বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

আজানে শব্দদূষণ হয় না, জানিয়ে দিলেন গুজরাট হাইকোর্ট

আইন ও বিচার ডেস্ক
  ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০

১০ মিনিটের আজানে শব্দদূষণ হয় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। লাউড স্পিকারে আজান বন্ধের আবেদন জানিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছে গুজরাট হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে আদালত ওই আবেদনটি বাতিল করে দিয়েছে। গুজরাট হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, ১০ মিনিটের আজান যদি শব্দ দূষণের কারণ হয়, তা হলে মন্দিরে ভজন-আরতির সময় লাউড স্পিকার বাজানোয় অসুবিধা হয় না! আদালত বলেন, কেন ভোরের খালি গলার আজানও নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হচ্ছে? দীর্ঘদিন ধরে আজান ব্যবস্থা চালু আছে। হঠাৎ করে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে যাবে কেন?

ধর্মেন্দ্র প্রজাপতি নামে এক চিকিৎসক লাউড স্পিকারে আজান বন্ধের আবেদন জানিয়ে গুজরাট হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। আদালতে তিনি আবেদন করেছিলেন, হাসপাতালের কাছে একটি মসজিদে দিনে পাঁচ বার লাউড স্পিকারে আজান দেওয়া হয়। এর ফলে রোগীদের অসুবিধা হচ্ছে। যে শব্দদূষণ হচ্ছে, তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপরে। বিশেষ করে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান সুনীতা আগরওয়াল এবং বিচারপতি অনিরুদ্ধ মায়ীর বেঞ্চে আজান মামলার শুনানি হয়। আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে বলেছে, শব্দদূষণের মাত্রা মাপার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে। কিন্তু এই আবেদনে তার কোনো উলেস্নখ নেই। ১০ মিনিটের আজান শব্দদূষণের কারণ প্রমাণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি আবেদনকারী। হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, আবেদকারীর দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আদালতের মতে, আজান দিনের বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের জন্য হয়ে থাকে। আদালত আরও জানিয়েছে, আজান একটি ধর্মীয় বিশ্বাস। যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য স্থায়ী থাকে।

মামলাটি খারিজের আগে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আবেদনকারীর আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, 'মন্দিরে সকালের আরতিও ভোর ৩টার সময় গান-বাজনার সঙ্গে শুরু হয়। আপনি কি বলতে পারেন যে, পুজোর ঘণ্টা এবং গানের আওয়াজ শুধু মন্দির চত্বরের সীমাবদ্ধ থাকে এবং তা মন্দিরের বাইরে ছড়ায় না?' একই সঙ্গে আদালতের প্রশ্ন, অনেক সময় তো লাউড স্পিকারে গানও বাজানো হয়। সেটা কী শব্দ দূষণ নয়!

প্রসঙ্গত, গত বছর ২০২২ সালে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে আজানে মাইকের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য সরব হয়েছিল একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। সরকারি নির্দেশে দুই রাজ্যেই বহু মসজিদ কর্তৃপক্ষ মাইক খুলে নেন। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ সরকার মন্দির, মসজিদ নির্বিশেষে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। শুধু মন্দির বা মসজিদ পরিসরের মধ্যে অল্প শব্দ মাত্রার একটি মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে