মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০
walton

ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে 'ঢাকা কাস্ট'

নাহ্‌ইয়ান তারাননুম
  ০৪ মার্চ ২০২৩, ০০:০০

ডায়াবেটিসকে বলা হয় সব রোগের মহারোগ। কেননা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে ও ছত্রছায়া দিয়ে থাকে আরও নানান অসুখকে। তাই ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় করা বেশ দুরূহ ব্যাপার। আর এই কঠিন যুদ্ধে ডায়াবেটিস রোগীদের হয়ে অভিনব পদ্ধতিতে লড়ে যাচ্ছে 'ঢাকা কাস্ট'।

'ঢাকা কাস্ট'- বাংলাদেশের একটা ভিন্নধর্মী সার্টআপ যার মূল লক্ষ্য দেশের সব ডায়াবেটিস রোগীকে ঘরে বসেই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা দেওয়া, সচেতন করা ও এ সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা প্রদান করা। পথচলার মাত্র তিন বছর হলেও ঢাকা কাস্ট নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে দেশের হাজার মানুষের ভরসায়।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠাতা ডা. ফাহরিন হান্নানের স্বপ্নে ঢাকা কাস্ট চিত্রায়ত হয় দেশের বরেণ্য ডাক্তারদের আলোচনায় বিভিন্ন রোগ ও সেগুলোর বিরুদ্ধে সচেতনতার পডকাস্ট হিসেবে। সে উৎস থেকেই ঢাকা কাস্টের নামকরণ। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ভোক্তাদের সুবিধার্থে ও দেশের বৃহৎ সংখ্যক মানুষকে সেবাদানের লক্ষ্যে এর মোড় ঘুরে যায় ঘরে বসে ডায়াবেটিস সেবাদানে। আগস্ট, ২০১৯। আইসিটি ডিভিশনের পিচ প্রতিযোগিতায় দেশের বাঘা বাঘা স্টার্ট আপদের সঙ্গে লড়াই করে প্রথম হয় ঢাকা কাস্ট। ওই একই বছর বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে ঢাকা কাস্ট বিজয়ীর তকমা অর্জন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা 'শি লাভস টেক'-এর। তারপর থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে থাকে এবং পরিচিতি অর্জন করতে থাকে ঢাকা কাস্ট এবং বেগবান হতে থাকে

সেবাদানের দিকে।

পরিপূর্ণরূপে সেবাদান শুরু করার মুখেই ঢাকা কাস্টকে মোকাবেলা করতে হয় বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের স্থবিরতার। তবে প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকদের দূরদর্শিতা বলে ঢাকা কাস্ট সামলে ওঠে ও অনন্য উদ্যমে শুরু করে টেলিমেডিসিন সার্ভিস তথা ঘরে বসে ওষুধ ক্রয়ের সেবা। পাশাপাশি দিতে থাকে ডায়াবেটিস ছাড়াও সব রোগের রোগীদের জন্য অনলাইন চিকিৎসা সেবা। নামমাত্র মূল্যে ঢাকার যে কোনো প্রান্তের যে কোনো রোগীকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছিল করোনা পরীক্ষা ছাড়া অন্যসব সেবা। দেশের কঠিন সময়ে মানুষের পাশে থাকার এই চেষ্টা ঢাকা কাস্টকে এনে দেয় আইসিটি ডিভিশনের আয়োজিত 'কল ফর নেশন'-এর অনারেবল মেনশন।

করোনার প্রকোপ কমলে ঢাকা কাস্ট ফিরে আসে তার মূল নকশায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরের চৌকাঠে পৌঁছে দিচ্ছে ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের ভার্চুয়াল চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যসব সেবা যেমন সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ পরীক্ষা, কনসালটেন্সি ইত্যাদি। বর্তমানে দেশের ছয়টি জেলায় রয়েছে ঢাকা কাস্টের হাব। এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন দেশের অসংখ্য খ্যাতিমান ডাক্তার ও প্রায় ১৫০ জনবল এবং বর্তমানে সেবা দিচ্ছে প্রায় ৭০০০ মানুষকে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনে এই ভিন্নমাত্রা যোগ করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার, ২০২১' নামের জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ঢাকা কাস্ট ও এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. ফাহরিন হান্নান।

ঢাকা কাস্টের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হয়ে উঠেছে সুলভ ও সহজলভ্য। সচেতনতা তৈরি হয়েছে ডায়াবেটিস নিয়ে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা বেশি থাকায় সেবা নিতে আগ্রহী অভিভাবকদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে সন্তানরা বিশেষভাবে অবগত থাকছেন বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে। চিকিৎসা প্রাঙ্গণে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে ঢাকা কাস্ট আশা করে দেশের ৬৪টি জেলায়ই হাব বা বুথ স্থাপন করতে এবং সেবাগ্রহীতা প্রত্যেকের পূর্ণ বায়োপারসোনা অ্যানালাইসিস করে পৃথক পৃথক প্রোফাইল তৈরি রাখতে। সর্বোপরি দেশের বর্তমানের প্রায় দেড় কোটি ডায়াবেটিস রোগীদের এবং এ রোগের ভবিষ্যতের সব রোগীকে 'দোরগোড়ায় ঝামেলাবিহীন ডায়াবেটিস সেবা' দিতে পরিকর হয়ে আছে ঢাকা কাস্ট।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপরে