রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

তথ্য আদান-প্রদানে ফ্ল্যাশ ড্রাইভ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  ২৭ মে ২০২৩, ০০:০০
তথ্য আদান-প্রদানে ফ্ল্যাশ ড্রাইভ

সাম্প্রতিক সময়ে ইউএসবি ৩.০ প্রযুক্তির পেন ড্রাইভ বাজারে আসায় তথ্য আদান-প্রদানে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় ছাত্র বা কর্মজীবনে পেন ড্রাইভ একটি অপরিহার্য অংশ। কেননা চৎবংবহঃধঃরড়হ/ অংংরমহসবহঃ/ ঠরফবড় ্‌ অঁফরড়/ উড়পঁসবহঃ যাবতীয় সবকিছুর জন্য পেন ড্রাইভ প্রয়োজন হয়। পেন ড্রাইভ কেনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এর ডেটা সিকিউরিটির বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এ ছাড়া ডেটা ট্রান্সফার রেট, ডেটা ধারণ ক্ষমতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিক্রয়োত্তর সেবা, পানি নিরোধী এবং বিদু্যৎ প্রতিরোধক কিনা এই বিষয়গুলো জেনে নেওয়া উচিত।

খুব সহজে ডেটা বহন করার জন্য পেন ড্রাইভের কোনো বিকল্প নেই। এটি অবশ্য ফ্ল্যাশ ড্রাইভ নামেও পরিচিত। এটি ডেটা বহনের জন্য একটি ছোট্ট ও সুন্দর প্রযুক্তি। মূলত ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ফ্ল্যাশ ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস এবং ইউএসবি ইন্টারফেসের সমন্বয়ে গঠিত এটি। ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ সাধারণত সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্নকরণযোগ্য এবং এতে পুনরায় ডেটা লেখা যায়। এটি বাহ্যিকভাবে ফ্লপি ড্রাইভ থেকে অনেক ছোট। অধিকাংশ ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ওজনে ৩০ গ্রামের চেয়ে কম। আকার ও খরচ ঠিক রেখে ২০১০ সালে ২৫৬ গিগা বাইট ধারণক্ষমতা পর্যন্ত ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। কিছু ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ১০ বছর পর্যন্ত ডেটা ধরে রাখতে পারে।

\হট্রেক টেকনোলজি এবং আইবিএম সর্বপ্রথম ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ বাজারে ছাড়ে ২০০০ সালে। ট্রেক টেকনোলজি একটি সিঙ্গাপুরের কোম্পানি। ট্রেক টেকনোলজি কর্তৃক প্রথম বাজারজাতকৃত ব্র্যান্ডের নাম 'থাম্ব ড্রাইভ'। আইবিএম কর্তৃক বাজারজাতকৃত প্রথম ফ্ল্যাশ ড্রাইভের নাম ছিল 'ডিস্কঅনকি'। এটি একটি ইসরাইলি কোম্পানি এম-সিস্টেমস কর্তৃক উদ্ভাবিত। উত্তর আমেরিকায় ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ পাওয়া যায় ২০০০ সালের ১৫ ডিসেম্বর। প্রথম 'ডিস্কঅনকি'-এর ধারণক্ষমতা ছিল ৮ মেগা বাইট। ট্রেক টেকনোলজি এবং নেটাক টেকনোলজি উভয় কোম্পানি তাদের কৃতী স্বত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করে। যুক্তরাজ্যের একটি আদালত ট্রেক টেকনোলজির কৃতীস্বত্ব বাতিল করে।

ফিশন ইলেক্ট্রনিক্স করপোরেশন সর্বপ্রথম বিচ্ছিন্নকরণযোগ্য ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ তৈরি করে এবং 'পেন ড্রাইভ' নামে প্রচলন করে। আধুনিক ফ্ল্যাশ ড্রাইভে ইউএসবি ২.০ সংযোগ থাকে। ইউএসবি ২.০ সংযোগের সর্বোচ্চ ডেটা স্থানান্তর গতি ৬০ মেগাবাইট/সেকেন্ড। তবে অধিকাংশ ফ্ল্যাশ ড্রাইভের ডেটা পড়ার গতি ২০ মেগাবাইট/সেকেন্ড, এবং ডেটা লেখার গতি ১০ মেগাবাইট/ সেকেন্ড।

ডিভাইসের একপ্রান্ত একটি টাইপ-এ ইউএসবি সংযোজক দিয়ে লাগানো থাকে। পস্নাস্টিক কেসের ভেতরে একটি ছোট সার্কিট বোর্ড বা বর্তনী মঞ্চ থাকে। বর্তনী মঞ্চে বৈদু্যতিক যন্ত্রাদি এবং অল্পকিছু তল আরোহিত সমাকলিত বর্তনী (ইন্ট্রিগেটেড সার্কিট) বা আইসি থাকে। সাধারণত এর একটি আইসিতে ইউএসবি পোর্ট ব্যবহারের ইন্টারফেস বা মাধ্যম থাকে অন্য একটি আইসি মঞ্চস্থিত স্মৃতি চালনা করে এবং অন্য আইসিটি হলো ফ্ল্যাশ স্মৃতি।

ফ্লাশ ড্রাইভের অভ্যন্তরে ইউএসবি সংযোজক, ইউএসবি ব্যাপক ভান্ডার নিয়ন্ত্রক ডিভাইস, পরীক্ষাকারী পিন, ফ্ল্যাশ স্মৃতি, স্ফটিক স্পন্দক, এলইডি, লিখন-নিয়ন্ত্রণ চাবি রয়েছে।

ফ্ল্যাশ ড্রাইভের চারটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ আছে। এগুলো হলো-

টাইপ-এ ইএ এসবি সংযোজক- কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোজন মাধ্যম প্রদান করে।

ইউএসবি ব্যাপক ভান্ডার নিয়ন্ত্রক ইউএসবি পোশাক নিয়ন্ত্রক তৈরি করে। এই নিয়ন্ত্রকে একটি ছোট ক্ষুদ্র-নিয়ন্ত্রক (মাইক্রোকন্ট্রোলার) থাকে যাতে অল্প পরিমাণ আরওএম এবং

আরএএম থাকে। ফ্ল্যাশ স্মৃতি বা মেমোরি চিপ- তথ্য সংরক্ষণ করে।

স্ফটিক স্পন্দক- এটা ডিভাইসে ১২ মেগা হার্টজ স্পন্দন উৎপন্ন করে এবং একটি দশা-আটকানো ঘূর্ণনের মাধ্যমে তথ্য উৎপাদন ও প্রদান করে।

একটি ফ্ল্যাশ ড্রাইভে আরও কিছু অংশ থাকে।

পরীক্ষাকারী পিন- উৎপাদন বা ক্ষুদ্র-প্রক্রিয়াকারীতে (মাইক্রোপ্রসেসর) কোড বোঝাই করার সময় পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

এলইডি- তথ্য লেখা বা পড়ার সময় তা নির্দেশ করে।

লিখন-নিয়ন্ত্রণ চাবি- স্মৃতিভান্ডারে লেখার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

বেদখল জায়গা- আরেকটি স্মৃতিভান্ডার চিপের জন্য জায়গা।

ইউএসবি সংযোজক আবরণী বা টুপি- ক্ষতির ঝুঁকি কমায়, ধুলোবালি ও অন্যান্য দূষকের প্রবেশ থামায় এবং ডিভাইসের আকৃতির উন্নয়ন সাধন করে। কিছু ফ্ল্যাশ ড্রাইভে ভেতরে ঢুকানো যায় এরকম ইউএসবি সংযোজক ব্যবহার করা হয়। কিছু ডিভাইস এমন থাকে যে এর একটি অংশের ভেতরে আরেকটি অংশ ঘুরিয়ে ঢুকিয়ে রাখা যায়।

বহন সহায়িকা- কেসে বা টুপিতে একটি ছিদ্র থাকে যাতে একটি ফিতা বা শৃঙ্খল লাগানো যায়।

কিছু ড্রাইভে স্মৃতি কার্ডের সরু ছিদ্র থাকে যাতে এর ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো যায়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
X
Nagad

উপরে