শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শরতের স্নিগ্ধতায় মায়াবী ক্যাম্পাস

ম আশিক ইসলাম
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
ভোরের শিশিরস্নাত শেফালির স্নিগ্ধ সুভাস। শিশিরভেজা দূর্বাঘাসে রাতভর ঝরেপড়া কমলা-সাদা রঙের বিছানা। শেফালির ঘ্রাণ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই পূর্ব আকাশে রক্তলাল সূর্য। গাঢ় নীল আকাশ তার উপর ডিটারজেন্ট পাউডারের বিজ্ঞাপনের মতো ছড়ানো-ছিটানো হাসিখুশি ধবধবে সাদা মেঘ। তার মধ্যেই মেঘ-রোদের খেলা। কখনো সূর্য ক্ষণিকের জন্য মধ্য গগনে উত্তাপ ছড়ালেও পশ্চিমে হেলে পড়তে না পড়তেই নেমে আসে প্রশান্তি। দখিনের সমীরণ শরতের নির্মল স্নিগ্ধ কোমল চাঁদের আলো কণ্ঠকে করে তোলে সুরময়। যাপিতজীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যে এভাবেই প্রাণের সজীবতা, রং, রূপ ও স্নিগ্ধতা নিয়ে অগোচরে চুপিসারে এসেছে শরৎ। বর্ষার অতি বর্ষণ আর অবিরাম মেঘবালিকার গুড়ুগুড়ু গর্জন থেমে গিয়ে প্রকৃতিতে এখন এক অপরূপ দৃশ্য। ঝকঝকে নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের ভেলা। আর শুভ্র কাশফুলের মুগ্ধ করা রূপে মনকে করছে বিমোহিত। সে মন্ত্রমুগ্ধ সৌন্দর্যে সেজেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ফুটছে সাদা কাশফুল। কৃষি অনুষদ ভবনের পশ্চিম পাশের গবেষণা মাঠ, রেললাইন, চারুকলার পাশের রাস্তা, বধ্যভূমি, জিমনেশিয়ামের পাশে, খোলা মাঠসহ ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে কাশফুল। আকাশে সাদা মেঘের সঙ্গে পালস্না দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে তারা। বাতাসে তার সৌরভ, গন্ধময় আবেশ চারপাশে। একটুখানি নীল আর সাদায় মোড়ানো আকাশ আর পাতাল। মুহূর্তেই চোখে ঘোর লাগে। বাতাসের সঙ্গে যেন গভীর মিতালি কাশবনের। বাতাস কাশবনে খেলা করে মনের সুখে। হেলেদুলে দুই বন্ধুর সময় কেটে যায় অবলীলায়। কাশবনের হাতছানিতে ধরা দেয় আবেগী মন। নির্মল প্রকৃতির এই নীল-সাদা ক্যানভাসে অনেকেই হয়ে ওঠেন উপন্যাসের প্রেমিকযুগল। কখনো কখনো কাশফুলের শোভায় কবিমন লিখে ফেলে অভিমানী বার্তা। 'শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস পরশ বুলিয়ে দেয় তুমি কি পারো না তোমার স্পর্শে আমাকে পূর্ণ করতে। তোমার সব অভিমান, অভিযোগ ভুলে গিয়ে তোমার ভালোবাসার আবেশে আমাকে ভরিয়ে দিতে।' শুধু কাশফুল আর শিউলি নয় ক্যাম্পাসে ফুটেছে আরও নানা রকমের ফুল। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ফুটে আছে রাশি রাশি কামিনী আর টগর। জোহা হলের পুকুর, টিএসসিসি চত্বরে পানির ট্যাঙ্কে ফুটেছে পদ্ম। এছাড়া জুঁই, কেয়া, মালতী, মলিস্নকা, মাধবী, ছাতিম, দোলনচাঁপা, বেলী, জারুল, নয়নতারা, ধুতুরা, ঝিঙে, রাধাচূড়াসহ নানা রকমের ফুলে হেসে উঠেছে প্রকৃতি। ফুলের গন্ধে চারদিক ম-ম করছে। শরতের এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই আসেন ক্যাম্পাসে। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী শতাব্দী রায় বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা আর জলবায়ুর প্রভাবে প্রকৃতি হারাচ্ছে তার চিরায়ত রূপ। তারপরও অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে প্রতি বছরই প্রকৃতিতে আসে শরৎ। এই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকালেই দেখা যায় বাতাসে দোদুল্যমান স্বচ্ছ ও শুভ্র কাশবন। ইট-পাথরের এই যান্ত্রিক শহরের কাছেই গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি। রাবি শিক্ষার্র্থী রূপসা তাসমিন বলেন, শরতের কাশফুল শৈশবের স্মৃতিগুলোকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। বিলের ওইপাশে ফুটে থাকত শত শত কাশফুল। ইচ্ছে করত একবার ছুঁয়ে দেখার। কিন্তু তা কখনো হতো না। তাই ক্যাম্পাসের কাশফুলে রয়েছে রোমাঞ্চকর অনুভূতি। যা দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে