শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কাশের শুভ্রতায় কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ে

ম অনন মজুমদার
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
'আবার আসিব ফিরে, ধানসিঁড়িটির তীরে'- মাইকেল মধুসূদন দত্তের এই কথার অনুকরণে বলতে ইচ্ছে করে, যদি আমার আবারও পুনর্জন্ম হয় আমি কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরূপ প্রকৃতিতে ফিরে আসতে চাই। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুর এক আশ্চর্য পালাবদল দেখা যায় কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ে। শীতে কুয়াশার চাদর মোড়ানো ক্যাম্পাসে হাড়-কাঁপানো শীতল ছোঁয়া, কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্য আর পাতাঝরা বসন্ত, গ্রীষ্মে কাঠফাঁটা গরমে রসালো আম-কাঁঠালের মেলা, বর্ষায় স্নিগ্ধ শীতল সবুজ প্রকৃতি আর শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের নিচে শুভ্র কাশফুল। যেন পুরো বাংলাদেশের প্রকৃতির এক টুকরো সম্মেলন। কাশফুল শরতের আগমনী জানায়। আর এই দেশে শরতের অন্যতম আকর্ষণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপুজো। শরতেই এর লগ্ন পড়ে বলে একে তাই বলে শারদীয় দুর্গাপূজা। বাতাসের তালে তালে যখন পুরো কাশবন দোলা দেয়, মনে হয় যেন ঢাকের বাদ্যে নৃত্যে মগ্ন ওরা। কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশে ও শহীদ মিনারের সামনে কৃষ্ণচূড়া সড়কের পাশে ফুটে আছে অপরূপ শোভা কাশফুল। সবুজের চাদরে যেন সাদা সুতোর বুনোন সাথে শহীদ মিনারের লাল ইটের গাঁথুনি। মানুষ আর প্রকৃতির এমন সম্মিলিত রূপ প্রত্যক্ষ করতে অন্তত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ দর্শন অনিবার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী তামিম মিয়া বলেন, মেঘের ঋতু শরৎ; শুভ্রতা, স্বচ্ছতার প্রতীক। মেঘের সঙ্গে সূর্যের লুকোচুরির মধ্যে শরতের মায়াময় রূপে সেজেছে আমাদের ক্যাম্পাস। পাহাড়ি কাশফুলগুলো দেখলেই মনে হয় আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘপুঞ্জ এবার মাটিতে নেমে এসেছে। প্রতিবারের মতো কাশফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেক দর্শনার্থী আসছেন এখানে। ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী আমেনা ইকরা বলেন, শরতের প্রতি অনুরাগ মূলত কাশফুলের কারণেই। যা কিছু অনিন্দ্য সুন্দর তাই আমার মন ছুঁয়ে যায়। বিকেলের হলুদ আলোয় কাশফুলের কোলঘেঁষা মাঠে শিক্ষার্থীদের গানের আসর যেন চাঁদের হাট। প্রকৃতির দেওয়া এই কাশফুলের মোহে কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে আসেন এমন মানুষ নেহাত কম নয়। কাশফুলের সঙ্গে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছবি তোলা বা একটু প্রকৃতির স্বাদ নিয়ে কাশফুলের মধ্যে হারিয়ে যেতে আসেন অনেকেই। তাই বলে যাওয়ার সময় কাশফুলের গুচ্ছ ভাঙা বা সাথে করে নিয়ে গেলে ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে যেতে থাকবে এর সৌন্দর্য। সঙ্গে অবাধে বহিরাগতের প্রবেশে শঙ্কা প্রকাশ করেন খোদ শিক্ষার্থীরাই। এই ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী রোদেলা নিরুপমা বলেন, কুবির কাশবন মুগ্ধতা ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কাছে এই দৃশ্য প্রশান্তির হলেও অশান্তিরও কারণ আছে। বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা কিছুটা নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করে সেখানে। এমন বিষয়গুলোতে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত বলে মনে করি।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে