বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

নতুন স্পন্দনের ক্যাম্পাস

সবুজঘেরা ক্যাম্পাসটির উত্তর-পূর্ব অংশ পুরোটাই কাশফুলের স্বর্গরাজ্য। অ্যাকাডেমিক অংশে রয়েছে কাঠগোলাপ, বকুল, বেলী, হাসনাহেনাসহ নানা প্রজাতির ফুল। ক্যাম্পাসের পিছনের অংশে রয়েছে বংশী নদীর মোহনা, যেথায় ফুটে থাকে শত শত শাপলা, সুগঠিত বিশাল মাঠের উপরে খোলা নীলাকাশ প্রতিবারই শরতের ক্যাম্পাসকে সাজিয়ে তুলে অপরূপভাবে। আর তাতে হারিয়ে যায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাণ। প্রতি বারের মতো এবারও ক্যাম্পাসে শরতের ছোঁয়া লেগেছে। তবে, এবার যেহেতু ভিন্ন রূপের শরৎ তাই ভিন্নভাবেই সেজেছে ৩২ একরের ক্যাম্পাস। আর এই ভিন্নতার মধ্য দিয়েই যেন নতুন স্পন্দন পেয়েছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাণ।
ম তানভীর আহম্মেদ
  ২২ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
প্রকৃতি যখন সাদার শুভ্রতায় নিজেকে সাজিয়ে নেয় নির্মলরূপে তখন আর বোঝার বাকি থাকে না শরৎ এসে গেছে। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় মন তখন ভেসে যায় কোন এক ধবল রাজ্যে, যেখানে শুধু স্নিগ্ধতা, প্রশান্তি আর সজীবতা বিরাজ করে। তার সঙ্গে বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলে, উদাসী মন উড়ে যায় অজানা ভালোলাগায়। শরতের রূপটা এমনই আনমনা রূপসী। শিউলি, শাপলা, পদ্ম, টগর, কামিনী, মালতি, হাসনাহেনা জানান দেয় জীবনের উজ্জ্বলতা। উজ্জীবিত মন তখন সরিয়ে দেয় অন্ধকারের কালো মেঘ। প্রতিবারের মতো এবারও শরৎ এসেছে। সাধারণত বর্ষার কালো বর্ষণে ধুয়েমুছে পরিষ্কার হয়ে যাওয়া প্রকৃতিতে চকচকে শরতের আবির্ভাব ঘটে। কিন্তু, এবারের শরৎ এসেছে নতুনরূপে। পরিবেশের অস্বাভাবিক বিপর্যয়ে শরতের আকাশে বর্ষার আনোগোনা যেন সৃষ্টি করেছে বর্ষা-শরৎ। যদিও জলবায়ুর বিপর্যয় কখনো সুখকর নয় তবুও নতুন রূপের এই প্রকৃতিকে মানুষ ভালোবেসেছে নতুনভাবে। ব্যতিক্রম নয় সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ও। কাকতালীয়ভাবে ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রমী শরৎকে ব্যতিক্রমভাবেই প্রস্ফুটিত করেছে। সবুজঘেরা ক্যাম্পাসটির উত্তর-পূর্ব অংশ পুরোটাই কাশফুলের স্বর্গরাজ্য। অ্যাকাডেমিক অংশে রয়েছে কাঠগোলাপ, বকুল, বেলী, হাসনাহেনাসহ নানাপ্রজাতির ফুল। ক্যাম্পাসের পিছনের অংশে রয়েছে বংশী নদীর মোহনা, যেথায় ফুটে থাকে শতশত শাপলা, সুগঠিত বিশাল মাঠের উপরে খোলা নীলাকাশ প্রতিবারই শরতের ক্যাম্পাসকে সাজিয়ে তুলে অপরূপভাবে। আর তাতে হারিয়ে যায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাণ। প্রতিবারের মতো এবারও ক্যাম্পাসে শরতের ছোঁয়া লেগেছে। তবে, এবার যেহেতু ভিন্ন রূপের শরৎ তাই ভিন্নভাবেই সেজেছে ৩২ একরের ক্যাম্পাস। আর এই ভিন্নতার মধ্যদিয়েই যেন নতুন স্পন্দন পেয়েছে ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রাণ। কাকডাকা ভোরে বৃষ্টিতে ভিজে কাকভেজা শরীরে মসজিদের ইমাম যখন ভোরের সূর্যের তেজোদীপ্ত সুরে ডাক দেয় আলোর পথে, তখন আলোর মোহনীয় সৌন্দর্যে উজ্জ্বল দিন শুরু হয় শরতের ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির আগমুহূর্তের গুমোট অন্ধকার ঠেলে ক্যাম্পাসে এসে হারিয়ে যায় রাশি রাশি সাদা শাপলার উজ্জ্বলতার ভিড়ে। শুভ্রতার হাতছানি মেলে কাশফুলের গহিন রাজ্যে। স্নিগ্ধতায় উঁকি দেয় নতুন এক জীবন। শরতের ফর্সা প্রকৃতির কোলে বর্ষার ভেজা চুম্বন জানান দেয় জীবনটা শরৎ-বর্ষাময়। বৃষ্টিভেজা এককাপ চা আর একগুচ্ছ কাঠগোলাপ ঝড় তোলে শিরায়-উপশিরায় নীল শাড়ির এলোমেলো চুলে তরুণী দাঁড়ায় নীল আকাশের নিচে আর সাদা পাঞ্জাবি পরা তরুণ সাদা কাশফুলে এনে বাতাসে মিলিয়ে দেয় ভালোবাসা। সারাদিনের ক্লাস-ক্লান্তি যখন বিমর্ষ করে ভীষণ পড়ুয়া মেধাবীদের তখন শুভ্র প্রকৃতি ভিজিয়ে দেয় সব গস্নানি। তুমুল বৃষ্টিতে সাংবাদিক সমিতির বারান্দায় একদল শিক্ষার্থী যখন গিটারে তুমুল ঝড় তোলে আরেক দল শিক্ষার্থী তখন ক্যাম্পাসের পিছনে থাকা শাপলার বিলে রাশি রাশি জলে আগুন জ্বালে। বৃষ্টি শুরুর আগে হিমশীতল বাতাসে একদল শিক্ষার্থী যখন ক্যান্টিনে বসে চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে তৃপ্তির চুমুক তোলে অ্যাকাডেমিক ভবনের উত্তরদিকে আরেক দল শিক্ষার্থী তখন কাশফুলে ফুঁ দিয়ে জীবনের দুঃখ উড়ায়। লাইব্রেরিতে একদল শিক্ষার্থী যখন সমরেশ মজুমদারের জ্যোৎস্নায় বর্ষার মেঘ পড়ে আরেক দল শিক্ষার্থী তখন বকুলতায় হৈ-হুলেস্নাড় করে। একদল শিক্ষার্থী যখন সি বস্নকের খোলা করিডোরে বৃষ্টিভেজা পোশাক শুকায় আরেক দল শিক্ষার্থী তখন তপ্ত মাঠে শিউলি ফুলের মালা গাঁথে। ঠিক এই ব্যতিক্রমতায় নতুনভাবে সেজেছে ক্যাম্পাসের শরৎ। আর সেই সৌন্দর্য যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়- অন্ধকার ডুবেছে লাজে, বর্ষাময় শান্ত সকালে! নীল-সাদা শরতে, প্রাণ খুলে মন হাসে! বৃষ্টির ঝপাঝপ বাদ্যে, শুভ্র মন উলস্নাস করে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে