রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মনোমুগ্ধকর কাশফুলে সেজেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

নতুনধারা
  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
প্রকৃতি অনেক রঙে সাজে। কখনো সাদা রঙে, কখনো কালো মেঘ, আবার কখনো বা সৌন্দর্যের কোনো প্রতীক নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতির মাঝে। যেখানে নির্মল দখিনের বাতাসে, পাখির ডাকে, নদীর কলকল ধ্বনিতে মানুষের মাঝে প্রাণশক্তি সঞ্চার করে। প্রতিবছর শরৎকাল ও ভাদ্রমাসের মাঝামাঝিতে এমন সৌন্দর্যের প্রতীক নিয়ে কাশফুলে ভরে ওঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে। সবুজের মাঝে কাশফুলের সৌন্দর্যকে বিমোহিত করে তোলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর। শিক্ষার্থীরা পাঠ চুকিয়ে প্রকৃতির রাজ্যে ভালোবাসার রং মাখানো সাদা কাশফুলের সঙ্গে মিশে যায়। এ যেন এক স্বর্গরাজ্য। বরিশাল বিভাগে বৃহৎ আয়তন নিয়ে কাশফুল হয় একমাত্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। শহর বা বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও আসে এই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে। প্রকৃতির রঙে রাঙিয়ে তোলে নিজেকে। অনেকে আবার কাশফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজেকে বন্দি করে ফেলে ক্যামেরা দিয়ে। দর্শনার্থীরা মনে করে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নদীর ক্যাম্পাস। নদীর গা ঘেঁষেই যার স্থান। বাদামি রঙের বিল্ডিং, নদী, ব্রিজ ও কাশফুলের সমারোহ আমাদের বেশি আকর্ষণ করে। মন খারাপ হলেই এই ক্যাম্পাসে এলে মনে হয় একখন্ড স্বর্গরাজ্যে অবস্থান করি। কয়েক বছর পরে অবকাঠামো আরও উন্নয়ন হলে আগামীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম এক সৌন্দর্যের ক্যাম্পাস। নীল আকাশের সাদা মেঘের ভেলায়, কাশফুলে অনেকে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। বসন্তের থোকায় থোকায় যেমন ফুল ফোটে, গাছে জাগে কঁচি পাতা। ঠিক তেমনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্যের কাছে শিক্ষার্থীরা নতুন করে উদ্যমী হয় ও নিজেদের পরিস্ফুটিত করে। মনে-প্রাণে আনন্দের গান ও মনকে পুলকিত করে রাখে কাশফুলের সৌন্দর্যকে ঘিরে। শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আকাশের সাদা মেঘের সঙ্গে কাশফুলের মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া প্রকৃতিতে শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। 'শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি' এভাবেই শরতের সৌন্দর্য উপস্থাপন করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি নির্মলেন্দু গুণ তার একটি কবিতায় লিখেছিলেন- 'শরত রানী যেন কাশের বোরলাখানি খুলে, কাশবনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে।' ঋতুচক্রের পরিক্রমায় বর্ষার পরই আগমন ঘটে প্রকৃতির রানী শরতের। মায়াবী শরতের স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার ভালোলাগা হৃদয়কে ছুঁয়ে যায় না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানকে ঘিরে ক্যাম্পাসকে কৃত্রিমভাবে সাজানো হয়। তবে আমাদের ক্যাম্পাস প্রকৃতির কিছু ছোঁয়াতে সেজে থাকে। কখনো কালো মেঘে ছেয়ে যাওয়া, আবার শরৎকালের কাশফুলের সমারোহে সাজে পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধের দিনেও দেখা মিলে দর্শনার্থীদের। বিকাল নামলেই একঝাঁক বালক-বালিকাকে এই সৌন্দর্যের ঘ্রাণ নিতে আসে আমাদের ক্যাম্পাসে। নদীর পাশে, মহাসড়কের গা ঘেঁষে অবস্থান হওয়ায় সৌন্দর্যের ঘ্রাণে মেতে ওঠে সবাই। সর্বদা আমেজ লেগেই থাকে। বিকাল হলেই বিভিন্ন টংয়ে চা ও প্রকৃতির সুবাতাস নিতে বেরিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পশ্চিম আকাশে সূর্য যাওয়ার পূর্বক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেরিন একাডেমি রোডে ভিড় বাড়ে শিক্ষার্থীদের। স্নিগ্ধের আলোয়, কাশফুলের সৌন্দর্যে প্রিয়তমাকে নিয়ে আসে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে যায়। অনেকে পরিবার নিয়েও ঘুরতে আসে। হালকা বাতাসে কাশফুলের দোলের মধ্যে যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলে কিছু সময়ের জন্য। অনুভূতিগুলো অনেকে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলে। কাশফুল অন্য ফুলের মতো গন্ধ না থাকলেও সবার পছন্দের একটা ফুল বিশেষ করে মেয়েদের। এটিও প্রিয়জনের জন্য উপহারস্বরূপ দেওয়া যায়। বন্ধু তার বন্ধুকে বা বান্ধবীকে, প্রিয়তমাকে, স্বামী তার স্ত্রীকে কাশফুল দিয়ে রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি করে তোলে। দর্শন বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন নূর তিষা বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শরৎকাল এলেই মাতিয়ে তোলে ক্যাশফুলে। শরতের কাশফুল মানে শুভ্রতা। কাশফুলের ছোঁয়ায় ক্যাম্পাস নতুনরূপে সেজেছে। ক্যাম্পাসের এমন নবরূপে আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা অনেক মেয়েরা নিজেকে সাজিয়ে কাশফুলের সঙ্গে মিশে ক্যামেরাবন্দি করে রাখি। জয়নাল আবেদীন শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে