বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মার্কিন আইনে যেভাবে হয় অভিশংসন

মার্কিন আইনে যেভাবে হয় অভিশংসন

মার্কিন সংসদের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে (প্রতিনিধি পরিষদ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদিত হওয়ার পর বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করতে যে পরিমাণ ভোট প্রয়োজন, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রথম দুই অভিযোগের ভোট গণনায় ওই পরিমাণ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ট্রাম্পকে অপসারণ করা হবে কিনা সে ক্ষেত্রে আগামী জানুয়ারিতে সিনেটে

ভোট হবে। তবে সিনেটে যেহেতু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত তাই সেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলে খবরে বলা হয়।

বলা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত কি তাকে সংসদীয় বিচারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া বা ইমপিচ করা হতে পারে? কিন্তু এই ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের অর্থ কী আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেলায় এর সম্ভাবনাই বা কতটুকু? তবে অভিশংসনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের ঘটনা বিরল।

মার্কিন কংগ্রেস, যেখানে আইন তৈরি করা হয়, তারা দেশটির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারে। দেশটির সংবিধানে বলা আছে, বেশ কিছু অপরাধের জন্য প্রেসিডেন্টকেও তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া অর্থাৎ তাকে ইমপিচ করা যেতে পারে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে: রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ঘুষ নেয়া অথবা অন্য কোনো বড় ধরনের কিম্বা লঘু অপরাধ।

ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস থেকে। এটি মার্কিন কংগ্রেসের একটি অংশ। এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এটি সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হতে হবে। আর সেটা পাস হলে পরের ধাপে বিচার অনুষ্ঠিত হবে সিনেটে, যেটা কংগ্রেসের দ্বিতীয় অংশ।

এটা অনেকটা আদালত কক্ষের মতো, যেখানে সিনেটররা বিচারক বা জুরি হিসেবে কাজ করবেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট দোষী কি নির্দোষ। প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে হলে এই সেনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সেনেটরকে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দিতে হবে।

ট্রাম্পের আগে প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিনটন প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন। তবে কাউকেই সিনেট পদচু্যত করেনি। ১৯৯৮ সালে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ভোট পড়েছিল প্রতিনিধি পরিষদে।

এর আগে এরকম ঘটনা ঘটেছিল ১৮৬৮ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধেও ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

সে হিসেবে বলা যায় ইমপিচমেন্টের অর্থ এটা নয় যে, এর প্রক্রিয়া শুরু হলেই প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে ইমপিচমেন্টের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

Copyright JaiJaiDin ©2020

Design and developed by Orangebd


উপরে