বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
walton
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

মধুমাসে ফল উৎসব

আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা
  ২৪ জুন ২০২৩, ০০:০০

ষড়ঋতুতে বাহারি রূপ ধারণ করে সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ঋতুর পালাবদলে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনাইল, বাগানবিলাসের সুবাসের সঙ্গে সঙ্গে বাহারি মৌসুমি ফলের ডালা নিয়ে হাজির হয়েছে গ্রীষ্ম। আম, জাম, কাঁঠালের সুবাসে ম-ম করছে এই নগরীর চারদিক। এবছর গ্রীষ্মের খরতাপের মধ্যেও অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে নানা বর্ণের ও স্বাদের মৌসুমি ফল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে দেখা মিলছে আম, জাম, কাঁঠাল, পেঁপে, জামরুল, করমচা, লটকন, আতা, কাউ, তেঁতুল, সফেদাসহ বাহারি সব রসালো ফল-ফলাদি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সমাজবিজ্ঞান চত্বর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, পুরাতন কলা ভবনের প্রাঙ্গণ, প্রান্তিক, জাহানারা ইমাম হলের বাগান সর্বত্রই পাকা কাঁঠালের মিষ্টি সৌরভ সবার মনে দোলা দিচ্ছে। কারও ফল খেতে ইচ্ছা করলেই দ্বিধা ছাড়া উঠে যায় গাছের ডালে। ইচ্ছামতন আম, জাম পেড়ে নুন ও মরিচ দিয়ে কচলে এক বসায় সাবাড় করে দেয়। জাতীয় ফল কাঁঠাল নিয়ে ঘটে এলাহি কারবার। গাছ থেকে কাঁচা কাঁঠাল পেড়ে ঘটা করে চলে এঁচোড় রান্নার আয়োজন। বন্ধু-সহপাঠীদের সঙ্গে বসে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন শিক্ষার্থীরা। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, গাছে গাছে পশু-পাখিদের মেতে উঠতে দেখা যায় এই সময়ে। কোনো কাঠবিড়ালি হয়তো মনের সুখে পাকা জামরুল খাচ্ছে। আবার পাখিদের গাছের ডালে বসে ঠুকরে ঠুকরে পাকা আতা, পাকা সফেদা খেতেও দেখা যায়। মৌসুমি ফল খাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসের গাছ থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে বন্ধুরা মিলে মেতে ওঠে ফল খাওয়ার উৎসবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো আয়োজন করে ফল উৎসবের। বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় গরমে নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিল সবার প্রাণ। কিন্তু ২৬ জ্যৈষ্ঠ হঠাৎ করে ভাগ্যনির্ধাতার কৃপায় দুপুর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। নগরীর বুকে এক পশলা বৃষ্টি সবার মনে শান্তির পরশ দিয়ে যায়। এমনই এক দিনে মধুমাসকে বরণ করে নিতে তৃতীয়বারের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব আয়োজন করে মৌসুমি ফল উৎসবের। বিকেলে বৃষ্টি থেমে গেলে আয়োজন শুরু হয়। সপ্তম ছায়ামঞ্চে আম, জাম, লটকন, সফেদা, পেঁপে, লিচু, আপেল, পেয়ারা, আনারসসহ অন্য ফল-ফলাদি পরিবেশন করা হয়। ছায়া মঞ্চের পাকুড় গাছে ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। এক এক করে সবাই আসতে শুরু করে। এমন মনোরম পরিবেশে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সবাই মেতে ওঠে আড্ডায়। স্মৃতিকাতরতা দেখা যায় সবার মধ্যে। আড্ডার ফাঁকেই দেখা যায় ফলের সুবাসে পাকুড় গাছে চলে এসেছে কাঠবিড়ালি। জাবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি শিহাব উদ্দিন বলেন, 'সুস্থ থাকার জন্য সবারই ফল খাওয়া প্রয়োজন। আর ফল খাওয়ার উপযুক্ত সময় এই মধুমাস। তাই প্রতিবারের মতো এবারও আমরা ফল উৎসব আয়োজন করেছি। তাছাড়া পরিবার-পরিজন ছেড়ে আমরা দূরে থাকায় একত্রে ফল খাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হই। সে কারণেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব পরিবারের সঙ্গে এই আয়োজন করা। এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও পারিবারিক আবহ পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা রাখি।'

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে