এক প্রকারের পরিমাপক যন্ত্র স্স্নাইড ক্যালিপার্স

এক প্রকারের পরিমাপক যন্ত্র স্স্নাইড ক্যালিপার্স

স্স্নাইড ক্যালিপার্স এক প্রকারের পরিমাপক যন্ত্র- যার সাহায্যে কোনো বস্তুর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব নির্ণয় করে পরিমাপ করা যায়। এ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করতে ভার্নিয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় বলে অনেক সময় একে ভার্নিয়ার ক্যালিপার্সও বলা হয়ে থাকে। স্স্নাইড ক্যালিপার্স মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ধাতুর দৈর্ঘ্য নির্ণয়, কাঠের মাপজোখ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

ভার্নিয়ার ক্যালিপারের বিভিন্ন অংশ: বাহিরের চোয়াল: এ অংশের সাহায্যে গোলাকার বস্তুর বাহ্যিক ব্যাস বা পুরুত্ব নির্ণয় করা হয়।

ইতালীয় সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত গ্রিক দেশের গিগলিও দ্বীপে প্রাপ্ত জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সর্বপ্রথম স্স্নাইড ক্যালিপার্সটি পাওয়া গিয়েছিল। জাহাজের ধ্বংসাবশেষগুলো ছিল খ্রিষ্টের জন্মেরও প্রায় ৬ শতক আগে। কাঠের তৈরি ওই ক্যালিপার্সটিতে আধুনিক ক্যালিপার্সের মতোই ছিল একটি আবদ্ধ ও একটি চলাচলে সক্ষম চোয়াল। দুর্লভ হলেও, গ্রিক ও রোমানরা স্স্নাইড ক্যালিপার্স ব্যবহার করা চালিয়ে গিয়েছিল।

হ্যান সাম্রাজের সময় (২২০ খ্রিষ্টপূর্ব- ২২০ খ্রিষ্টাব্দ) চায়নাতেও স্স্নাইড ক্যালিপার্স ব্যবহারের নমুনা পাওয়া যায়। ব্রোঞ্জ নির্মিত ক্যালিপার্সটির প্রত্যেকটি অংশের সঙ্গেই চায়নার যুগ ও চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে সেটি তৈরির সময় খোদাইকৃতভাবে লেখা ছিল।

অ্যামেরিকার বিজ্ঞানী জোসেফ আর. ব্রাউন ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম আধুনিক স্স্নাইড ক্যালিপার্স আবিষ্কার করেন, যা এক ইঞ্চির ১ হাজার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত সঠিকভাবে মাপতে পারত। তার 'ইৎড়হি ধহফ ঝযধৎঢ়ব' নামের কোম্পানি সর্বপ্রথম তা অ্যামেরিকায় বাজারজাত করা শুরু করেছিল। সাধারণ যন্ত্রকারকদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এমন প্রথম ব্যবহারিক যন্ত্রও ছিল এটি।

ভেতরের চোয়াল : এ অংশের সাহায্যে বস্তুর অভ্যন্তরীণ ব্যাস পরিমাপ করা হয়।

গভীরতা নির্ণায়ক : এর সাহায্যে কোনো বস্তুর পুরুত্ব বা গর্তের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

প্রধান স্কেল : মিলিমিটার স্কেল

প্রধান স্কেল : ইঞ্চি এককে দাগাঙ্কিত স্কেল

ভার্নিয়ার স্কেল : ভার্নিয়ার স্কেলের একটি অংশ যেটি আনুমানিক ০.১সস পর্যন্ত নিখুঁত হিসেব করতে পারে।

ভার্নিয়ার স্কেল : ভার্নিয়ার স্কেলের আরেকটি অংশ যা এক ইঞ্চির ভগ্নাংশ পর্যন্ত সূক্ষ্ণভাবে পরিমাপ করতে পারে।

ভার্নিয়ার ধারক : এ অংশটি ভার্নিয়ার স্কেলকে প্রধান স্কেলের সঙ্গে আটকে রাখতে ও চলাচল করতে সাহায্য করে।

গঠন : একটি ধাতুর তৈরি আয়তকার দন্ডের ওপর নির্দিষ্ট এককের দাগ কেটে স্স্নাইড ক্যালিপার্সের প্রধান স্কেল তৈরি করা হয়। প্রধান স্কেল যেখান থেকে শুরু হয় অর্থাৎ যে প্রান্তে শূন্য দাগ কাটা থাকে সেখানে একটি ধাতব চোয়াল থাকে। আবার প্রধান স্কেলের গায়ে চোয়াল যুক্ত একটি ভার্নিয়ার স্কেল পরানো থাকে। এ ভার্নিয়ার স্কেলটি প্রধান স্কেলের ওপর সামনে-পেছনে সরানো যায়। এ স্কেলের সঙ্গে আবার একটি স্ক্রু সংযুক্ত আছে- যার সাহায্যে স্কেলটিকে প্রধান স্কেলের যে কোনো স্থানে আটকিয়ে রাখা যায়।

ব্যবহার : প্রথমে যে বস্তুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে হবে তাকে স্স্নাইড ক্যালিপার্সের চোয়াল দুটির মধ্যে রাখতে হবে। তারপর ভার্নিয়ার স্কেলের সঙ্গে লাগানো চোয়াল সামনে এনে এমনভাবে বস্তুর সঙ্গে লাগাতে হয় যেন প্রধান স্কেলের চোয়াল ও ভার্নিয়ার স্কেলের সঙ্গে সংযুক্ত চোয়াল বস্তুটিকে দুই বিপরীত দিক থেকে স্পর্শ করে থাকে। অতঃপর স্ক্রুর সাহায্যে ভার্নিয়ারটিকে প্রধান স্কেলের সঙ্গে আটকানো হয়। এরপর প্রধান স্কেলের পাঠ ও ভার্নিয়ারের পাঠ নেওয়া হয়। বস্তুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে গেলে কয়েকটি বিষয় জানা প্রয়োজন- ভার্নিয়ার ধ্রম্নবক, প্রধান স্কেল পাঠ, ভার্নিয়ার সমপাতন, যান্ত্রিক ত্রম্নটি।

প্রধান স্কেলের ক্ষুদ্রতম এক ভাগের চেয়ে ভার্নিয়ার স্কেলের এক ভাগ ঠিক কতটুকু ছোট তার পরিমাণকে ভার্নিয়ার ধ্রম্নবক বলে।

এখন প্রধান স্কেলের ক্ষুদ্রতম এক ভাগের দৈর্ঘ্য ং এবং ভার্নিয়ার স্কেলের ভাগ সংখ্যা হ হলে, ভার্নিয়ার ধ্রম্নবক= ং/হ

\হযেমন : প্রধান স্কেলের ক্ষুদ্রতম এক ভাগের দৈর্ঘ্য ১ মি.মি. এবং ভার্নিয়ার স্কেলের ভাগ সংখ্যা ১০ হলে, ভার্নিয়ার ধ্রম্নবক হবে= ১/১০ মি.মি.=০.১ মি.মি. বা ০.০১ সে.মি.।

প্রধান স্কেল পাঠ : মনে করি, যে বস্তুটির দৈর্ঘ্য নির্ণয় করতে হবে তার একটি প্রান্ত প্রধান স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে মিলে আছে। এ অবস্থায় ভার্নিয়ার স্কেলের সঙ্গে সংযুক্ত চোয়ালটিকে বস্তুটির অপর প্রান্তে স্পর্শ করাতে হবে। যদি বস্তুটির অন্য প্রান্তটি প্রধান স্কেলের গ মি.মি. দাগ অতিক্রম করে, তবে এটিই হবে ভার্নিয়ার পাঠ।

ভার্নিয়ার সমপাতন : ভার্নিয়ারের কোন দাগটি প্রধান স্কেলের, কোন দাগের সঙ্গে মিলেছে বা সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছে সেটি দ্বারা ভার্নিয়ার সমপাতন বোঝা যায়।

যান্ত্রিক ত্রম্নটি : ঠবৎহরবৎ ঝপধষব তবৎড় বৎৎড়ৎ +০.১০.মরভ

মূল স্কেলের চোয়াল এবং ভার্নিয়ার স্কেলের চোয়াল যখন পরস্পরকে স্পর্শ করে থাকে তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভার্নিয়ার স্কেলের শূন্য দাগ মূল স্কেলের শূন্য দাগের সঙ্গে মিলে যায়। কখনো কখনো যান্ত্রিক ত্রম্নটি থাকলে নাও মিলতে পারে। ভার্নিয়ারের শূন্য দাগ মূল স্কেলের শূন্য দাগের ডান পাশে থাকলে ত্রম্নটি হবে ধনাত্মক আবার যদি ভার্নিয়ারের শূন্য দাগ মূল স্কেলের শূন্য দাগের বাম পাশে থাকে তাহলে ত্রম্নটি ঋণাত্মক হবে। ভার্নিয়ার স্কেলের ০ দাগ প্রধান স্কেলের ০ দাগের ডানে বা বামে থাকা অবস্থায় ভার্নিয়ারের যত দাগ মূল স্কেলের যে কোনো একটি দাগের সঙ্গে মিলেছে, তাকে ভার্নিয়ার ধ্রম্নবক দ্বারা গুণ করে যান্ত্রিক ত্রম্নটি নির্ণয় করা হয়।

বস্তুর দৈর্ঘ্য নির্ণয় সূত্র : বস্তুর দৈর্ঘ্য (খ)= প্রধান স্কেল পাঠ (গ)+ ভার্নিয়ার সমপাতন (ঠ)দ্ধ ভার্নিয়ার ধ্রম্নবক (ঠঈ)- [যান্ত্রিক ত্রম্নটি (ক্টব)]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আরও খবর

Copyright JaiJaiDin ©2022

Design and developed by Orangebd


উপরে