের কম সময়ে যে ধান পাকে সে ধান রোপণের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে