বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭

বাংলা লোক-ঐতিহ্যের ধারায় কবি জসীমউদ্‌দীন

বাংলা লোক-ঐতিহ্যের ধারায় কবি জসীমউদ্‌দীন

জসীমউদ্‌দীন (১৯০৩-১৯৭৬) পলিস্নকবি। কেবল পলিস্নর বিষয় নিয়েই কাব্য রচনা করেছেন বলে তিনি পলিস্নকবি নন- গ্রাম্য-জীবন এবং গ্রাম্য-পরিবেশ তার কাব্যের উপাদান জুগিয়েছে ঠিকই; তবে কবিতার কলাকৌশল, উপমা, রূপক, চিত্রকল্প ও শব্দ নির্মাণের দক্ষতাই তাকে যথার্থ পলিস্নকবি হতে সহায়তা করেছে।

আবহমান গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি তিনি। বাংলা সাহিত্যে প্রাচীনকাল থেকেই গ্রাম-বাংলার লোক-জীবন, ঐতিহ্য, পলিস্নজীবনের চিত্র, গ্রামীণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ এবং আনন্দ-বেদনার ছবি নানারূপে ও রসে চিত্রিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন আখ্যানকাব্য, বারোমাস্যা, লোককাহিনি, ছড়া, গীতিকা, প্রবাদ-প্রবচন, লোকসংগীত প্রভৃতিতে বাংলার লোক-ঐতিহ্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। কিন্তু আধুনিক বাংলা সাহিত্যে এ ঐতিহ্যের ধারায় জসীমউদ্‌দীন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি ছাড়া আর কারও রচনায় বাংলার লোক-জীবন ও লোক-ঐতিহ্য এত সুচারুভাবে চিত্রিত হয়নি।

জসীমউদ্‌দীন পলিস্নর জীবন ও পরিবেশ বর্ণনা করতে গিয়ে লোক-ঐতিহ্যের চমৎকার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তার কাব্যে। মূলত লোক-ঐহিত্যের সিঁড়ি বেয়েই তার কবি-মানসের পরিপুষ্টি। তার কবিতা লোক-জীবনের সঙ্গে অধিকতর ঘনিষ্ঠ বলে এতে লোক-ঐতিহ্যের এবং লোক-সংস্কারের পরিচয় ব্যাপক এবং আন্তরিক। তার কাব্যের সব পর্যায়জুড়ে লোক-ঐতিহ্য ও সংস্কার যে কীভাবে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে, নিম্নের আলোচনায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জসীমউদ্‌দীন 'নকশী-কাঁথার মাঠ' কাব্যে দুখাই ঘটকের ঘটকালির নৈপুণ্যে কেমন করে সাজু ও রুপার বিয়ে স্থির হলো, তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। অতি অল্প কথায় কবি দুখাইয়ের ঘটকালিসংক্রান্ত কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অসাধারণ বাস্তব বুদ্ধিসম্পন্ন চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন।

'দশ খান্দা জমি রুপার, তিনটি গরু হালে,

ধানের বেড়ি ঠেকে তাহার বড় ঘরের চালে।

সাজু তোমার মেয়ে যেমন, রুপাও ছেলে তেমন,

সাত গেরামের ঘটক আমি জোড় দেখিনি এমন।'

তার কবিতায় আমাদের বাঙালি গৃহস্থ পরিবারের বিয়ের নানা সংস্কার এবং আয়োজনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কবি বিয়েবাড়ির যে জমকালো বর্ণনা দিয়েছেন তা বাস্তব পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন দৃষ্টির পরিচয় দেয়। স্বল্পকথার বিয়ের আসর এবং অন্যান্য বিয়েসংক্রান্ত আচারের পরিচয় তার কাব্যে মনোজ্ঞরূপ নিয়েছে।

বাংলার হিন্দু-মুসলমান উভয় সমাজে গ্রাম ও শহরের ধনী-নির্ধন, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সর্বক্ষেত্রে বিয়ের উৎসব উপলক্ষে 'গায়ে-হলুদ' একটি আনুষঙ্গিক অনুষ্ঠান। পান-চিনির ভেতর দিয়ে প্রস্তাব পাকাপাকি হয়ে বিয়ের সাতদিন অথবা তিনদিন আগে থেকে 'হলুদ-মাখানো' অনুষ্ঠানের রীতি ছিল। কনের শুভ কামনায় পালন করা হতো এ ধরনের লোকাচার। এ প্রসঙ্গে ড.ওয়াকিল আহমদের উক্তি প্রণিধানযোগ্য- 'বিয়ে একটি শুভ অনুষ্ঠান। পাছে কোনো বিপদ ঘটে, কোনো অকল্যাণ হয় বা অপদেবতার কো্প পড়ে, এমনটি কেউ চায় না; সবার শুভেচ্ছা নিয়ে সুখী দাম্পত্য-জীবনের সূচনা হোক, তাই কাম্য। প্রধানত এরূপ শুভ কামনা এবং বিপদ মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে গ্রাম্য-জীবনের লোকাচারগুলো গড়ে উঠেছে' [বাংলা লোক-সংস্কৃতি]। আবার বরকে বিয়ের আগে পান শরবত খাওয়ানের রেওয়াজও প্রচলিত আছে।

'এমন সময় শোর উঠিল- বিয়ের জোগাড় কর

জলদি করে দুলার মুখে পানি শরবত ধর।' [নকশী-কাঁথার মাঠ]

মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাপ্রসূত লোকজ রীতি যা কালক্রমে মানুষের বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে, তাই লোকসংস্কার। 'জীবন ও জগৎ মানুষকে জন্মের প্রথম থেকে ক্রমাগত প্রতিকূল অবস্থার মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা বিরুদ্ধ অবস্থার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে। খাপ-খাওয়াতে হয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে, এমনিভাবে সে এগিয়েছে সভ্যতার স্তর থেকে স্তরান্তরে, পথে পথে সে সঞ্চয় করেছে অমূল্য অভিজ্ঞতা। লোকসংস্কার এ বিচিত্র অভিজ্ঞতারই ফলমাত্র' [মুহম্মদ আবদুল খালেক, মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে লোক-উপাদান]। বিভিন্ন ধরনের অমঙ্গল থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা লোক-সংস্কারের প্রচলন হয়েছে। দরগায় দান করা, নামাজের ঘরে মোমবাতি দেওয়া, মানত করা, দেব দেউলের ধূপ দেওয়া, পীরের দরগায় শিন্নি দেওয়া, জমজম কুয়ার পানি পান, তাবিজ বাঁধা, বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র দেওয়া (বশীকরণের মন্ত্র, বসন্ত রোগের মন্ত্র, শিরালির মন্ত্র) ও রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন এ প্রসঙ্গে উলেস্নখ্য।

'এলো মোহন রায় পুবের বায় মন্ত্র ছুড়ি ছুড়ি,

ষোলোশ ডাক-ডাকিনী তার সঙ্গে নাচে ঘুরি।

এমনি করে দিনের পরে যতই দিবস চলে,

নমু-মুসলমান মাতিল রণের কোলাহলে।'

[ সোজন বাদিয়ার ঘাট ]

লোক-সংস্কারের অন্যতম অংশ- মানত করার প্রথা। সন্তানের মঙ্গল কামনায় পলিস্নজননীর মানত করার প্রক্রিয়া চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে 'রাখালী' কাব্যের পলিস্নজননী কবিতায়।

'নামাজের ঘরে মোমবাতি মানে, দরগায় মানে দান,

ছেলেরে তাহার ভালো করে দাও কাঁদে জননীর প্রাণ।' [পলিস্নজননী, রাখালী]

শপথ বা দিব্যদান লোক-বিশ্বাসের এবং ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা জসীমউদ্‌দীনের কবিতায় স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে। গোপন হোক, প্রকাশ্যে হোক, কোনো কাজে সততা এবং নিষ্ঠা রাখার জন্য প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত শক্তির কাছে যে শপথ করা হয়- তাই দিব্যি দেওয়া। সত্যতা নিরূপণার্থে সাক্ষী মানাও লোক-ঐহিত্যের রহস্যময় দিক। সাধারণত ঈশ্বর, দেবদেবী, পীর-আউলিয়া প্রাকৃতিক বস্তু বা শক্তি ও মহামানবের নামে সাক্ষী মানা হয়। আকাশ, মাটি, পাহাড়, সমুদ্র, চন্দ্র, সূর্য, তারা ইত্যাদি সাক্ষী মেনে কাজ করার দৃষ্টান্ত জসীমউদ্‌দীনের কবিতায় প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়।

'সাক্ষী থাকিও চন্দ্র-সূর্য, সাক্ষী থাকিও

হে বনের গাছ-পালা

সোজন আমার প্রাণের সোয়ামী, সোজন আমার

গলার ফুলের মালা।' [ সোজন বাদিয়ার ঘাট ]

জসীমউদ্‌দীন তার কবিতায় মেঘের বিচিত্ররূপের বর্ণনা এবং চৈত্রের খরায় বৃষ্টির কামনায় 'মেঘের পূজার মাঙন: 'বদনা বিয়ে' গানের যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, এর চেয়ে যথাযথ লোকরূপ আর দেওয়া যায় বলে মনে হয় না।

'আড়িয়া মেঘা, হাড়িয়া মেঘে, কুড়িয়া মেঘার নাতি,

নাকের নোলক বেচিয়া দিব তোমার মাথার ছাতি।

কৌটা ভরা সিঁদুর দিব, সিঁদুর মেঘের গায়

আজকে যেন দেয়ার ডাকে মাঠ-ডুবিয়া যায়।' [ নকশী-কাঁথার মাঠ]

তৎকালে সমাজে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে মাঝেমধ্যে হানাহানি ঘটলেও বাংলার অধিকাংশ গ্রামই ছিল হিন্দু-মুসলিমের সম্প্রীতির দৃশ্য। অতি তুচ্ছ ব্যাপারে তাদের মধ্যে কীভাবে বিবাদের সৃষ্টি হয়; আবার শুভবুদ্ধির ফলে কীভাবে সব হিংসা ও সংকীর্ণতা ভুলে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে মিলে এক হয়ে যায় 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কাব্যে সেই চিত্র চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এখানে দেখা যায় শিমুলতলি গ্রামে পরম সৌহার্দে হিন্দু-মুসলিম বসবাস করছে; বিভিন্ন উৎসব কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোনো বিঘ্ন ঘটছে না। বরং দেখা যায় 'সরস্বতী পূজার নাড়ু মুসলমানের ঠোঁট ছোঁয়'; আবার 'পীরের পড়া জল নমুর পোলার পীড়ার দিনে হয় নাকো বিফল'। কিংবা 'হিন্দুর পূজায় মুসলমানে বয়েত গাহেন গায়' এবং মুসলমানের 'দরগাতলা'য় হিন্দুর মেয়ে প্রণাম করে 'ভালের সিঁদুর দিয়ে'- এমনি সম্প্রীতির মধ্যে পাশাপাশি বাস করছে সবাই।

বাংলার হিন্দু-মুসলিম উভয় পরিবারে বরণ, অভ্যর্থনা, বিদায়ের পাশাপাশি আদর-আপ্যায়নের রীতি আবহমান কাল থেকে চলে আসছে। কবি জসীমউদ্‌দীনের কবিতায় এ সব প্রচলিত আচারগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে আমাদের লৌকিক জীবনের স্বরূপটিই জীবন্তভাবে প্রকাশিত-

'বাড়ির গৃহিণী ধান দূর্বায় বরণ কুলাটি ধরি,

নয়া লক্ষ্ণীরে পুরান লক্ষ্ণী লইছে বরণ করি।' [মা, রাখালী]

লোক-ঐতিহ্যের নিদর্শনস্বরূপ জসীমউদ্‌দীনের কবিতায় লোকশিল্পের নানা উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে। সাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে-কলমি ফুলের নোলক, হিজল ফুলের মালা, বাঁশের কচি পাতা দিয়ে তৈরি নথ, সোনালতায় তৈরি বালা, পায়ের খাড়ু, পুঁতির মালা, রেশমি চুড়ি, কাঁসার খাড়ু, বেলোয়ারি চুড়ি, চীনের সিঁদুর, হাতের শাঁখা, পায়ের নূপুর, কোমরে চন্দ্রহার প্রভৃতি লোকজ অলঙ্কারের প্রয়োগ দেখা যায়। লোকমনের অনুভূতিতে রাঙানো ও নিজেদের তৈরি এ সব অলঙ্কার আমাদের লোক-ঐতিহ্যের প্রতীক। গাঁয়ের চাষার ছেলে সে-ই গাঁয়েরই কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে কনেকে অলঙ্কার দেওয়ার কথা বলেছে নিম্নোক্ত চরণে-

'কলমি ফুলের নোলক দেব, হিজল ফুলের দেব মালা,

মেঠো বাঁশি বাজিয়ে তোমায় ঘুম পাড়াব, গাঁয়ের বালা।

বাঁশের কচি পাতা দিয়ে গড়িয়ে দেব নথটি নাকের,

সোনালতায় গড়ব বালা তোমার দুখান সোনা হাতের।'

[রাখালী, রাখালী]

খেলাধুলা গ্রামীণ লোকায়ত জীবনের একটি অন্যতম উপকরণ। জসীমউদ্‌দীনের লেখায় খেলাধুলার উলেস্নখ খুব বেশি না থাকলেও অবসর কাটানো কিংবা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে কিছু কিছু কবিতায় তা ব্যবহৃত হয়েছে। 'সোজন বাদিয়ার ঘাট' কাব্যে স্বামীর সাথে নববধূর পাশা খেলা, মহরমে লাঠি খেলা; 'নকশী-কাঁথার মাঠ' কাব্যে লাটিম খেলা; 'ধানখেতে' ভোজবাজি আর ভানুমতির খেলা; 'এক পয়সার বাঁশি'তে চড়ুইভাতি, পুতুল খেলা প্রভৃতি খেলা চিরায়ত বাংলার লোক-জীবনরেই অংশ। 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'-এ মহরমে লাঠি খেলার চিত্র নিম্নরূপ-

'মহরমের মাস আসিল, শিমুলতলির গাঁয়ে সবে

জারির গানে লাঠির খেলায় মাতলো আবার মহোৎসবে।'

আবহমান কাল থেকে নকশী-কাঁথা আমাদের লোক-ঐহিত্যের ধারক হিসেবে বেঁচে আছে। জসীমউদ্‌দীন তার 'নকশী-কাঁথার মাঠ' কাব্যে নকশী-কাঁথার চিত্রের স্বরূপ বর্ণনায় বলেছেন- কাঁথাতে সাধারণত মাছ, পাতা, ধানের ছড়া, চন্দ্র, ঘোড়া, তারা, হাতি, দেব-দেবীর ছবি অথবা কোনো গ্রাম্য ঘটনার ছবি বুনট করা হয়।

এ ছাড়া জসীমউদ্‌দীনের কাব্যে বিভিন্ন পীর এবং দেব-দেবীর প্রতি বিশ্বাস; বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলপনা আঁকা; বিয়ে, নবান্ন ও পূজা-পার্বণে পিঠা তৈরির রেওয়াজ প্রভৃতি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে যা বাংলা লোক-ঐতিহ্যেরই ধারক।

জসীমউদ্‌দীন লোক-জীবনের সঙ্গে অধিকতর ঘনিষ্ঠ বলে তার কাব্যে লোক-ঐতিহ্যের এবং লোক-সংস্কারের পরিচয় ব্যাপক এবং আন্তরিক। এ সব লৌকিক সংস্কার ও বিশ্বাস লোকমানসের বহুযুগের অভিজ্ঞতার আলোকে সঞ্চিত। দৈনন্দিন চলার পথের বহুমুখী সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তাদের অনেক অভিজ্ঞতাই অন্ধ-সংস্কার হয়ে, সংরক্ষিত হয়ে যুগ-যুগান্তর ধরে বাঙালির জীবন ও মানসকে প্রভাবিত করেছে। ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের নির্দেশে ময়মনসিংহ অঞ্চলে লোকসাহিত্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কবি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রতিটি পলিস্নগ্রামে অবস্থান করেন। লোক-সাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণার কাজ করার ফলে তার কাব্যে লোকজ ভাষা, শব্দ ও রীতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে। তাই গ্রাম প্রকৃতির স্বাভাবিক ও মৌলিক লোকজ ধারণাটি জসীমউদ্‌দীনের পূর্বে অন্য কোনো কবিই এত সহজ ও সাবলীলভাবে আধুনিক কাব্য ধারার সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হননি। তার পক্ষে এটি সম্ভব হয়েছিল কারণ তিনি ছিলেন গ্রাম-বাংলার এক স্বাভাবিক অংশ। তাই তো তার কবিতায় পলিস্ন-প্রকৃতি, লোক-জীবন ও লোক-ঐতিহ্য অপূর্ব রূপলাভ করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে