করোনাকালে অনলাইনে কেনাকাটার চাহিদা বাড়ছেই

করোনাকালে অনলাইনে কেনাকাটার চাহিদা বাড়ছেই

করোনাকালে জীবনযাত্রার মান যেমন বদলে গেছে, তেমনি বদলে গেছে তার ধরনও। আগে যেখানে মার্কেটে বা শপিংমলে গিয়ে যাচাই-বাছাই করে কেনাকাটা ছাড়া অন্য কিছুর কথা মানুষ ভাবতেই পারত না, সেখানে এখন অনেক মানুষই অনলাইন কেনাকাটার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগে হলেও হয়তো এ আয়োজনটি কল্পনাপ্রসূত হতো। কিন্তু এখন তা বাস্তব। কারণ যার হাতে আলাদিনের চেরাগের মতো সেই ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার কিংবা অন্য কোনো ডিভাইস আছে তার কাছে তো ঘরে বসে কেনাকাটা কিংবা দূর দেশে থাকা প্রিয় মানুষটির কাছে উপহার পাঠানো কোনো ব্যাপারই নয়। শুধু উৎসবভিত্তিক উপহারই বা বলি কেন? নিত্যদিনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় কেনাকাটা এখন হচ্ছে ঘরে বসেই। যানজট, রাস্তাঘাটের বিড়ম্বনা কিংবা মার্কেটের ভিড় আর ঠেলাঠেলি সামলে কেনাকাটার দিন শেষ। এখন ঘরে বসেই ক্রেতারা তাদের পছন্দের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছেন। আপনার কোনো অতি আদরের প্রিয় মানুষটির জন্মদিন। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ কিছু উপহার দিতে চান। অথবা ঈদের উপহার। তবে মুশকিল হলো, আপনি যেখানে থাকেন সেখান থেকে আপনার সেই প্রিয় ব্যক্তিটি কয়েকশ কিলোমিটার দূরে থাকে। অথবা আপনি বিদেশে থাকেন। আপনিও যেতে পারছেন না। কীভাবে, কী উপহার পাঠাবেন এ নিয়ে তো দুশ্চিন্তার কমতি নেই। এমন কোনো উপায় কি আছে, যেখানে নিজের পছন্দের পাঠানো উপহারটি রোমাঞ্চিত করবে প্রিয় মানুষটিকে! ডিজিটাল যুগে কষ্ট কমিয়ে দিচ্ছে অনলাইন শপিং সাইটগুলো। পিছিয়ে নেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকও। কম্পিউটারে ব্রাউজ করলেই ঘরে বসে পাওয়া যাচ্ছে নিজের পছন্দমতো পোশাক, গহনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। অনলাইন শপিং শুনলেই অনেকে মনে করেন, টাকা দিতে হবে ক্রেডিট কার্ডে। তবে সেই সমস্যাও এখন বলতে গেলে নেই। বেশির ভাগ অনলাইন শপই 'ক্যাশ অন ডেলিভারি' সার্ভিস দিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, অনলাইন সাইটগুলো দ্রম্নত পণ্য ঘরে পৌঁছে দিতে নিয়ে এসেছে 'হোম অন ডেলিভারি', 'ফ্রি ডেলিভারি'। অনেকেই মনে করেন, এ অনলাইন শপগুলোতে ভালোমানের পণ্য পাওয়া মুশকিল। কিন্তু সে দুশ্চিন্তাও এড়িয়েছে অনলাইন সাইটগুলো। এখন এ শপগুলোতে ব্র্যান্ডের পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই তরুণদের চাহিদা বাড়ছে অনলাইন শপের প্রতি। স্বল্পসময়ে ঝামেলাহীন বাজারের চাহিদা মেটাতে বেশি ঝুঁকছে একক পরিবারগুলো। দিন দিন গ্রাহকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অনলাইন শপগুলোর চাহিদা। দেশে এখন অর্ধশতাধিকেরও বেশি অনলাইন শপ রয়েছে। গ্রাহকদের পণ্যের চাহিদার ওপরও ভিত্তি করে খোলা হয়েছে অনলাইন শপ। যেমন শুধু ঘরে বসে যে কোনো পণ্য কেনার জন্য রয়েছে এক ধরনের সাইট, আছে ব্র্যান্ডেড শপগুলোরও অনলাইন শপিং, কাউকে গিফট দিতে চাইলেও রয়েছে আলাদা কিছু সাইট, একান্ত ব্যক্তিগত কিছু কেনার জন্য রয়েছে ভিন্ন সাইট আবার কারও যদি কেনা ও বেচা দুটোরই ইচ্ছা থাকে, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন ক্ল্যাসিফায়েড ওয়েবসাইটগুলোতে। নতুন পোশাক-আশাক ছাড়া যেন ঈদ অপূর্ণ থেকে যায়। শুধু পোশাকই নয়, ঈদে ঘর সাজানো থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও কেনার প্রতি আগ্রহ দেখা যায়। ঈদ সামনে রেখে তাই বিক্রেতাদের মধ্যেও থাকে নানা আয়োজন। অনলাইনে কেনাকাটা বাংলাদেশে যদিও এখনো মূলধারায় মিশতে পারেনি, তবে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতি বছরই বাড়ছে ঈদের কেনাকাটার হার। গত বছর আর এবারের ঈদের কেনাকাটার পরিমাণ তুলনা করলেও তা বোঝা যায়। লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে দেড় থেকে দুই গুণ। প্রতি লেনদেনে খরচ করা অর্থের পরিমাণও বাড়ছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও বড় ব্র্যান্ডের ই-শপগুলো তাই এবারের ঈদ খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। কোরবানির ঈদে গরু-ছাগল কেনাকেটার জন্য এবার মানুষ হাটে যাওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাকেও প্রাধান্য দিয়েছে। ধীরে ধীরে অনলাইনের চাহিদাও বাড়ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2021

Design and developed by Orangebd


উপরে