কৃষিতে সবুজ বিপস্নব সফল করতে প্রয়োজন সমবায় কৃষি

কৃষিতে সবুজ বিপস্নব সফল করতে প্রয়োজন সমবায় কৃষি

ভূমিহীন, ভাগচাষী, দরিদ্র, একাডেমিক অশিক্ষিত কৃষকদের সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে উন্নত চাষাবাদ প্রয়োগ ও উপকরণ সরবরাহ এবং যৌথ কৃষি খামার স্থাপন করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সমবায়ের অবদান অসামান্য। ইউরোপ ও আমেরিকায় কৃষি সমবায় এবং যৌথ কৃষি খামার সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে ২শ' বছর আগে থেকেই। বাংলাদেশে ইউরোপ আমেরিকার মতো সফল না হলেও কৃষি সমবায়ের সূচনা হয়েছিল ঠিকই।

ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ৮০'র দশক পর্যন্ত কৃষি সমবায়ের সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত থাকে। গ্রামভিত্তিক কৃষি সমবায় গড়ে উঠে, তাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি। কৃষি সমবায়ের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে বৈপস্নবিক পরিবর্তন সূচিত হয় ড. আখতার হামিদ খান প্রবর্তিত দ্বি-স্তর সমবায় পদ্ধতি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে। ১৯৫৯ সালে কুমিলা পদ্ধতি নামে পরিচিত দ্বি-স্তর সমবায় কৃষি ক্ষেত্রে নবজাগরণ তৈরি করে। যার ফলশ্রম্নতিতে ৮০'র দশকের মাঝামাঝি এ দেশে প্রথম সবুজ বিপস্নব সূচিত হয়। দ্বি-স্তর সমবায় বা কুমিলস্না পদ্ধতি তৎকালীন সময়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

আগে গ্রামের তালগাছে ওপরে থাকতো বাবুই পাখির বাসা আর মাঝামাঝি থাকত কৃষক সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড। এখন তালগাছও আগের মতো নেই আবার থাকলেও বাবুই পাখির বাসা ঠিকই আছে কিন্তু কৃষক সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড আর নেই। আর যদি সাইনবোর্ড থাকেও তাহলে সমিতির কার্যক্রম বাস্তবে নেই। তবে গোয়ালে গরু না থাকলেও কাজির কিতাবে লম্বা ফিরিস্তি ঠিকই আছে। কৃষি সমবায়ের তত্ত্বাবধায়ক ও সমন্বয়ক বিআরডিবি'র নথিপত্রে ৭৭ হাজারের বেশি প্রাথমিক কৃষক সমবায় সমিতির (কেএসএস) কথা বলছে। সমিতি নাম-সর্বস্ব আছে। অন্যদিকে বিআরডিবি কে এস এস এর কেন্দ্রীয় সমিতি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় এসোসিয়েশন (ইউসিসিএ) এর সংখ্যা ৪৯০টি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা প্রায় প্রতিটি ইউসিসিএ'র নিজস্ব ভবন আছে। কয়েকটি ইউসিসিএ'র প্রচুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও রয়েছে। রয়েছে আয়ের ব্যবস্থা। ভাত ছড়ালে যেমন কাকের অভাব হয় না তেমনি ইউসিসিএগুলোতে রয়েছে ৫-৮ জন নিয়মিত স্টাফ। তবে অধিকাংশ ইউসিসিএ'র কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছে না। সরকারি বরাদ্দ ও নিজস্ব আয় না থাকায় মাসের পর মাস বেতন বাকি পড়ে আছে। আছে ব্যবস্থাপনা কমিটিও। আই আর ডিপি বিলুপ্ত হয়ে বিআরডিবি গঠিত হলে ইউসিসিএতে সরকারি বেতন ও পরিচালনা ব্যয় বন্ধ করে দেয় সরকার।

মাঝেমধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আংশিক স্যালারি সাপোর্ট দেয়া হয়। বাকিটা নিজস্ব আয় থেকে কর্মচারীরা বেতন পান ও ব্যবস্থাপনা কমিটি সম্মানী পান। অন্যদিকে ইউসিসিএগুলোর সমন্বয়ক ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাতীয় পলস্নী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ না থাকলেও রাজস্ব খাত থেকে নিয়মিত বেতন এখনো পাচ্ছেন। ফেডারেশনের কিছু আয়ের ব্যবস্থা থাকায় সব সময় ব্যবস্থাপনা কমিটিও থাকে। আবার ইউসিসিএসমূহের ভূসম্পদ অব্যবহৃত থাকায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইউসিসিএগুলো ভূমির খাজনা পরিশোধ না করায় ভবিষ্যতে ইউসিসিএর ভূসম্পদ বেদখল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি সমবায়ের কাঠামো, স্থাপনা, সম্পদ ও সমবায় অধিদপ্তর, বিআরডিবি'র বিশাল লোকবলসহ স্থাপনা সবই বিদ্যমান রয়েছে। কেবল সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে সম্ভানাময় কৃষি সমবায় কোমায় রয়েছে। দেশে কৃষি সমবায়ের পুনর্জাগরণের জন্যে প্রতিটি গ্রামে আবার নতুন করে কৃষক সমবায় সমিতি গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যমান সমবায় সমিতিগুলো পুনর্গঠন করতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে