বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯
walton1

কক্সবাজারে হত্যা মামলায় আইনজীবীসহ ৬ জনের যাবজ্জীবন

আইন ও বিচার ডেস্ক
  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০
কক্সবাজারের মহেশখালীর চাঞ্চল্যকর খাইরুল আমিন সিকদার হত্যা মামলায় এক আইনজীবীসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড, অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৩ বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ড রায় ঘোষণা করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আবদুলস্নাহ আল মামুন গত বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার ৩২ বছর পর রায় ঘোষণার সময় দন্ডিতদের ৬ জনের মধ্যে ৫ জন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দন্ডিতদের মধ্যে ৪ জন পরস্পর সহোদর ভাই। ৩২ বছর পর মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম, অ্যাডভোকেট হামিদুল হক, মহেশখালী উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হাফেজ মৌলভী জহির উদ্দীন ও নাসির উদ্দিন। দন্ডিত এ ৪ জনই মহেশখালীর গোরকঘাটার মৃত মোজাহের মিয়ার ছেলে। দন্ডিত অপর ২ জন হলেন- মহেশখালীর বৃহত্তর গোরকঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, মৃত হাজি আবুল হোসেনের ছেলে শামশুল আলম ও মহেশখালী পুটিবিলার সাধন প্রকাশ সাধন্যা। দন্ডিত সাধন প্রকাশ সাধন্যা পলাতক রয়েছে। মামলার ২৬ জন আসামির মধ্যে ২০ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। তার মধ্যে ৭ জন মৃতু্যবরণ করেছেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ১৯৯০ সালের ৯ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে মহেশখালীর গোরকঘাটা বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন কক্সবাজার জেলা পরিষদের তৎকালীন সদস্য ও তরুণ রাজনীতিবিদ খাইরুল আমিন সিকদার (২৮)। তিনি গোরকঘাটার মৃত হামজা মিয়া সিকদারের ছেলে। এ ঘটনার পরদিন নিহত খাইরুল আমিন সিকদার এর বড় ভাই মাহমুদুল করিম সিকদার বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামি করে মহেশখালী থানায় পেনাল কোডের ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৭/৩০২/৩৪/১০৯ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মহেশখালী থানা মামলা নম্বর : ০৪/১৯৯০ ইংরেজি। জিআর মামলা নম্বর : ৪২/১৯৯০ (মহেশখালী) এবং এসটি মামলা নম্বর : ১৫৫/২০০২ ইংরেজি। বিচার ও রায় সিআইডি'র তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ১৯৯০ সালের ২৪ নভেম্বর নতুন আরো একজন আসামিকে যুক্ত করে মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটের ২৬ জন আসামির মধ্যে ইতোমধ্যে ৭ জন মৃতু্যবরণ করেছে। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট মামলাটি চার্জ (অভিযোগ) গঠন করে আদালতে বিচার শুরু করা হয়। মামলায় ৩৪ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামিদের পক্ষে সাক্ষীদের জেরা, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট যাচাই, সুরতহাল প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও আলামত প্রদর্শন, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, যুক্তিতর্কসহ বিচারের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে