র ম্য গ ল্প

শীতের ফান্দে গেদু চাচা কান্দে!

শীতের ফান্দে গেদু চাচা কান্দে!

শীত এলেই গেদু চাচার ভোগান্তি বেড়ে যায়। একে তো সাত দিন যাবত গোসল না করায় শরীরে অনবরত চুলকানি শুরু হয়েছে। তার ওপর সকালে তিনি এক অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করে ফেলেছেন। চুল আঁচড়াতে গিয়ে দেখলেন মাথা থেকে ইয়া বড় বড় উকুন পড়ছে। তিনি ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন। দাঁত দিয়ে জিহবা কামড়ে ধরলেন। চিরুনি রেখে হাত দিয়ে দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে বললেন, 'এজন্যই তো ডাক্তার বলেছেন, আমি রক্তশূন্যতায় ভুগছি। বদ উকুন শরীরের সমস্ত রক্ত চুষে নিচ্ছে, ইশ-শি-রে। তাইতো বলি, এত খাবার খাওয়ার পরও শরীরে রক্ত হয় না কেন!'

তিনি চাচিকে উদ্দেশ করে বলেন, 'শীতের রাতে একা ঘুমালে উম হয় না বলে এই পেতনিটাকে তাড়াতেও পারছি না, আবার এক সঙ্গে থাকলে ওর মাথার উকুন ট্রান্সফার হয় আমার মাথায়, একেই বলে জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।' এমন সময় চাচি পেছন থেকে চেচিয়ে উঠলেন, চেচানো তো নয়, যেন সাতসকালে বজ্রপাতের শব্দ। 'আমার ঠোঁট ফেটে হিমালয় পর্বতের মতো হয়ে গেছে সে খরব তুমি রাখ? এখনই আমার জন্য দোকান থেকে লিপজেল এবং ভ্যাসলিন না আনলে আজ সকালের নাস্তা বন্ধ।'

চাচির অগ্নিশর্মা সুরত দেখে চাচা শুকনো ঢোক গিললেন। ফিস ফিস করে বললেন, 'যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়।' নিরুপায় হয়ে গেদু চাচা পার্শ্ববর্তী দোকানে গেলেন। দোকানদার শীতের পিঠা খাচ্ছেন, গেদু চাচাকে দেখে মিষ্টি হেসে বললেন, 'জানেন চাচা, শীত সত্যিই সকলের জন্য আর্শিবাদ হয়ে আসে।' গেদু চাচা চোখ বড় বড় করে বললেন, 'দেখো ভাতিজা শীত সকলের জন্য আশির্বাদ হয়ে আসে- কথাটা সত্যি না। কারো কারো জন্য অভিশাপ হয়েও আসে। এই যেমন আমার জন্য। তোমার চাচি সাতসকালেই ঘোষণা দিয়েছে- লিপজেল আর ভ্যাসলিন না নিলে আজ সকালের নাস্তা বন্ধ। কী স্বামী ঘাতক কথা! চিন্তা করেছ? এই যে জেল আর ভ্যাসলিন কিনতে অতিরিক্ত খরচটা হচ্ছে। শীত না এলে এই টাকাটা সঞ্চয় করা যেত না?'

\হবাড়ি ফিরে তিনি দেখেন খড়ে আগুন ধরিয়ে আগুন পোহাচ্ছে। মনে মনে বললেন, হাত-পা আগুনে গরম করে নিই। কিছুক্ষণ পর তার চোখ কপালে! গরুকে খাওয়ানোর জন্য গতকাল একশ' টাকার খড় এনেছিলেন তিনি। পিচ্ছি-পোচকার দল এই খড়গুলো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে গা গরম করছে। দৃশ্যটা দেখে গেদু চাচার জ্ঞান হারানোর অবস্থা। তিনি মনে মনে বললেন, হায়রে! আমার পুরু একশ টাকাই পুড়ে ছাই হলো।

অতিরিক্ত শীতের সঙ্গে তীব্র রাগ যোগ হওয়ায় গেদু চাচা কাঁপতে লাগলেন। হাতে থাকা জেল আর ভ্যাসলিনের প্যাকেট ছুড়ে মারলেন পিচ্চিদের দিকে। বাঁদর পোলাপান প্যাকেটগুলো কুড়িয়ে দিল ভূঁ-দৌড়। পোলাপানের পেছনে সমান তালে দৌড়াতে গিয়ে ওষ্টা খেলেন গেদু চাচা। ধপাস করে ভূপাতিত হলেন তিনি। পা মচকে গেল। গোঙাতে গোঙাতে বললেন, 'এবার আম-ছালা দুটোই গেল বুঝি!'

সদস্য

জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে