বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছরে পদার্পণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর প্রতি বছর ২০ অক্টোবর 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস' পালন করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নানা বাধা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের সেরা অবস্থানে। ১৭তম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আনন্দ, অনুভূতি, প্রত্যাশা ও অভিব্যক্তি তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত রাব্বানী।
নতুনধারা
  ২৯ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০
ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িকতা না থাকুক \হ সাদিয়া ইসলাম রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রিয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছি অনেকদিন হলো। তখন থেকেই একটি বিষয় লক্ষ্য করে এসেছি ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িকতার বীজ নেই। এখানে সবাই মিলে হাসিখুশি, আনন্দে মেতে ওঠে। সবার একটাই পরিচয়, 'জবিয়ান'। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চাই প্রিয় ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক অসাম্প্রদায়িকতার সুরে ও ছন্দে। বাংলাদেশকে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এই জন্য অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই দেওয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। প্রাণের স্পন্দন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জায়েদুল হক ইমন হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমার মতো হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের স্পন্দন এই ক্যাম্পাস। ছোট ক্যাম্পাস হওয়ায় প্রত্যহ সবার সঙ্গে দেখা হওয়া, কথা হওয়াটা কিন্তু সহজ হয়েছে। একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে না এলে মনটা কেমন যেন ছটফট করে। হাজারো স্মৃতির জায়গা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটা আবেগের নাম। এই আবেগের জায়গায় আমি এক গর্বিত জবিয়ান। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ধর্ম নিরপেক্ষতাও বজায় থাকবে এই আশাবাদ রাখছি। ভালোবাসার কেন্দ্রস্থল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাক তার স্বীয় মহিমায়, অটুট থাকুক এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতাও। আধুনিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক জবি মোহনা মুন্নি বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, স্বল্প সময়ে বেড়ে ওঠা এক প্রস্ফুটিত বৃক্ষ। যার ছায়াতলে মেলে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিক্ষা, শান্তি ও ভালোবাসা। কোনো এক কনকনে শীতে, কুয়াশা মাখা ভোরে গুটিগুটি পায়ে অজানা উৎকণ্ঠা, উত্তেজনা আর আবেগ নিয়ে হাজির হয়েছিলাম এখানে। আর এখন ২০ অক্টোবর আমার বিদায়ী লগ্নে পালন করতে যাচ্ছি '১৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস'। আর তাই এই দিনটি আমার কাছে অন্যবারের চেয়ে একটু বেশিই তাৎপর্যমন্ডিত। এই প্রাণের-আবেগের জন্মদিনে এটি যেন আধুনিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় সেই প্রত্যাশাই রাখব। চির অমর হোক প্রিয় ক্যাম্পাস জবি রাহুল ইসলাম ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেই প্রাপ্তির খাতাটা বেশ ভারী করে তুলেছে। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম সারিতে অবস্থান জবির। বিসিএসসহ সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন, রোবারিং, চলচ্চিত্রসহ সব ক্ষেত্রেই রয়েছে জবি শিক্ষার্থীদের পদচারণা। ইতিহাসখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করি। সব ধরনের সমস্যার সমাধান ঘটিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কাটানোর সুযোগ হোক আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসে। গৌরবের সঙ্গে সমুন্নত হোক প্রিয় জবি \হ মাহবুবা সুলতানা সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ এবং অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়। এত বছরের সংগ্রামের এ পথ পাড়ি দেওয়া খুব একটা সহজ বিষয় ছিল না। ছোট্ট একটা ক্যাম্পাস, প্রিয় লাল বাস, আর সঙ্গে অজস্র মেধাবীদের মিলনমেলা। সংগ্রামে, ঐতিহ্যে, লালিত এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন পুরাতন ঢাকার ব্যস্ততম সদরঘাটের বুকে একটা আশার প্রদীপ। সেই পাখিডাকা ভোরে ঘুম হতে উঠে দৌড়ে বাস ধরা, বাসের মধ্যে হাজারো স্মৃতি তৈরি, প্রিয় ক্যাম্পাসে ক্লাস, আড্ডা, অবশেষে বাসে করেই এ ক্যাম্পাসে টিকে থাকা। শ্রেষ্ঠত্বের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে যাক এ ক্যাম্পাস, বয়ে আনুক গৌরবের বারতা। সবার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হোক কামরুজ্জামান শুভ ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সময় থেকেই শুরু হয় অনেক শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগের স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। উচ্চ মাধ্যমিকে আমার প্রিয় শিক্ষক বলেছিলেন, স্বপ্ন+ইচ্ছা+অধ্যবসায়= সাফল্য। এই সূত্র ধরে আমি পৌঁছে যাই আমার স্বপ্নের প্রথম সিঁড়িতে। ৩০ একরের এই বিদ্যাপীঠ, যেই স্বপ্নের নাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাণের বিদ্যাপীঠকে রাঙাতে আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী রঙিন স্বপ্ন বুনছে নিজেকে তৈরি করতে। পড়াশোনায়, সাংস্কৃতিক দিকে, খেলাধুলাসহ নানা দিকে সবার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হোক জবির আঙিনায় লালিত হয়ে এটাই প্রত্যাশা।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে