প্রযুক্তির বিস্ময় পদ্মা সেতু

মাকড়সার পায়ের মতো পাইলগুলোর অবস্থান। মোট পাইলের সংখ্যা ২৬৪টি। যাতে স্রোত সহনশীল হতে পারে। কেননা আমরা প্রবল ঝড়ের মধ্যে, দুই পা সোজা রেখে যতটা না আঘাত সহ্য করতে পারি। দুই পা দুদিকে ফাঁক করে দাঁড়ালে তার থেকে বেশি আঘাত সহ্য করতে পারি। পদ্মা সেতুর রিয়ার এবং স্প্যান পুরোটাই কংক্রিটের তৈরি। পদ্মা সেতুর স্প্যানের সংখ্যা ৪২টি। এক একটি স্প্যানের দৈঘ্য ১৫০ মিটার। পদ্মা ব্রিজ দোতালা ব্রিজ, এর নিচের অংশ স্টিলটাচের। এর ভেতর দিয়ে যাবে রেলগাড়ি। রেললাইন সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ।
প্রযুক্তির বিস্ময় পদ্মা সেতু

সেতু অর্থ হলো- যে কোনো প্রকারের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করার জন্য প্রাকৃতিক বা কৃত্রিমভাবে গঠিত সংযোগ ব্যবস্থা। একটি দেশে যখন সেতু নির্মাণ করা হয় তখন বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েই সেতু নির্মাণ করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প, শিক্ষাব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, বিদু্যৎ, গ্যাস, পণ্য আমদানি-রপ্তানি ইত্যাদিসহ আরও বেশকিছু বিষয়ের উপর। বাংলাদেশে নবনির্মাণকৃত পদ্মা সেতু নিয়ে নানা রকম হইচই হট্টগোলের আওয়াজ চারদিকে চলমান। কেউ কেউ এই সেতুকে উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা বলে আখ্যায়িত করছেন। আবার কেউ কেউ পদ্মা সেতুকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 'নানা মুনির নানান মত' প্রবাদের মতোই পদ্মা সেতুর অবস্থা।

পদ্মা সেতুর খরচ নিয়ে অনেকেই বিচলিত। কেউ কেউ খরচের দিক থেকে এই সেতুকে গোল্ডেন সেতু বলে আখ্যায়িত করছেন। এত অর্থ খরচ করে তৈরি করা এই সেতু আমাদের দেশের জন্য কতটুকু কল্যাণ বয়ে আনবে-এ প্রশ্ন অনেকের মনে। আমাদের একটু দেখা উচিত পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে কেন এত অর্থ খরচ হলো?

তাহলে আসুন, পদ্মা সেতুর মোট খরচের পরিমাণ ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এই টাকার মধ্যে কোথায় কত খরচ হয়েছে।

মূল সেতুর খরচ ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। নদীশাসনে খরচ ৮ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।

জাজিরা সংযোগ সড়কে খরচ ১ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। মাওয়া সংযোগ সড়কে খরচ, ১৯৩ কোটি টাকা। সার্ভিস এরিয়া-২ খরচ ২০৮ কোটি টাকা।

ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট সেফটিটিম ৯৬০ কোটি টাকা। (ঊঝঝঞ)ইধহমষধফবংয অৎসু ৯৮৪ কোটি টাকা। ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ ংঁঢ়বৎারংরড়হ পড়হংঁষঃধহঃ, অংংড়পরধঃরড়হ ডরঃয ইটঊঞ ১৩৩ কোটি টাকা। পড়হংঃৎঁপঃরড়হ ংঁঢ়বৎারংরড়হ পড়হংঁষঃধহঃ-২(পংপ) কড়ৎবধ বীঢ়ৎবংংধিু ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ ধহফ অংংড়পরধঃবং ৩৪৮.০১ টাকা।

আরডিপি অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ২,৬৯৩,২১ হেক্টর বরাদ্দকৃত জমি ২,৬৯৮,৭৬ কোটি টাকা। অধিগ্রহণকৃত ভূমি মুন্সীগঞ্জ ৩২৯,৭৬ হেক্টর, মাদারীপুর ১,৫৮৬,৭৫৬২ হেক্টর, শরীয়তপুর ১৩১৯ হেক্টর, সর্বমোট ২,৫২৭,৪৭৬২ হেক্টর। ভূমি অধিগ্রহণ বন্দোবস্ত হুকুমদাতার জন্য জড়িত টাকা ৩,০৪৬,৮২ কোটি টাকা।

হঁ্যা এ তো গেল পদ্মা সেতুর খরচ।

এখন আসি এই খরচ উঠতে কত বছর সময় লাগবে। এ বিষয়েই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতিবছর পদ্মা সেতু থেকে ১ হাজার ৫০ লাখ কোটি টাকার জোগান দেবে। তাহলে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি, ৩৯ লাখ কোটি টাকা উঠাতে প্রায় ২২ থেকে ২৫ বছরের মতো সময় লাগবে। কিংবা পায়রা বন্দরের মেঘা প্রজেক্ট ও অনান্য বিষয়ের ফলে ১৫/১৭ বছর সময় লাগতে পারে।

পদ্মার মতো এত বড় খরস্রোতা নদীতে কি পদ্মা সেতু টিকবে। পৃথিবীতে সবচেয়ে খরস্রোতা নদী হলো আমাজন। এর পরই পদ্মা সেতুর অবস্থান। এ জন্যই পদ্মা সেতু তৈরিতে নানা রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়েছে। পদ্মা সেতুর এক একটি পিলারে দৈর্ঘ্য দেওয়া হয়েছে ১২০ মিটার আর প্রস্থ ৩ মিটার। মোট ৪২টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এটি স্টিলের পুরুপাত দ্বারা তৈরি। ১০০ বছরে ক্ষয় হবে ১০ মিলিমিটার। এই পদ্মা সেতুর নিশ্চয়তা বা আয়ুষ্কাল ১০০ বছর। পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে ৬টি করে পাইল বসানো হয়েছে। এই পাইলগুলো কয়েক মিটার দূরে দূরে স্থাপন করা হয়েছে। মাকড়সার পায়ের মতো পাইলগুলোর অবস্থান। মোট পাইলের সংখ্যা ২৬৪টি। যাতে স্রোত সহনশীল হতে পারে। কেননা আমরা প্রবল ঝড়ের মধ্যে, দুই পা সোজা রেখে যতটা না আঘাত সহ্য করতে পারি। দুই পা দুদিকে ফাঁক করে দাঁড়ালে তার থেকে বেশি আঘাত সহ্য করতে পারি। পদ্মা সেতুর রিয়ার এবং স্প্যান পুরোটাই কংক্রিটের তৈরি। পদ্মা সেতুর স্প্যানের সংখ্যা ৪২টি। এক একটি স্প্যানের দৈঘ্য ১৫০ মিটার। পদ্মা ব্রিজ দোতালা ব্রিজ, এর নিচের অংশ স্টিলটাচের। এর ভেতর দিয়ে যাবে রেলগাড়ি। রেললাইন সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। ব্রডগেজ এবং মিটারগেজ। পদ্মা সেতুর উপর নির্মিত রেললাইনে দুই ধরনের রেলই চলতে পারবে। এই রেললাইনে দোতলা মালবাহী ট্রেনও চলতে পারবে। এবং যে কোনো সমস্যা সমাধানে বসবৎমবহপু ধপপবংং ঢ়ড়রহঃ নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বিপদের সময় সেখান থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা যায়। এই জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবে। তাই এই চাপ প্রথমে রেললাইন, রেললাইন থেকে স্টাচ, এরপর স্প্যান, স্প্যান থেকে পিলারের, পিলার থেকে পাইলের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। এই রেললাইনের উপরে নির্মিত হয়েছে কংক্রিটের ছাদের উপর চারলেন বিশিষ্ট রাস্তা। এর দৈর্ঘ্য ২২ মিটার। পানি থেকে সেতুর উচ্চতা ৬০ মিটার। যাতে পানির নিচে বালুর আস্তরণ ঘটলে কোনো প্রকার সমস্যা না হয়।

যদিও কোথায় কোথায় বালুর আস্তরণ ঘটে এর জন্য তৈরি রয়েছে বিকল্প পদ্ধতি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিং বসানো হয়েছে এই সেতুতে। এটি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। এত বড় বিয়ারিং বিশ্বের কোনো সেতুতে বসানো হয়নি। এবং বিশ্বের কোনো সেতুতেই একসঙ্গে কংক্রিট ও স্টিল ব্যবহার করা হয়নি। হয় স্টিল নয় কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজ অর্থায়নে। ফলে পদ্মা সেতুর আয়ের উৎস থেকে বাংলাদেশে আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জোগান দেবে। জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ১.২ শতাংশ এবং প্রতিবছরে দরিদ্রতা বিমোচন করবে ০.৮৪ শতাংশ। পদ্মা সেতুর জাইকা ২০০৯ সালে এক সমীক্ষা দেখায় ঊপড়হড়সরপ জবঃঁৎহ উঠে আসবে ১৮/২২ শতাংশ। পরে আরও বাড়তে পারে। পদ্মা সেতুর জবঃঁৎহ আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে কৃষি। এ ছাড়া শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটনসহ আর বিভিন্ন বিষয়ে।

নদীশাসনে থাকা লাখ লাখ মানুষ সুবিধা পাবে। ১৫৬ মিলিয়ন ডলারের ৯ হাজার হেক্টর জমি নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

এই পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরদার করবে ঢাকার সঙ্গে।

দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথের যাত্রা পথ ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে কমিয়ে আনবে মাত্র ৩ ঘণ্টা কয়েক মিনিটে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব ১৭০ কিলোমিটার।

মাওয়া ফেরিঘাট থেকে নৌপথে খুলনা যেতে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। কিন্তু পদ্মা সেতু হলে ৩ ঘণ্টা কয়েক মিনিট সময় লাগবে। এরকম দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর ও দূরত্ব কমবে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় যেতে সময় লাগে ১২ ঘণ্টার উপরে কিন্তু পদ্মা সেতু হলে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় যেতে সময় লাগে ৬ ঘণ্টার একটু বেশি সময়।

পদ্মা সেতুর আশপাশে গড়ে উঠবে বিভিন্ন ধরনের কলকারখানা। এর ফলে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা সমাধানে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করবে পদ্মা সেতু। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে আনবে বৈপস্নবিক পরিবর্তন। পদ্মা সেতুর আশপাশে গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন এখান থেকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের পাশাপাশি কমে যাবে সময়, বাড়বে আয়। ব্যবসায়িক ও পণ্য পরিবহণের ব্যাপক সুবিধাজনকভাবে সুফল বয়ে আনবে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর আশপাশের জমিগুলোর মান বৃদ্ধি পাবে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কৃষিজ পণ্য খুব সহজেই ভোক্তার নিকট পৌঁছাতে পারবে। এতে ব্যবসায়িক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।

পদ্মা সেতুর উপর যানবাহন দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমিয়ে আনার জন্য। পদ্মা সেতু বাকিয়ে তৈরি করা হয়েছে। কেননা; গাড়িচালক সোজা রাস্তা পেলে মনোযোগ সহকারে গাড়ি চালান না। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। কিন্তু বাঁকা রাস্তা পেলে গাড়িচালক মনোযোগসহকারে গাড়ি পরিচালনা করেন। এর ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম থাকে। সেতুর উপর দুর্ঘটনা ঘটলে সেটি মারাত্মকভাবে প্রতিফলিত হয়। কেননা আশপাশে কোনো প্রকারের সেফটির বিষয় নেই। এ জন্য ইঞ্জিনিয়ার সাহেব এই সেতুর নকশা বাঁকা করে করেন।

আমরা যদি যমুনা সেতুর দিকে লক্ষ্য করি। তাহলে হয়তো বিষয়টি বুঝতে আরও সুবিধা হবে। যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হয়েছিল। তখন এর খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তখন এর পরিকল্পনা ছিল ২৫ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ টাকা উঠে আসবে। কিন্তু তার ৭ বছর আগেই ২০১৮/১৯ সালে ৫ হাজার ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ কোটি টাকা উঠে যায়। যমুনা সেতুর ঊপড়হড়সরপ জবঃঁৎহ আয় ধরা হয়েছিল ১৫ শতাংশ কিন্তু পরে সেই জবঃঁৎহ আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে। যমুনা সেতু হওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণ হয়েছে। যমুনা সেতুর মানুষ কখনো স্বপ্ন দেখেছিল না যে তারা ঢাকা দিন গিয়ে দিন ঘুরে আসতে পারবে; কিন্তু যমুনা সেতু হওয়ার ফলে তা এখন সম্ভব হয়েছে। প্রতিদিন আমাদের অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নতিকরণ করছে যমুনাসেতু।

দক্ষিণ কোরিয়ার জিয়াংগু এক্সপ্রেসওয়ে। ১৯৬৩ সালে পাংসংহে ক্ষমতায় আসার পরে সিউল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ভুষান পর্যন্ত লাইভ লাইনের ঘোষণা দেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং ৬০ পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া এত পরিমাণ দারিদ্র্য ছিল, সে সময় তাদের বিশ্বব্যাংকসহ। বিশ্বের বড় বড় দাতা সদস্যরা আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি হয়নি। পরে নিজেদের অর্থায়নে ৩ বছর বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে তারা সড়কটি সম্পন্ন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সেটি ছিল তাদের কঠিন ও সাহসী পদক্ষেপ। আর এই হাইওয়ে এক্সপ্রেস দক্ষিণ কোরিয়াকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এবং দক্ষিণ কোরিয়ার এটাই সবচেয়ে বড় হাইওয়ে এক্সপ্রেস।

তদ্রূপ, পদ্মারপাড়ে বসবাসকারী মানুষ কখনো কল্পনা করতে পারেনি। তারা বাড়ি থেকে নাশতা খেয়ে ঢাকা গিয়ে অফিস করবে; কিন্তু আজ তাদের স্বপ্ন দৃশ্যমান হতে চলেছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মাধ্যমে। শিবচর উপজেলায়, বাস করা করিম মিয়া ভ্যান চালিয়ে স্বপ্ন দেখছেন লাখ টাকার মানুষ হবে। মাদারীপুর সদরে পিয়নের চাকরি করা আকতার আলী আজ স্বপ্ন দেখছেন। তার স্কুলের দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করে দিন গিয়ে দিন ঘুরে আসতে পারবেন। জাজিরা দানেশ মামা স্বপ্ন দেখছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে পোহাতে হবে না ভোগান্তি। এ সব স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বস্তু আজ 'স্বপ্নের পদ্মা সেতু'।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে