নারীরা কেন নিকাহ রেজিস্টার হতে পারবে না?

নারীরা কেন নিকাহ রেজিস্টার হতে পারবে না?

পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রথম নারী ব্যারিস্টারদের একজন সালমা ইকরামুলস্নাহ। পরে যাকে আমরা সালমা সোবহান নামে চিনেছি। তিনি ব্যারিস্টার হলেন ১৯৫৯ সানে।

১৯৬৫ সালের খবমধষ চৎধপঃরঃরড়হবৎং ধহফ ইধৎ ঈড়ঁহপরষং অপঃুএর মাধ্যমে প্রথম নারীদের উকিল হওয়ার সুযোগ ঘটে। আইনটা পরে ১৯৭২ সালে অর্ডারে রূপান্তরিত হয়।

ওকালতি পেশার নিয়ন্ত্রক এ আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে: ঘড় ড়িসধহ ংযধষষ নব ফরংয়ঁধষরভরবফ ভড়ৎ ধফসরংংরড়হ :ড় নব ধহ ধফাড়পধঃব ভড়ৎ ৎবধংড়হ ড়হষু ড়ভ যবৎ ংবী. (শুধু নারী হওয়ার কারণে কেউ অ্যাডভোকেট হওয়ার জন্য অযোগ্য হবেন না।)

ব্রিটিশরা আসার আগে এই দেশে কাজী ছিল বিচারকের নাম। বিচারকরা কাজী থেকে জাজ জাস্টিস হয়ে যাওয়ার আরেক নাম কলোনাইজেশন। তবে ব্রিটিশরা শুরুতে সাদা জজদের বিচারকার্যে সহায়তার জন্য মুফতি আর পন্ডিত নিয়োগ দিতেন। এ মুফতি আর পন্ডিত সাপস্নাইয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বানানো হলো কলকাতা মোহামেডান কলেজ আর বেনারস হিন্দু কলেজ।

আমাদের সময়ে আমরা পেলাম কাজী মানে নিকাহ রেজিস্টার। কাজী অফিস মানে আদালত নয়, বরং বিয়ের ঘটনা সরকারি খাতায় হিসাব রাখার অফিস। নারী-পুরুষ বিয়ে করে, আর বিয়ে উপলক্ষে রাষ্ট্রকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য কাজীর কাছে ফি দিয়ে আসে। যাই হোক, সুলতানী বাদশাহী আমলের সেই বিচার করার কাজী পরিবর্তিত হয়ে এখন বিবাহ নিবন্ধনের মধ্যে তার চিহ্ন রাখছে।

শব্দ এক অর্থ থেকে আরেক অর্থে ভ্রমণ করল প্রায় ২০০ বছরে।

আমাদের সমাজ পড়ালেখার সমাজ নয়। আমাদের সমাজ হলো পড়াশোনার। তাই নিকাহ রেজিস্টার বিয়ে 'লেখা'র বদলে বিয়ে 'পড়া'য়। বাঙালের মুশকিল হলো আরও বেশি। সে কাগজ চিনতে না চিনতেই সবকিছু ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। ডেসটিনির মতো কোম্পানির সাফল্য বাঙালের কাগজ-পত্রে অভ্যস্ত না হওয়ার মধ্যে নিহিত। আর ডিজিট না চেনার কারণে আমরা অনেক অনলাইন ফটকাবাজি এবং প্রতারণার বিকাশ দেখি।

আক্ষরিক অর্থে যারা কাজী তারা জানালেন নারীরা বিয়ে 'লেখা'র কাজী হতে পারবে না। শরীয়তের যেই ওজর পেশ করা হলো সেই ওজর আরেকটু লম্বা করে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ভাবত নারীরা বিচারক তথা কাজী হতে পারবে না।

১৯৬৫ সালে যখন আইন হলো- নারীরা উকিল হতে চাইলে রাষ্ট্র বাধা দেবে না, ঠিক সেই বছর নাজমুন আরা সুলতানা নামের এক মেয়ে ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করলেন। তিনি ১৯৭২-এ আইন পাস করেন, উকিল হন এবং ১৯৭৫ সালে মুনসিফ (জজ) হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে প্রথম নারী বিচারক।

রানী বিলকিসরা দুনিয়া শাসন করল, শত শত উকিল, ব্যারিস্টার হলো, জাস্টিস হলো, অসংখ্য বিয়ের বৈধতা বিষয়ে তর্ক করল, রায় দিল, আর বিয়ে লিখতে পারবে না এমন আনকমন সেন্স কীভাবে পয়দা হয়!

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে