বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আশ্বিন মাসের কৃষি

ম যাযাদি রিপোর্ট
  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
পরিষ্কার নীল আকাশ, বাড়ির পাশে কাশফুলের ঢেউ, অতিথি পাখি আসার সময়, বিলে শাপলা ফোটার সময় এখন। অযত্নে অবহেলায় শিউলি ফুটেছে। আকাশে মেঘ কেটে গেলে আসবে শিশির আর শীতের হিমেল হাওয়া। আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের এখনই ভরা মৌসুম। এখন মাঠে আমন ধানের শিষ বের হয়েছে। আমন ধানের বয়স ৪০ থেকে ৫০ দিন হলে ইউরিয়ার সারের শেষ কিস্তি ক্ষেতে প্রয়োগ করতে হবে। এ সময় বৃষ্টির অভাবে খরা অথবা অতি বৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য সম্পূরক সেচের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাইপের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিলে পানির অপচয় অনেক কম হবে। \হমধ্য আশ্বিনে ধানের শিষকাটা লেদা পোকা, মাজরা, পামরি, চুঙি, গলমাছি পোকার আক্রমণ হতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে, জমিতে খুঁটি দিয়ে, আলোর ফাঁদ পেতে, হাতজাল দিয়ে পোকা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমন সময় মতো চাষ করতে না পারলে অথবা নিচু এলাকায় আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিআর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৪৬, বিনাশাইল বা স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা যায়। ধানের ক্ষেতে গুছিতে ৫ থেকে ৭টি চারা দিতে হবে এবং অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ইউরিয়া প্রয়োগ ও অতিরিক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। রবি বা শীত মৌসুমে যেসব সবজি পেয়ে থাকি সেগুলো হচ্ছে শীতের সবজি। শীত মৌসুম শুরুতে বা শীত মৌসুম শুরুর মাসখানেক আগে থেকে যে সব আগাম জাতের চাষকৃত শীতের উৎপাদিত সবজিগুলো সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হয়, সেগুলোকে শীতের আগাম সবজি বলা যেতে পারে। কৃষক চাষকৃত আগাম জাতের উৎপাদিত শীতের সবজি সংগ্রহ করে নিজেদের পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি সবজি বাজারজাত করে বাড়তি বাজারমূল্য পেয়ে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন। বাজারের দিকে চোখ ফেরালে এ সময়ে শীতের আগাম সবজি যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, লাউ, মুলা, কুমড়া, মিষ্টিকুমড়া এসব সবজি পাওয়া যায়। আগাম শীতের সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সঠিক নিয়মে সবজি সংগ্রহ এবং বাজারজাতকরণ বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর ব্যতিক্রম ঘটলে গুণগত মানের সবজি ও সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আগাম শীতের সবজি উৎপাদনের জন্য উঁচু জায়গা কুপিয়ে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রয়োগ করে মুলা, লালশাক, পালংশাক, সরিষা প্রভৃতি শাক উৎপাদন করুন। সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ওলকপি, শালগম, টমেটো, বেগুন, ব্রোকলিসহ অন্যান্য শীতকালীন সবজির চারা তৈরি করে মূল জমিতে বিশেষ যত্নে আবাদ করার এখই সবচেয়ে ভালো সময়। বৃষ্টি কমে আসার পর কোমর বেঁধে মাঠে নামতে হবে কৃষকদের। আখের চারা উৎপাদন করার উপযুক্ত সময় এখন। সাধারণত বীজতলা পদ্ধতির পরিবর্তে পলিব্যাগে আখের চারা উৎপাদন করা হয়। এতে বীজ আখ কম লাগে এবং চারার মৃতু্যহার কম হয়। চারা তৈরি করে বাড়ির আঙিনায় সুবিধাজনক স্থানে সারি করে রেখে খড় বা শুকনো আখের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখুন। চারার বয়স ১ থেকে ২ মাস হলে মূল জমিতে রোপণ করুন। যেসব জমিতে উফশী বোরো ধানের চাষ করা হয় সেসব জমিতে স্বল্পমেয়াদি জাতের সরিষা যেমন বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-১০ চাষ করা যায়। অন্যান্য সময়ের থেকে আশ্বিন মাসে কলার চারা রোপণ করা সবচেয়ে বেশি লাভজনক। এতে ১০-১১ মাসে কলার ছড়া কাটা যায়। কলা বাগানে সাথী ফসল হিসেবে ধান, গম, ভুট্টা ছাড়া যে কোনো রবি ফসল চাষ করা ভালো। বর্ষায় রোপণ করা চারা কোনো কারণে নষ্ট হয়ে গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণ করতে হবে। বড় হয়ে যাওয়া চারার সঙ্গে বাঁধা খুঁটি সরিয়ে দিন এবং চারার চারদিকের বেড়া প্রয়োজনে সরিয়ে বড় করে দিন। চারা গাছসহ অন্যান্য গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় এখন। গাছের গোড়ার মাটি ভালো করে কুপিয়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে ঠিক ততটুকু স্থান কোপাতে হবে। পরে কোপানো স্থানে জৈব ও রাসায়নিক সার ভালো করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে