বেলাল চৌধুরীর কবিতা আনন্দ-বেদনার ধ্বনি

বেলাল চৌধুরীর কবিতা আনন্দ-বেদনার ধ্বনি

বেলাল চৌধুরী কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সম্পাদক ও অনুবাদক। সাহিত্যের সব শাখাতে তার পদচারণা। বেলাল চৌধুরী মূলত কবি। তার কবিতায় জগৎ সংসারের পরিচিত দৃশ্যপট, ব্যক্তিক অনুভূতি, স্বদেশ, মানুষ আর প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য লীলায়িত। তার উলেস্নখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : নিষাদ প্রদেশে (১৯৬৬), আত্মপ্রতিকৃতি, স্থির জীবন ও নিসর্গ (১৯৭৬), স্বপ্ন বন্দি (১৯৮৫), জল বিষুবের পূর্ণিমা (১৯৮৫), প্রতিনায়কের স্বগতোক্তি (১৯৮৭), যাবজ্জীবন সশ্রম উলস্নাসে (১৯৯৭), বত্রিশ নম্বর (১৯৯৭), কবিতার কমল বনে, ভালোবাসার কবিতা (১৯৯৭), যে ধ্বনি চৈত্র, শিমুলে (২০০৮) সেলাই করা ছায়া (২০০৯) ইত্যাদি। প্রকৃতি আর মানুষ বেলাল চৌধুরীর কাছে ধরা দেয়। বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া ট্রেনের শব্দ, কালো ধোঁয়ার উদ্গীরণ, কয়লার কুচি ও জলন্ত ফুলকি শৈশবে রেল ইঞ্জিনের ড্রাইভার হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছিল শিশুচিত্তে। কল্পলোকের রাজপুত্তুরের হাত ধরে খাল-বিল, ক্ষেত-খামার, চাষি, ন্যাংটো ছেলেমেয়ের মাছ ধরা, আকাশে উড্ডীন চিল আর পাখ-পাখালির ওড়াউড়ি চিত্তে আলোড়ন তোলে। বন্ধুর প্রেমিকাকে লেখা চিঠির সূত্র ধরে কবিসত্তার জাগরণ। মা-র মুখ থেকে শোনা ভারতচন্দ্র, হেম, মধু, নবীন সেনের কবিতায় মগ্ন হয়ে কৈশোরে বেলাল চৌধুরী রচনা করেন কবিতা 'কত চেনা'। পঞ্চাশ দশকে সাপ্তাহিক ইত্তেহাদে প্রকাশিত এ কবিতার মাধ্যমে কবিতাঙ্গনে তার যাত্রা শুরু। বিচিত্র খেয়াল, রকমারি কাজ ও ভ্রমণপিপাসু মন তার কবিতাকে বহুমাত্রিকতা দিয়েছে।

১৯৬৫ থেকে বেলাল চৌধুরী প্রতিনিয়ত রচনা করেছেন কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণাধর্মী ও বহুমাত্রিক গদ্য। ১৯৬৩-তে তার কলকাতায় নোঙর ফেলার মাধ্যমে লেখালেখিতে যে আত্মনিয়োগ তা আজীবন স্বতঃশ্চল ছিল। সম্পাদনা করেছেন 'কৃত্তিবাস' নামক সাহিত্য পত্রিকার তিন সংখ্যা। ১৯৭৪-এ জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর বেলাল চৌধুরী কবিতায় নতুন রূপ, সৌন্দর্য ও অবারিত শস্য উপাদান উৎকর্ষণে ব্যস্ত। তিনি তার সমসাময়িক কবিদের থেকে স্বতন্ত্র একটি কণ্ঠস্বর আবিষ্কার করেছেন। শুধু প্রেমের কবিতা কিংবা স্ত্রাহের কবিতা, কিংবা স্স্নোগানসর্বস্ব পঙ্‌ক্তিমালা রচনা করে তিনি বাহবা কুড়াতে মনোযোগী হননি। তার কবিতায় নদীর কলেস্নাল, স্থিরতা, প্রকৃতি আর মানুষের সৌন্দর্যময়তা, মনোভঙ্গি ও দহন ক্রিয়াশীল। বাংলাদেশ ভূখন্ডের মানুষ, মানুষের প্রেম, হৃদয়বৃত্তি ও যাপিতজীবন ঘিরে তার আগ্রহ পাঠককে উদ্দীপ্ত করে। নতুন ভাবনায় আটকে দেয়। পঞ্চাশ দশকের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ-ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তানি শাসকদের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, গণঅভু্যত্থান ও মুক্তিসংগ্রামে জোটবদ্ধ জাতি ষাট দশকের সময় থেকে কুড়িয়ে আনে সমাজচেতনা ও প্রগতিবোধ। বেলাল চৌধুরী তার কাব্যচেতনায় ধারণ করেন অস্তিত্ব ভাবনা। প্রকৃতপক্ষে বিশুদ্ধ কবিতার হাত ধরে তার পথচলা অব্যাহত ছিল। 'নিষাদ প্রদেশে' (১৯৬৬) থেকে তার যে কাব্যযাত্রা তা 'আত্মপ্রতিকৃতি' ও 'স্থির জীবন ও নিসর্গ' (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থে এসে বাঁক পরিবর্তন করে। 'জল বিষুবের পূর্ণিমা' (১৯৮৫)-তে প্রতিক্রিয়া ও আত্মানুসন্ধান করে তিনি জীবনানন্দীয় জগতে খুব সন্তর্পণে ঢুকে পড়েন। দ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়েও পূর্বগামীদের পথ থেকে দূরে এসে নির্মাণ করেন অভিনব এক কাব্যজগৎ। বর্তমান তার কাছে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয়ে ওঠে। মানবকল্যাণমুখী চিন্তা-ভাবনা ও সুন্দর দর্শন প্রযুক্ত হয়ে কবিতার নান্দনিক ভুবনে তার উপস্থিতি গুরুত্ববহ। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অভু্যদয় একজন কবিকে স্বজন হারানোর বিয়োগ বেদনায় দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যায়। পাশাপাশি আনন্দ-স্বপ্ন, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশীদার করে তোলে।

২.

বেলাল চৌধুরী উচ্চারণ করেন : 'একটি পতাকা হতে পারে কত আনন্দের/ স্বাধীনতা শব্দটি কত অনাবিল/ মুক্ত হাওয়ার পত পত স্বাধীন পতাকা/ সার্বভৌম, সুন্দর দেশজ চেতনার রঙে রাঙা/যারা জেনে যেতে পারেনি সে সব সুবর্ণ দিনের কথা/ আজ তাদের প্রাণের অধিক প্রিয় স্বাধীন মুক্ত দেশে/ তারাই কি মৃত্যঞ্জয়ী বীর নয়/ যারা পাঞ্জা ধরেছিল মৃতু্যর সঙ্গে/ এক ফোঁটা অশ্রম্নতে সেদিন ঝরেছিল মুক্তো/ নিটোল, নিখাদ, রাশি, রাশি' (মর্মে মর্মে স্বাধীনতা : জল বিষুবের পূর্ণিমা)

কিশোরের অমলিন স্মৃতিতে প্রিয় নীল জামা প্রজাপতি হয়ে ওড়ে। দুরন্ত কৈশোরের প্রগলভতা, স্বাধীনতা ও দুরন্ত দুপুর ডাকে। কবি স্মৃতি ভারাতুর। প্রিয় নীল জামা, প্রিয় মানুষ আর স্মৃতিময় মুহূর্ত তাকে বর্তমান যাপনে প্রণোদনা জোগায়। এক বুক ভালোবাসা তার পথচলার অবলম্বন। পেছন ফিরে তিনি দেখেন। ভবিষ্যৎ নির্মাণে অতীত আর বর্তমান তাকে উদ্বুদ্ধ করে। বেলাল চৌধুরী দীর্ঘকাল এক ধরনের বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করেও প্রিয় মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে বারবার স্মৃতি আর স্বপ্নের সাথে তার ভাবনাকে গ্রথিত করেন : 'চোখের সামনে আজও কেমন স্পষ্ট অমলিন/ বাল্যকালের গন্ধমাখা আমার নীল জামাটি,/ দুরন্তপনার হাজার চিহ্ন আঁকা নীল পতাকা/ রোদে পোড়া ঘামে ভেজা হাওয়ায় ওড়ায়/ যেন অস্থির এক প্রজাপতির রঙিন প্রগলভতা/ নীল পাহাড়ের নিরুদ্দেশে মেঘের রেশম স্বাধীনতা' (বাল্যকালের গন্ধমাখা নীল জামাটি : জল বিষুবের পূর্ণিমা)

শিকারী হাত কীভাবে ধরে জলের মৎস্য। কীভাবে মৎস্য চলে যায় শিকারীর খাবার টেবিলে-বেলাল চৌধুরী এসব দেখেন খুব মনোযোগের সাথে। চারপাশে, সমাজ ও পরিপার্শ্বের দিকে তাকান-খাদ্য ও খাদক, বিপর্যস্ত নগর, সভ্যতা, মানুষের এই সব ছুটোছুটি, হেঁয়ালিভরা মুখ, মৃতু্য ও বেঁচে থাকার আকুতি তার কবিতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। চাপিলা মৃতু্য, পাথরের হিম নিস্তব্ধতা ও গস্নাসের তরল অনল স্পর্শ করে পানের ভয়, জলের ভয় ও শব্দের ভয়ে তিনি বেদনার্ত হয়ে পড়েন।

এক বোধ তাকে গ্রাস করে : 'শব্দের জলে আমি অধ্যয়নশীল সন্তরণ করেছি/ জুজুবুড়িকে মেরেছি জলের ওপর। আমি মৃতু্যকে কামড়িয়েছি তীক্ষ্ণ/ খুব আলতোভাবে আমাকে তোলা হলো জল থেকে মসৃণ জালে/ কিছু ভেজা হাত আমাকে ধরলো, ছাড়লো জলের বন্ধন থেকে/ ছুড়ে দিল অন্ধকার খালুইর ভেতর-যেখানে আমি/ পড়ে রইলাম জলের বাহিরে' (খাদ্য ও খাদক : জল বিষুবের পূর্ণিমা)

ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক নিগূঢ় বন্ধন অন্বেষায় মগ্ন বেলাল চৌধুরী 'স্বপ্ন বন্দি' (১৯৮৫) কাব্যগ্রন্থে স্বপ্ন, ঘাম ও অস্তিত্বের পথ ধরে ইতিহাসের সাথে প্রজ্ঞালগ্ন থাকেন। বিষণ্নতা ও বস্তুবিশ্বের সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় তিনি কখনো নিম্নকণ্ঠকেও আবেগ আশ্রিত পঙ্‌ক্তিমালা সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করেন। প্রতীক আশ্রিত তার শব্দমালা আলোকিত সূর্যের কাছে নতজানু হয়। মৃতু্য, অন্ধকার ও দুঃস্বপ্ন তাকে পীড়িত করে।

৩.

তিনি অস্তিত্বের সংকট অতিক্রম করে মানুষ ও সমাজকে দ্বান্দ্বিক ভাবনায় গ্রথিত করেন। বেলাল চৌধুরী আশা ও স্বপ্ন এক সঙ্গে ঙ্গ্রথিত করে তার কাব্যলোকের রহস্যজগৎ খুলে দেন যেখানে 'স্বপ্ন' বন্দি হয়ে যায়। শস্য-শ্যামল সবুজ বাংলাদেশ গভীর অনুভবে বাঁধা। জাম, সুপারি, নীল আকাশ, অপসৃয়মাণ কোনো মুখ জানালায় একদন্ড দেখার আনন্দ, বেদনা বেলাল চৌধুরী সংগোপনে বুকের গভীরে লালন করেন। কবির স্বদেশ তার চোখে অপরূপ মমতায় আবদ্ধ। বেলাল চৌধুরী প্রকৃতিপ্রেমিক কবি। বাংলাদেশের আকাশ, বাতাস, বৃক্ষ, নদী-পাখির কলরব তার কবিতায় প্রবহমান। মানুষের আর্তি, প্রেম-বিরহ ও জীবনসংগ্রামের বর্ণনা তার কবিতায় মূর্ত হয়ে ওঠে। কবিতা মাত্রই স্বপ্নমগ্ন। নতুন স্বপ্নে প্রতিদিন লগ্ন হয়ে কবি তুলে আনেন পৃথিবীতে তার বিচরণ আর দিনযাপনের অর্থময়তা। সামাজিক বৈরিতা, দুঃশাসকের রাজদন্ড ও নীতি তাকে স্বপ্ন দেখা থেকে সরিয়ে আনতে পারে না। বেলাল চৌধুরী জীবনকে ইতিবাচক ভঙ্গিতে প্রত্যক্ষ করেন। তার কবিতায় স্বপ্ন ও জাগরণের নিত্য-নতুন আভাস লক্ষ্য করা যায়। তিনি বলেন, 'স্বপ্নে আমি কত কি যে দেখি তার কোনো শেষ নেই/ প্রতি বাঁকে বাঁকে আসে তারা অজস্র ধারায়/ কখনো গাছ কখনো মাছ কখনো ক্ষিপ্র বিদু্যৎ চমকের মতন' (স্বপ্ন বন্দি : স্বপ্ন বন্দি)

'যাবজ্জীবন সশ্রম উলস্নাসে' (১৯৯৭) কাব্যগ্রন্থের কবিতায় বেলাল চৌধুরী নগরজীবনের দহন, প্রকৃতির রুদ্ররোষ ও আত্মজিজ্ঞাসা তুলে আনেন। ইট, কাঠ, যান্ত্রিকতা নাগরিককে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নগরে একটা রিকশা, মানুষ, সারিসারি গাড়ির বহর প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও যন্ত্রণার প্রতীক হয়ে ধরা দেয় কবির চোখে। তিনি স্থির, দৃষ্টি তার প্রশ্নে নত : 'খটখটে ইট সুরকি অ্যাসফল্ট পিচঢালা পথঘাট, হাটমাঠ/ রোড, স্টিট, লেন, বাইলেন দুইয়ের এক, ফোর বাই টেন হাটখোলা/ আশির পরে ঊননব্বই-মাঝখানে শূন্যের হেঁয়ালি/ সর্পিল গতিতে চলেছে এগিয়ে এঁকে বেঁকে হেলে দুলে/ তামাম শহর ঘিরে দু'পাশে ডাইনে বাঁয়ে/ রোগা সরু মোটা কতশত রাস্তা বাঁক/ মাছেদের হাঁকডাক/ বাঁকের মুখে কত না মানুষের ঝাঁক, মাছ না মানুষ' (রিকশার শহর ঢাকা) 'ভালোবাসার কবিতা' (১৯৯৭), 'বত্রিশ নম্বর' (১৯৯৭) 'সেলাই করা ছায়া' (২০০৯) কাব্যগ্রন্থে বেলাল চৌধুরী ইতিহাস, মহানায়ক ও ব্যক্তিক ভাবনায় বুঁদ হয়ে অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও অভিজ্ঞানকে সঙ্গী করেছেন। কোনো কোনো বাড়ি একাকী নিঃসঙ্গভাবে সঙ্গী। একটা দুটা মানুষও থাকে না সেখানে। হাওয়া এসে দরোজায় কড়া নাড়ে 'কুহকের মতো। বৃক্ষ, ফুল, পাখি পাহারা দেয় বাড়িটিকে।

৪.

তার চেনা 'হাওয়া মহল' বাউন্ডুলের তত্ত্ব তালাশে মায়াবী হয়ে ধরা দেয় 'এ বাড়িটায় কেউ থাকে না শুধু হাওয়ায় কুহক/ জড়িয়ে আছে পাকে পাকে আইভি লতার আলিফ/ লালচে ইটে পড়ন্ত রোদ আর হাহাকার/ কেউ থাকে না ও বাড়িটায় শুধু হাওয়ার কুহক/ ও বাড়িটায় আনাচ-কানাচ অলিগলি কোথাও কেউ থাকে না বাড়িটা বেবাক বাউন্ডুলে/ তত্ত্ব তালাশ কেউ করে না শুধু হাওয়ায় কুহক/ একটি দুটি গোলাপ চারা দেয় পাহারা রাত্রি দিন/ ও বাড়িটা আমার বুকের গভীর হাওয়া মহল' (হাওয়া মহল)।

মানুষের অর্থহীন এই জীবন অন্বেষাকে বেলাল চৌধুরী নিরস আর ক্লান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করেন। একজন মানুষের মধ্যে অন্য একজন মানুষের বোধ পস্নাস্টিসিন ডেলার মতো বিচরণ করে যেন কৃত্রিমতার মোড়কে অনুভূতি সারাক্ষণ কুরে কুরে খায় অস্তিত্বকে। দ্বৈতসত্তাকে একসঙ্গে ধারণ করে মানুষ এই পৃথিবীতে বেঁচে আছে। এক অনন্ত জিজ্ঞাসায় আবর্তিত মানবসত্তা। বাঙালির জাগৃতি ও সংগ্রামে দুটো শব্দ 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব' ও 'জয় বাংলা' দৃঢ় রজ্জুতে গ্রথিত হয়ে আছে। পাকিস্তানি শাসকচক্রের নিপীড়ন ও বঞ্চনার বিপরীতে এই দুই শব্দ বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিসংগ্রামে অবতীর্ণ করতে প্রেরণা জোগায়। বাঙালির আত্মানুসন্ধানে ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর 'বঙ্গবন্ধু ভবন' হয়ে ওঠে ইতিহাসের স্মারক। বেলাল চৌধুরী উচ্চারণ করেন- বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস খুঁজতে গেলে/ যেতে হবে বত্রিশ নম্বর/ বাংলাদেশ ও বাঙালির গৌরবগাথা দেখতে হলে/ যেতে হবে বত্রিশ নম্বর/ বাঙালি ও বাংলাদেশের স্থাপত্য ইতিহাস জানতে হলে পাতা উল্টে দেখতে হবে বত্রিশ নম্বর/ বাংলাদেশ ও বাঙালির কলঙ্কচিহ্ন দেখতেও যেতে হবে বত্রিশ নম্বর;/ বত্রিশ বলতে একটি সড়ক মাত্র নয়, নয় খালি একটি প্রতীকী সংখ্যা/ শুধু একটি সংখ্যাবাচকেই সীমাবদ্ধ নয় এ বাড়ি/' (বত্রিশ নম্বর : বত্রিশ নম্বর)।

বেলাল চৌধুরী তার কবিতায় আত্মোপলব্ধি, মানুষ, সমাজ ও সমাজ সংলগ্ন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরেন। কফি হাউস, বন্ধু শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধায় ও কবিদের মানসলোকের রহস্য নিয়ে তিনি বিস্তৃত ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তবু বেলাল চৌধুরীর কবিতা নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। তার কবিতার বহুল পাঠ ও বিশ্লেষণ জরুরি। বেলাল চৌধুরী কবিতার রাজ পুত্তুর। তার কবিতা প্রচলিত জীবনধারার বিপরীতে স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও অনন্ত আকাঙ্ক্ষাকে জাগরূক রাখে। আড্ডা, আবিষ্কার, বোহেমিয়ান জীবন তিনি কবিতাবদ্ধ করেছেন। তার কবিতা সুপাঠ্য। কবি বেলাল চৌধুরী যে রহস্যলোকের দরোজা পাঠকের চোখের সামনে খুলে ধরেছেন সেখানে অনন্ত জিজ্ঞাসা, মর্মায়ত আনন্দ-বেদনার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি অর্থময় হয়ে ওঠে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে