মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

প্রেম-অপ্রেমের পদাবলি

রাশিদা তিথি
  ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০০:০০

পড়ে শেষ করলাম কবি অনিরুদ্ধ আলমের কবিতার বই 'প্রেম-অপ্রেমের পদাবলি'। বইটির অসাধারণ প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রম্নব এষ। এতে মোট ৮৮টি কবিতা স্থান পেয়েছে। অনন্যা প্রকাশনী বইটি প্রকাশ করেছে।

হৃদয়ের বাইরের জগতের দৃশ্যত অদৃশ্য অনুভবকে, আপন মনের ভাবনা-বেদনা-আনন্দকে যথাযথ শব্দসম্ভারে বাস্তব, সুষমামন্ডিত, চিত্রাত্মক ও ছন্দোময় ব্যবহারে রূপ-রসে অনন্য করে তুলেছে বইটির প্রতিটি কবিতা। কবি সেই অনিন্দ্য সৌন্দর্যকে ছড়িয়ে দিয়ে অবলীলায় স্পর্শ করেছেন পাঠকের হৃদয়কে।

কয়েকটি কবিতা থেকে এখানে কিছুটা উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করছি।

'দু-দুটো পথ যেন আমাকে ইশারাতে সারাটা বেলা ডেকে

বলছে, 'এক্ষুণি আমার সাথে চলো। পাবেই খুঁঁজে তাকে।' [পথ]

'যুদ্ধ হতে এক-যুবক বাড়ি ফেরে। ঝুলছে দোরে তালা

উঠোনজুড়ে ঘন তীব্র কাঁটালতা! মেলেছে পাঠশালা।

শঙ্খধ্বনি চুয়ে বৃষ্টি নামুক-না রুপোলি পাখা মেলে

একটি রেলগাড়ি থামল জংশনে। ভাবছি, তুমি এলে!' [কোথাও সীমান্তে]

'কেবলি এল বেগুনি আভা সাজিয়ে-রাখা সাঁঝ

নদীর মতো অধীর আলো সলাজে খোলে ভাঁজ

খুলুক আরো। মেলুক পাখা। পাখাগুলো মায়াবী

তোমার কাছে রেখেছিলাম নীল দোরের চাবি।' [চাবি]

কল্পনাকে অনিরুদ্ধ আলম অনুভূতিস্নিগ্ধ ছন্দোময় স্বার্থক শিল্পরূপ দিয়েছেন। বাংলা কাব্যসাহিত্যে যুক্ত করেছেন আরেকটি অমূল্য সম্পদ 'প্রেম-অপ্রেমের পদাবলি'।

কবিতা আর অনিরুদ্ধ আলম যেন এক-অভিন্ন সত্তা। তার বইটির প্রথম কবিতার প্রথম দুই পঙ্‌ক্তি

\হ'কেবলি কবিতার জন্য কি আসেনি তোমার কাছে ফিরে?

শুকনো ঝরাপাতা খেলছে পাশা এই মনের মন্দিরে।' [জন্ম-কবজু]

পড়লেই আমার কথার সার্থকতা মিলবে।

কবিতার ইতিহাসে প্রেমের কবিতার চাইতে শক্তিশালী কবিতা কখনো হয়নি। প্রেমের প্রতি আনুগত্য, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের প্রতিচ্ছবি 'প্রেম-অপ্রেমের পদাবলি'। প্রেমের কবির চাইতে বড় কবি কেউ হননি আজও। নিখুঁত ছন্দে লেখেন এই কবি।

কেবল ছন্দ-বৈচিত্র্যই এই বইটার একমাত্র আকর্ষণীয় দিক নয়! প্রতিটি কবিতায় চিত্রকল্প অলঙ্কারিত হয়েছে মেধহীন অনুপ্রাস, উপমা, উৎপ্রেক্ষা দিয়ে। ভিন্ন-ভিন্ন আঙ্গিকে বৈচিত্র্যময় মিথ ব্যবহার করেছেন কবি। সেখানে উঠে এসেছে বাংলার চিরায়ত রূপ ও ইতিহাস। সমাজচিত্র এঁকেছেন দক্ষতার সঙ্গে। অনুভূতির উচ্ছ্বাস বাণীমূর্তিতে ধরা পড়েছে কবিতার পরতে-পরতে। যেমন,

'প্রীতির পিরামিডে স্মৃতির মমিগুলো থাকে না নিশ্চুপ

মায়া কি গোয়েন্দা? ছায়ার মতো করে লেগেছে পিছু খুব।' [মমি]

'হেলেন কি ট্রয়ের সকল পরিণাম জমাত নৌকায়?

ঘাসের কৃতদাস আকাশও ঘুরেছিল আয়না-আঙিনায়।' [তেলেসমাতি]

সত্যি বলতে আমার মনে হয়েছে, প্রতিটি কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি উলেস্নখ করার মতো। এই কবিতার বইটি কবিতাপ্রেমিক পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি সংগ্রহ করে নিজেকেই নিজে ধন্যবাদ জানাচ্ছি!

অনিরুদ্ধ আলম অসাধারণ একজন মেধাবী- কবিই শুধু নন! তিনি একজন শিশুসাহিত্যিক। লিখেছেন অনেক অনেক মুগ্ধকর কিশোর কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোটগল্প। বাংলা বানানরীতি বিষয়ক ছোটোদের উপযোগী করে লেখা একটি বইও আছে তার। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, কম্পিউটার প্রযুক্তি বিষয়ে দেশ-বিদেশে পড়াশুনা করেছেন। আমি কবির কবিতাময় সুস্থ দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে