গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সরকারের কিছু উদ্যোগ

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া- উভয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তাদের নিজেদের কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন আর তাও স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। তাদের চাকরির এ অনিশ্চয়তা দূর করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করতে যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন, যা বর্তমানে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন গণমাধ্যমবান্ধব বর্তমান সরকারের আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সরকারের কিছু উদ্যোগ

দেশের উন্নয়নে স্বাধীন গণমাধ্যম ও গণমুখী সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি গণতান্ত্রিক সরকার গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের এ ভূমিকা ক্ষেত্রবিশেষে নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতার মতো সমস্যার কারণে। গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের সুবিধা নিয়ে সুবিধাবাদীচক্র অসত্য, বিকৃত ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেখা যায়। সাংবাদিক সমাজ ও সংবাদ মাধ্যমের সমস্যা দূর করে সাংবাদিকতাকে সত্যিকার অর্থে কল্যাণমুখী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বেশকিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে এবং একই ধরনের নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার মতো স্পর্শকাতর বিষয় ব্যতীত অন্যসব বিষয়ে অবাধ তথ্য প্রবাহসহ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পর রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। সংবিধানের আলোকে সরকার দেশের গণমাধ্যমকে সবধরনের সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রেখেছে।

গণমাধ্যমবান্ধব শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। যুগান্তকারী এ উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে গণমাধ্যমকর্মীসহ আপামর জনসাধারণের জন্য চাহিদা অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার একটি আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো আইনে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সাংবাদিকদের চাহিদা মোতাবেক তথ্য দিতে বাধ্য। এভাবে আইনটি এসব অফিসের কার্যক্রম পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী বর্তমানে প্রত্যেক দপ্তরে সংবাদকর্মী বা যে কোনো ব্যক্তির চাহিদা মোতাবেক তথ্যপ্রদানের জন্য নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো তথ্যপ্রদানকারী এ ধরনের কর্মকর্তার সংখ্যা ৪২,২৫৪। তথ্য অধিকার আইন কার্যকর হওয়ার পর ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ আইনের আওতায় সাংবাদিকসহ মোট ১,১৯,৮৩১ ব্যক্তিকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য দেওয়া হয়েছে। তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কমিশনে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ২,৩১৫টি মামলা (অভিযোগ) শুনানির জন্য গৃহীত হয়। এর মধ্যে ২,২১৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এধরনের ৬২টি মামলায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের চাহিদা অনুযায়ী আইনে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তথ্যপ্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় বা অবহেলা প্রদর্শন করায় অনেক কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। দুর্নীতি দমনে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার পেনাল কোড সংশোধন করেছে। সংশোধিত পেনাল কোডের অধীনে সম্পাদকদের বিরুদ্ধে কোনো মানহানি মামলায় বিজ্ঞ আদালতের সমন ছাড়া শুধু পুলিশি ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা যায় না। এ ধরনের আইনি সুরক্ষা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে ভূমিকা রাখছে। সাংবাদিকরা এখন একেবারে নির্ভয়ে তাদের ওপর অর্পিত মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সাংবাদিক, লেখক ও বস্নগারদের ওপর কুচক্রীমহল, সাম্প্র্রদায়িক অপশক্তি ও জঙ্গিদের হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অনেক কমে এসেছে। পত্রপত্রিকা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

সংবাদপত্রের মালিকরা বিদেশ থেকে বিনা শুল্কে নিউজপ্রিন্ট ও অন্য প্রিন্টিংসামগ্রী আমদানি করতে পারেন। অন্যদিকে তারা তাদের সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের ঘোষণা অনুযায়ী বেতন-ভাতা দিয়ে থাকেন। সরকার, সাংবাদিক ও মালিক প্রতিনিধিদের নিয়ে ইতোমধ্যে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকার বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর সাংবাদিক, ক্যামেরাপার্সন ও অন্য সহযোগী কর্মীদের ওয়েজবোর্ডে অন্তর্ভুক্তির কথা ভাবছে। বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্প্রচার বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট আপলোডের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সার্ভিস সংযোগ উচ্ছেদ স্থানীয় গণমাধ্যমকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্রও তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছে।

সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দেশের গণমাধ্যমের শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। সারা দেশে বিদু্যৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, অসংখ্য টিভি চ্যানেলের সহজলভ্যতা তথ্যকে জনগণের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। এখন আর কেউ ইচ্ছে করলেই তথ্য গোপন করতে পারবে না। আর এ অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন করে নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উলেস্নখ করতে হয়- কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও লাইসেন্সিং রেগুলেশন ২০১০, বেসরকারি এফএম বেতারকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১০, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৪ এবং জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ (২০২০ সালে সংশোধিত)।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে আরও গণমুখী করতে জাতীয় অনলাইন নীতিমালা অনুসরণে এ পর্যন্ত ৮৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং দেশের প্রতিষ্ঠিত ৯২টি পত্রিকার অনলাইন নিউজ ভার্সনকে অনুমোদন দিয়েছে। তথ্য অধিদপ্তর মন্ত্রণালয় অনুমোদিত এসব অনলাইন নিউজ সার্ভিসের নিবন্ধন তদারকি করছে। এ ধরনের আরও অনলাইন গণমাধ্যম অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এসব অনলাইন গণমাধ্যম দেখভালের দায়িত্বে থাকবে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ অনুসরণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিষ্ঠিতব্য স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন।

সরকারের গণমাধ্যমবান্ধব নীতির সুবাদে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে মিডিয়াভুক্ত পত্রপত্রিকার সংখ্যা ৭০০-র বেশি। এদের মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ৫৬০টি, যার মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ২৫৫টি। শেখ হাসিনার সরকার ঘোষিত 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' দেশে ইলেকট্র্রনিক মিডিয়ার প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্র পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি বিটিভি ওয়ার্ল্ড, বিটিভি চট্টগ্রামকেন্দ্র (সিটিভি) ও সংসদ টেলিভিশন সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিটিভির অনুসরণে অন্যসব বিভাগে পর্যায়ক্রমে টিভিকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বাংলাদেশ বেতার ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের পাশাপাশি সরকার এ পর্যন্ত ৪৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, ২৭টি এফএম বেতার ও ৩১টি কমিউনিটি বেতারকে লাইসেন্স প্রদান করেছে। এর মধ্যে ৩১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল, ২২টি এফএম বেতার ও ১৭টি কমিউনিটি বেতারকেন্দ্র বর্তমানে সম্প্রচারে রয়েছে এবং অন্যরা সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ থেকে দূরদর্শন ফ্রি ডিসের মাধ্যমে সারা ভারতে সম্প্রচার করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণ দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনকে শক্তিশালী করেছে। দেশে টিভি চ্যানেলগুলো এখন অনেক কম খরচে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করা হলে এ সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।

দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে টকশো, আলোচনা, বিতর্ক- সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এমনকি তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি সম্প্রচারিত এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীনভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা এসব অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের সেন্সর ছাড়া সরকার বা সরকারি কর্মকান্ডের যথেচ্ছ সমালোচনা করেন। এ ধরনের স্বাধীন মতপ্রকাশে সরকার কখনো হস্তক্ষেপ করে না বা কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি করে না। অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া এমনকি পত্রপত্রিকা ৩৬০ ডিগ্রি প্রচার কৌশল সুবিধা গ্রহণ করে এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ জোরদার হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৭ কোটি মোবাইল সিম ও ১১ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সমাজের ওপর নতুন ধারার গণমাধ্যম- 'নিউ মিডিয়া'র ব্যাপক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরছে। আর এ গুরুত্ব বিবেচনা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় 'সোশ্যাল মিডিয়া উইং' নামে একটি নতুন উইং সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয় গঠিত গুজব প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভার দ্য টপ (ওটিটি) মিডিয়া সার্ভিস, ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সার্ভিস নীতিমালা ও আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) টিভি/আইপি রেডিও সেবা রেজিস্ট্রেশন নীতিমালা নিয়েও কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) প্রথমবারের মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেল অনুমোদনের মধ্যদিয়ে দেশে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ইলেকট্রনিক মিডিয়া যুগের সূচনা হয়। সে সময় দেশে চালু প্রথম বেসরকারি টিভি চ্যানেল, একুশে টিভি বিশেষভাবে উলেস্নখযোগ্য। পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি-জামায়াত সরকার পূর্ববর্তী সরকারের স্বাধীন গণমাধ্যম নীতির বিরোধিতা করে এবং একুশে টিভি বন্ধ করে দেয়।

দেশে ক্রমবর্ধমান গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পেশাগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে সাংবাদিকদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীরা বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে ২০১৪ সালে সরকার বাংলাদেশ সিনেমা এবং টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশিক্ষণে নিয়োজিত প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ও জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সম্প্রসারণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে ১০৪ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ তলাবিশিষ্ট তথ্য ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে অত্যাধুনিক তথ্য কমপেস্নক্স নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের পেশাগত সহায়তা প্রদানকারী শীর্ষ সরকারি সংস্থা- তথ্য অধিদপ্তর সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরে বিভাগীয় অফিস স্থাপন করছে। এর মাধ্যমে সকল বিভাগে তথ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া- উভয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তাদের নিজেদের কর্মস্থলে চাকরির অনিশ্চয়তায় ভোগেন, আর তাও স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকি। তাদের চাকরির এ অনিশ্চয়তা দূর করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রণয়ন করতে যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) আইন যা বর্তমানে অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন গণমাধ্যমবান্ধব বর্তমান সরকারের আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সরকারি অনুদানে পরিচালিত এ ট্রাস্টের আওতায় ২০১১-১২ সাল থেকে ৫,২৬৩ জন অসচ্ছল দারিদ্র্যপীড়িত সাংবাদিককে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি সাংবাদিক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩ কোটি ৬৬ লাখ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের জন্য বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টকে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুদান হিসেবে ১০ কোটি টাকা প্রদান করেন, যা বর্তমানে বিতরণ করা হচ্ছে।

লেখক : সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে