শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

চন্দন গাছ চাষ করে আপনি হতে পারেন কোটিপতি

প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন
  ১২ মে ২০২৪, ০০:০০
চন্দন গাছ চাষ করে আপনি হতে পারেন কোটিপতি

কৃষি প্রধান দেশ বাংলাদেশ। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচগুণ ও ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ১০ গুণ। দুই যুগ আগেও দেশের অর্ধেক এলাকায় একটি ও বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে তিন থেকে চারটি ফসল হচ্ছে। পরিশ্রমী কৃষক ও কৃষি বিজ্ঞানীদের যৌথ উদ্যোগে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীতে সবচাইতে দামি গাছ চিরসবুজ সুগন্ধি শ্বেত চন্দন। মানুষের স্বাস্থের জন্য উপকারী অসাধারণ একটি দুর্লভ ভেষজ উদ্ভিদ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় চন্দনের বহুল ব্যবহার আছে। চন্দনের আছে হাজারো ঔষধিগুণ। বাস্তবে দুই প্রকার চন্দনের অস্থিত্ব পাওয়া যায়। শ্বেত চন্দন ও রক্ত চন্দন। এই শ্বেত চন্দন গাছ সান্টালাসি পরিবারের সান্টালুমের একটি ছোট চিরহরিৎ, রোমহীন গাছ। এই গাছ ১৫ থেকে ২০ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। চন্দন গাছ সাধারণত রাস্তার ধারে বা আবাসভূমির পাশে জন্মায়। এক একর জমিতে চন্দন গাছ চাষ করে ৩০ থেকে ৩২ কোটি টাকা পর্যন্ত উপার্জন করা যায়। কেউ যদি ১০টি গাছ চাষ করতে পারেন তাহলে কোটিপতি হতে পারবেন। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়। ঢাকার বলধা গার্ডেনের সাইকি অংশে, বোটানিক্যাল গার্ডেনে এবং ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শ্বেত চন্দনের গাছ দেখা যায়। রূপচর্চার জন্য চন্দনের খ্যাতি যুগ যুগ ধরে। প্রাচীনকালে রূপচর্চার অন্যতম একটি উপাদান ছিল চন্দন। বর্তমান সময়েও বিভিন্ন রকম কসমেটিকস ও সুগন্ধিতে চন্দন ব্যবহৃত হয়। চন্দন ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় বেশ উপকারী। এতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান- যা ব্রণ ও ত্বকের অন্যান্য সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া মুখের বলিরেখা দূর করতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং রোদে পোড়া দাগ দূর করতে চন্দন ব্যবহার করা হয়। চামড়ার কালো ও লালচে দাগ দূর করা, স্ক্রিন ক্যানসার, চামড়ার এলার্জিতে দুনিয়াব্যাপী সমাদৃত এই চন্দন। এর কাষ্ঠ খন্ডকে পাথরের উপরে ঘষলে মিহি কাই বের হয়। সেটার বর্ণ খুবই সুন্দর, মানুষ চন্দন বণের্র চামড়া খুবই পছন্দ করে। তাইতো সুশ্রী রমণীরা তাদের গায়ের রং চন্দনের মতো করার জন্য উদগ্রীব থাকে এবং মুখমন্ডলে চন্দন গুঁড়া ব্যবহার করতে ভালোবাসে। চন্দন কাঠে তৈল থাকে, এর কাঠ ঘষা কাই চামড়াতে লাগালে চামড়ার বর্ণ মিহি ও চিকচিক করে। শ্বেত চন্দনের গাছ থেকে তেল নিষ্কাশন করে প্রসাধনী, ওষুধ ও দামি আতর শিল্পে ব্যবহার করা হয়। শ্বেতচন্দন আমাদের কাছে সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত হলেও চন্দন কাঠের নির্যাস সাবান, পাউডার, আতর, ক্রিম, দাত মাজার পেস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক ভেষজ শাস্ত্রে শ্বেতচন্দন বহু রোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। রূপচর্চায় শ্বেত চন্দন ব্যবহারে জাদুকরি উপকার পাওয়া যায়। চন্দনের ঘ্রাণ উপাদেয়, এর ঘ্রাণেও রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা। এর ঘ্রাণ ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী। সবশ্রেণির বয়স্ক মানুষের কাছে এই ঘ্রাণ পছন্দনীয়। চন্দনের তাজা ঘ্রাণ কিংবা ধোঁয়া শ্বাসনালির প্রদাহ দূর করে। বাচ্চাদের বদ হজম দূর এবং হজম শক্তি বৃদ্ধিতে এর তুলনা নেই। রপটের গ্যাস, কলিজার প্রদাহে বড়ই উপকারী। চন্দনকে ঔষধি গুণের খনি বলে মনে করা হয়। এতে অ্যান্টিপায়রেটিক (জ্বর কমানোর গুণ), অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যাস্কেবেটিক এবং মূত্রবর্ধক গুণ পাওয়া যায়। চন্দন কাঠ ব্রঙ্কাইটিস, সিস্টিসিস (মূত্রাশয় ফুলে যাওয়ার সমস্যা), ডিসুরিয়া (প্রস্রাবের সময় জ্বালা করার সমস্যা) এবং ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রেও সমাধানে কাজে আসে। রক্ত চন্দনেও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ব্যথা কমানোর গুণাগুণ আছে। অতিরিক্ত চিন্তা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বমির সমস্যা দূর করতেও চন্দন কাঠ উপকার করে। এক চামচ চন্দনের গুঁড়া এবং এম্বালিসা অফিসিনালিস এক কাপ উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে খেলে বমি-বমি ভাবের সমস্যা থেকে রেহাই পায়া যেতে পারে। ত্বকের অ্যালার্জি দূর করতে চন্দনের ভূমিকা রয়েছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এটি সোরিয়াসিস এবং অ্যাটোপিক ডার্মাটিটিস যা ত্বকে লাল র?্যাশে চুলকানির জন্য উপশমেও লাভদায়ক। এর আলফা স্যান্টালোল যৌগে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণই এর জন্য দায়ী। কোনো কৃষক যদি এক একর জমিতে এই চন্দন গাছের চাষ করেন একটা সময় তিনি ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারবেন। তবে এই অতীব লাভজনক চাষ সম্পর্কে অনেক কম মানুষেরই অভিজ্ঞতা আছে। শ্বেত এবং রক্ত চন্দন দুটিই ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে শ্বেতচন্দনের মূল্য বেশি। একটি চন্দন গাছ নামমাত্র পরিচর্যায় ১০ থেকে ১৫ বছরের ব্যবধানে পেনশনের মতো আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। চন্দন গাছ নিচু জমিতে চাষ করা উচিত নয়- তাহলে সেটা পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কারণ চন্দন গাছের জন্য খুব বেশি জলের দরকার হয় না। যে সব স্থানে অত্যাধিক তাপমাত্রা রয়েছে সে সব জায়গায় চন্দন চাষ খুব একটা ভালো হয় না। ৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এই চাষ ভালো হয়। চন্দন সাধারণত তিন প্রকারের- শ্বেতচন্দন, রক্ত বা লাল চন্দন, পিত চন্দন। তবে পিত চন্দনের কথা শোনা গেলেও এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শ্বেত এবং রক্ত চন্দন দুটিই ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার হয়। শ্বেতচন্দন গাছ থেকে তেল, প্রসাধনী, ওষুধ ও দামি আতর, ধূপ, সাবান, পাউডার, আতর, ক্রিম, দাত মাজার পেস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। চন্দন কাঠের চাষ বেশ লাভজনক, উলেস্নখযোগ্য বিষয়টি হলো আমাদের দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা ভালোই রয়েছে। সেই প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আজও এর চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। চন্দন কাঠের চাষে আপনাকে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে, তার বহুগুণ বেশি অর্থ আপনি উপার্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ এটি বেশ লাভজনক। তবে এর জন্য আপনাকে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে। শ্বেত চন্দন গাছগুলোকে চিরসবুজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গাছের বয়স ২০ হলেই প্রায় পরিণত এই গাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি কাঠ দেবে। মাটির উপরের ভাগের কাঠের দাম বর্তমান বাজারে যা ১৫ হাজার টাকা প্রতি কেজি;?তবে ২০ বছর পর আরও দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। এমনকি মাটির নিচের শিকড় ইত্যাদির কাঠও পাওয়া যেতে পারে প্রায় ১৫ লাখ টাকার। অর্থাৎ বর্তমানে কোনো গাছ রোপণ করলে ২০ বছর পর অনায়াসেই আপনি গাছের সংখ্যা অনুযায়ী কোটি টাকার মালিক হয়ে যেতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে