রোববার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিশির বিন্দু এবং প্রকৃতির ছোঁয়া

ম জুনাইদ হাসান
  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০
একটু আগেই মসজিদের মিনার থেকে ভেসে এসেছে 'আসসালাতু খায়রুন মিনান্নাউম' ধ্বনি। এখন অবধি ভোর সকাল। সূর্যের আলো ক্ষীণ বিকিরণ ছড়াচ্ছে মফস্বল গ্রামগঞ্জে। শিশির বিন্দু লেপটে আছে ঘাসের ডগায়। সূর্যের কিরণ গায়ে মেখে ঝলমলিয়ে হাসছে। যেন হীরা-মুক্তার প্রলেপ এঁকেছে সারা গায়ে! রাস্তার পাশে সবুজের সমারোহ ধান গুচ্ছগুলো দখিনা সমীকরণে আলত করে দুলছে। যেন আজ প্রকৃতি নেমে এসেছে ভোরের হাওয়ায়। গাঁয়ের মেঠোপথ ধরে হাঁটছি। ভোরের শীতল হাওয়া গায়ে মাখছি। প্রকৃতিকে ছুঁতে; প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে এই আয়োজন। একটা সময় ছিল রোজ সকালে হাঁটতে বের হতাম। অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হতো। প্রকৃতিকে ভালোবাসলে; প্রকৃতিও ভালোবাসা বিলিয়ে দেবে। মন-কাননে প্রফুলস্নতা এনে দেবে। সুখ বিতরণ করবে অকপটে। এখন আর নিয়ম করে হাঁটতে বের হই না। শিশির বিন্দু ছুঁই না। নগ্ন পায়ে ঘাসের ডগায় স্পর্শ করি না। প্রকৃতিকে ভালোবাসি না। প্রকৃতিও আর ভালোবাসা বিতরণ করে না। আজ বেরিয়েছি। হাঁটব। ঘুরে-ফিরে দেখব। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করব। প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হব। প্রকৃতির মায়ায় ডুব দিয়ে হারিয়ে যাব; অপার সৌন্দর্যের অতলান্তে। অতল গহ্বরে। ওই যে সরু পথটার দুই ধারে সারি সারি তালগাছ। মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে! যেন আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন বুকে এঁকেছে। ইশ! মনে পড়ে গেল দুরন্তপনা শৈশবের স্মৃতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত শিশুতোষ ছড়া্ত তালগাছের কথা! 'তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে; সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে।' গাঁয়ের মেঠোপথ অতিক্রম করে পিচঢালা রাস্তায় আসি। দৃষ্টি আটকে যায় নজরকাড়া এক দৃশ্য দেখে! গাঁয়ের শিশু ছেলেমেয়ে কায়দা রেহাল হাতে মক্তবে যাচ্ছে কতজন দল বেধে হই-হুলেস্নাড় করে; আবার কতজন বাবা-মায়ের সঙ্গে। কতক মসজিদের মাইক থেকেও ভেসে আসছে, 'মক্তবের সব ছাত্র-ছাত্রী! তোমরা অতি তাড়াতাড়ি করে মক্তবে চলে আস।' মক্তবের শিশুদের দেখে মনে পড়ে গেল; বিশিষ্ট কবি আল মাহমুদের 'কবিতা এমন' কবিতাটির একটি লাইন! 'কবিতা তো মক্তবের মেয়ে চুলখোলা আয়েশা আক্তার।' প্রকৃতির সঙ্গে বেশ ভালো কেটেছে আজকের সকাল। ছোঁয়া হয়েছে এক টুকরো শিশির বিন্দু।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে